বিয়ের পর অমিতাভকে এই বিশেষ নামে ডাকতেন জয়া! শ্বশুরের নির্দেশে বদল আনেন স্বভাবে
পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ তাঁদের দাম্পত্য। রেখা বিতর্ক বাদ দিয়ে অমিতাভ-জয়া বলিউডের অন্যতম সফল দম্পতি। জানেন বিয়ের পর বাঙালি বউ আদর করে কী নামে ডাকত অমিতাভকে?
হিন্দি সিনেমা জগতের অন্যতম আইকনিক ও ভালোবাসার জুটি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। পর্দা কিংবা বাস্তব জীবন— তাঁদের রসায়ন সব সময়ই অনুরাগী ও দর্শকদের মুগ্ধ করে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই দম্পতির উচ্চতার ফারাক নিয়ে বলিপাড়ায় কতই না খোশগল্প হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)-র মঞ্চে উঠে এল সেই উচ্চতা ও এক বিশেষ ডাকনামের মজার এক টুকরো ইতিহাস।

পরিচালক নিতেশ তিওয়ারির বহুপ্রতিক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’-এর প্রচারে কেবিসির বিশেষ পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও রবি দুবে। সেখানেই কথায় কথায় উঠে আসে অমিতাভ-জয়ার উচ্চতার ফারাক এবং জয়া বচ্চনের দেওয়া একটি ডাকনামের গল্প।
‘লম্বু জি’ থেকে সোজা নাম ধরে ডাকা:
অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে নিজের এবং স্ত্রী আলিয়া ভাটের উচ্চতার তুলনা টানেন রণবীর কাপুর। তিনি জানান, তিনি নাকি মনে মনে প্রায়ই অমিতাভ ও জয়ার ছবি কল্পনা করতেন— যেখানে বিগ বির মতো তিনি নিজে লম্বা এবং জয়া বচ্চনের মতো আলিয়া কিছুটা খাটো, যার ফলে ছবিতে এই দম্পতির ফ্রেম নাকি দারুণ দেখায়!
রণবীরের এই মজার কথায় অমিতাভ হেসে ফেলেন এবং জয়া বচ্চনের একটি পুরোনো অভ্যাসের কথা শেয়ার করে বলেন, টঅনেক বছর ধরে ও (জয়া) আমাকে ‘লম্বু জি’ বলে ডাকত। কিন্তু পরবর্তীতে বাবাকে (প্রখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চন) বিষয়টি সামলাতে হয়। বাবুজির এটা মোটেও পছন্দ ছিল না। তিনি জয়াকে ডেকে সোজা বারণ করে দেন— ‘দেখো, ওকে এভাবে ডেকো না। হয় ওর নাম ধরে ডাকবে, না হলে অন্য কিছু বলবে।’ তারপর থেকেই ও আমাকে নাম ধরে ডাকা শুরু করে।'
অমিতাভ ও জয়ার উচ্চতার বাস্তব সমীকরণ:
কথোপকথনের এক পর্যায়ে রণবীর কৌতূহলী হয়ে অমিতাভকে প্রশ্ন করেন, জয়া আন্টির চেয়ে তিনি ঠিক কতটা লম্বা? জবাবে অমিতাভ জানান, তাঁর নিজের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি, আর জয়া বচ্চনের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৩ বা ৪ ইঞ্চি।
তাঁদের এই প্রায় ১০ থেকে ১১ ইঞ্চির ফারাকের কথা শুনে রণবীর মজা করে বলেন, তবে তো তাঁর নিজের উচ্চতা প্রায় জয়া আন্টির কাছাকাছি!
অমিতাভ-জয়ার দীর্ঘ ৫ দশকের ভালোবাসার গল্প:
সত্তরের দশকের শুরুতে হৃষিকেষ মুখোপাধ্য়ায়ের ‘গুড্ডি’ ছবির সেটে প্রথম দেখা হয় অমিতাভ ও জয়ার। ১৯৭২ সালে ‘এক নজর’ ছবির শুটিংয়ের সময় একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা। এরপর ‘জঞ্জির’, ‘অভিমান’, ‘চুপকে চুপকে’ এবং কালজয়ী ‘শোলে’-র মতো একের পর এক সুপারহিট ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন।
‘জঞ্জির’ ছবি বক্স অফিসে তুমুল সফলতা পাওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা জুটি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এক ছাদের নিচে থাকা এই দম্পতির দুই সন্তান— শ্বেতা বচ্চন নন্দা ও অভিষেক বচ্চন, এবং তিন নাতি-নাতনি (নব্যা নভেলি নন্দা, অগস্ত্য নন্দা ও আরাধ্যা বচ্চন)।
নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ঘিরে উন্মাদনা:
কেবিসি-র মঞ্চে আসা ‘রামায়ণ’ ছবির কাস্টদের নিয়েও দর্শকদের মধ্যে তুঙ্গে কৌতূহল। ছবিতে প্রভু রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে অভিনয় করছেন। এছাড়া রাবণ চরিত্রে যশ এবং হনুমানের চরিত্রে দেখা যাবে সানি দেওল-কে।
দুটি পর্বে বিভক্ত এই মহাকাব্যিক প্রজেক্টের প্রথম পর্বটি আগামী ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে শুভ মুক্তি পাবে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


