Jeetu-Shirin: ‘আমার অনেক না পারা আছে…’, চিরদিনরই শেষ রাত, জীতুর স্মৃতি আগলে মনের কথা বলল শিরিন
১৪ মাসের সফর শেষ। শিরিনের জন্য় এই জার্নি অবশ্য় আরও খানিকটা শর্ট। চিরদিনই তুমি যে আমার সম্প্রচারের শেষদিনে কী বললেন অপর্ণা?
ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সফর অবশেষে শেষ হলো। শেষলগ্নে এসে ক্যামেরার পেছনের সমস্ত লড়াই, মান-অভিমান আর এক আকাশ আবেগ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এল। এই ধারাবাহিকের কাস্টিং নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। মুখ্য চরিত্রে দিতিপ্রিয়া রায় আচমকা সিরিয়াল ছেড়ে দেওয়ার পর বদলি হিসেবে অপর্ণা চরিত্রের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী শিরিন পাল।

নবাগতা শিরিন নিজ প্রচেষ্টায় অপর্ণা চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন। সিরিয়াল সম্প্রচারের শেষ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ ও অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট লিখে নিজের মনের সব জমানো কথা উগরে দিলেন তিনি। যেখানে ওঁর আফসোস থেকে শুরু করে কৃতজ্ঞতা— সবটাই এক লহমায় ছুঁয়ে গিয়েছে অনুরাগীদের মন।
আমার অনেক ‘না পারা’ আছে! শেষ রাতে অকপট শিরিন
ধারাবাহিকের শেষ এপিসোড টেলিকাস্ট হওয়ার পর শিরিন ওঁর পোস্টে নিজের জীবনের কিছু খামতির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার অনেক না পারা আছে। কোনোদিন ক্লাসে ফার্স্ট না হতে পারা, মায়ের মতো আম ডাল না বানাতে পারা, একটা ইরফান খানের সাথে ছবি না করতে পারা, পৃথিবীটাকে পাল্টে না ফেলতে পারা... তবে সবার বাড়ির মেয়ে হতে পেরেছি।’
দিতিপ্রিয়ার মতো এক হেভিওয়েট অভিনেত্রীর জায়গায় এসে দর্শকদের মন জয় করাটা যে ওঁর পক্ষে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল, তা এই লেখার ছত্রে ছত্রে স্পষ্ট। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে তিনি যে বাঙালির ড্রয়িং রুমে নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছেন, সেটাই ওঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দিন কয়েক আগে কো-স্টার জীতু কমলের সঙ্গে শিরিনের মনোমালিন্য়ের খবর সামনে এসেছিল। তবে দুজনে আগেই সেই চর্চা উড়িয়েছেন। শেষদিনের পোস্টে জীতুর সঙ্গে ফ্রেমবন্দি মুহূর্তই ভাগ করে নিলেন শিরিন। অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে ধন্যবাদ জানালেন জীতুকেও।
ঝাড়গ্রামের সেই বাচ্চা মেয়েগুলোর চোখ আর এক আকাশ স্বপ্ন!
নিজের শিকড় এবং মাটির কথা মনে করিয়ে দিয়ে শিরিন আরও লিখেছেন, ‘আমার স্পর্ধা নেই ধন্যবাদ বলার। আমার ফিরিয়ে দেবার মতোও কিছুই নেই। আমার কেবল আছে এক আকাশ স্বপ্ন। একটা গাছে মোড়া সবুজ ছোট্ট শহর ঝাড়গ্রামের সেইসব বাচ্চা মেয়ে গুলোর জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখ আছে।’
পোস্টের শেষে এসে ক্যামেরার পেছনের সেইসব আসল কারিগরদের আভূমি প্রণাম জানাতে ভোলেননি অভিনেত্রী, যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও ওঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওঁর কথায়, ‘তবু, তবুও..... যারা আশা জাগিয়ে গেছে নিরন্তর, যারা পিঠ চাপড়ে গেছে নিঃশব্দে, যারা রোল ক্যামেরা অ্যাকশনের মাঝে থেকে গেছে, তাদের আভূমি প্রণাম…’।
টেলিপাড়ার অন্দরের খবর, দিতিপ্রিয়ার বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন সিরিয়ালটি মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু শিরিন নিজের অভিনয় দিয়ে যেভাবে হাল ধরেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। মেগা শেষ হলেও ঝাড়গ্রামের এই মেয়ের এক আকাশ স্বপ্নের উড়ান যে সহজে থামছে না, তা ওঁর এই লড়াইয়ের জেদ দেখেই পরিষ্কার!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


