Akanksha Chamola: ‘আকাঙ্ক্ষা উভয়কামী’, নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি আকৃষ্ট! সেই কারণেই মা হতে চায় না, বিস্ফোরক দাবি
'সন্তানের জন্যই বিয়ে করেন ভারতীয়রা', মাতৃত্বের টান নেই, তাই মা না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এ কথা জানিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা চামোলা। স্বামী গৌরবের সঙ্গে ১০ বছরের বিয়ে ভাঙছে অভিনেত্রীর। এবার বোমা ফাটালেন শ্রেয়া।
কয়েকদিন আগেই স্বামী তথা অভিনেতা গৌরব খন্নার সাথে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলা (Akanksha Chamola)। ওটিটি রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’ (Lock Upp 2)-এর মঞ্চে তাঁর সেই ব্যক্তিগত জীবনের আপডেটের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শো-এর ভেতরে আকাঙ্ক্ষার যৌন অভিরুচি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শ্রেয়া কালরার।

শো-এর অন্য দুই প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা (Shreya Kalra) এবং সুফি মোতিওয়ালা (Sufi Motiwala)-র কথোপকথনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামনে এসেছে, যেখানে আকাঙ্ক্ষাকে ‘বাইসেক্সুয়াল’ (Bisexual- উভকামী) বলে দাবি করেছেন শ্রেয়া। এই চরম ব্যক্তিগত সিক্রেট ফাঁস হতেই নেটপাড়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
১. “আমি সিক্রেটটা ফাঁস করলে কি খারাপ হয়ে যাব?”— সুফিকে শ্রেয়া
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন আকাঙ্ক্ষা চামোলা প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরার বিরুদ্ধে শো-এর নিয়ম অনুযায়ী চার্জশিট ফাইল করেন। এরপরই ক্ষোভে সুফি মোতিওয়ালার কাছে আকাঙ্ক্ষার একটি গোপন সত্য ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়া।
সুফিকে উদ্দেশ্য করে শ্রেয়া বলেন, ‘যদি আমি এই সিক্রেটটা সবার সামনে নিয়ে আসি, তবে কি আমি একজন খারাপ মানুষ হয়ে যাব?’ জবাবে সুফি বলেন, ‘না না, এটা তো একটা গেম শো, এখানে এসব চলে।’ এর পরেই শ্রেয়া বোমা ফাটিয়ে সরাসরি বলেন— “ও (আকাঙ্ক্ষা) আসলে বাইসেক্সুয়াল।” ---
২. গোপন কথা ফাঁসের জেরে খোয়া গেল ২টি লাইফলাইন!
শ্রেয়ার মুখে এই কথা শুনে সুফি মোতিওয়ালা চরম আকাশ থেকে পড়েন এবং বেশ অবাক হয়ে যান। শ্রেয়া অবশ্য সুফিকে সতর্ক করে বলেন যে, এই পুরো বিষয়টি যেন আপাতত তাঁদের দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে গেমের নিয়ম অনুযায়ী, এই ব্যক্তিগত তথ্যটি শো-এর ভেতরে চলে আসায় আকাঙ্ক্ষার বড়সড় ক্ষতি হয়ে গেল। শ্রেয়া জানান, নিজের এই গোপন কথাটি বা ‘সিক্রিট’ শেয়ার করার চক্করে আকাঙ্ক্ষা অলরেডি শো-এর তিনটি লাইফলাইনের মধ্যে দুটি লাইফলাইন (Lifelines) হারিয়ে ফেলেছেন। এখন ওঁর খেলায় টিকে থাকার জন্য মাত্র একটিই লাইফলাইন অবশিষ্ট রয়েছে। এই বিষয়ে শো-এর মেকার্স বা স্বয়ং আকাঙ্ক্ষা এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
৩. গৌরব খন্নার সাথে ডিভোর্স নিয়ে আকাঙ্ক্ষার অবস্থান
বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই আকাঙ্ক্ষা চামোলা চর্চায় রয়েছেন ওঁর বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েনের জন্য। ‘এক্সপোজ টাস্ক’-এর সময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি এবং গৌরব খন্না ডিভোর্স নিচ্ছেন এবং গত এক বছর ধরে তাঁরা আলাদাও থাকছেন।
তবে সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে বলতে গিয়ে আকাঙ্ক্ষা সাফ জানান:
‘আমার আর গৌরবের মধ্যে কোনো রকম শত্রুতা বা খটাশ নেই। আমরা এখনও পরস্পরের সাথে কথা বলি। আসলে পার্টনার হিসেবে আমরা পারফেক্ট নই, কারণ আমাদের দুজনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলাদা। গৌরব ফ্যামিলি বাড়াতে চায়, বাচ্চা চায়; কিন্তু আমি চাইল্ড-ফ্রি (Child-free) জীবন কাটাতে চাই। এই প্যারেন্টিং নিয়ে মতাদর্শের অমিলের কারণেই আমরা আলাদা হচ্ছি, কোনো ঝগড়াঝাঁটি করে নয়।’
২০১৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন গৌরব ও আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু বিয়ের দীর্ঘ বছর পর এখন এক নতুন ঝড়ের মুখোমুখি অভিনেত্রী। একদিকে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং অন্যদিকে শো-এর ভেতরে ‘উভকামী’ তকমা— ‘লক আপ ২’-এর ট্রফি জেতার লড়াইয়ে আকাঙ্ক্ষা এই পরিস্থিতির সামাল কীভাবে দেন, সেটাই এখন দেখার।
নেটফ্লিক্সের শো লক আপে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তার স্বামী গৌরব খান্নাকে ডিভোর্স দিতে চলেছেন। প্রকাশের সময় তিনি বলেন, 'গৌরব আর আমি ডিভোর্স পেতে যাচ্ছি। আমরা গত এক বছর ধরে আলাদাভাবে বসবাস করছি এবং জনসমক্ষে একসাথে দেখা যায়নি। তবে দুজনের মধ্যে কোনো তিক্ত সম্পর্ক না থাকলেও পরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের মধ্যে কোনো তিক্ত সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, 'আমার এবং গৌরবের মধ্যে কোনও ভুল নেই। আমরা দুজনেই এখনও কথা বলি। আমি মনে করি না যে অংশীদার হিসাবে আমরা উভয়ই সঠিক কারণ আমরা উভয়ই আলাদা ভবিষ্যত দেখি এবং তিনি একসাথে এটি দেখেন না।
আকাঙ্ক্ষা এবং গৌরব বেশ কয়েক বছর ডেটিং করার পরে 2016 সালে কানপুরে বিয়ে করেছিলেন। দু'জনেরই কোনো সন্তান নেই। আকাঙ্ক্ষা বলেছিলেন যে দুজনের বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় কারণ হ'ল পিতৃত্ব সম্পর্কে উভয়েরই আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। গৌরব যেখানে সন্তান চায়, সেখানে আকাঙ্ক্ষা সন্তান ছাড়াই বাঁচতে চায়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


