Shruti Das: ‘স্বর্ণর প্রেমে পড়ে একা একা..’, বৃষ্টির দিনে শৈশব ও প্রেমের স্মৃতিতে ডুবে শ্রুতি
টেলিপাড়ার পরিচিত মুখ শ্রুতি দাস-এর কলমে উঠে এল একরাশ নস্টালজিয়া আর বৃষ্টির দিনের বিষণ্ণতা। ঝড়বৃষ্টির দিনে মেকআপ রুমের জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতেই যেন স্মৃতির ঝাঁপি খুলে গেল অভিনেত্রীর।
আকাশ কালো করে মেঘ জমলে বা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে অনেকেরই মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অভিনেত্রী শ্রুতি দাসের কাছে এই বৃষ্টি যেন এক ‘টাইম মেশিন’। যা তাঁকে মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায় কাটোয়ার সেই ন্যাড়া ছাদে কিংবা বাবার সাইকেলের পিছনে। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের মনের লুকোনো সব আবেগ উগরে দিলেন ‘রাঙা বউ’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।

স্মৃতির সরণিতে শৈশব:
শ্রুতির কলমে উঠে এল ছোটবেলার সেই দিনগুলো, যখন গালভরা হাসি নিয়ে মায়ের হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজতেন তিনি। মনে পড়ল নাচের স্কুল থেকে ফেরার পথে বাবার সাইকেলের পিছনে বসে প্যান্ট গুটিয়ে জলের ছিটে খাওয়ার আনন্দ। নার্সারির গাছ দেখতে দেখতে মায়ের সাথে বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ে বাড়ি ফেরার সেই স্মৃতি আজও শ্রুতির গলার কাছে দলা পাকিয়ে কান্না আনে।
স্বর্ণেন্দুর প্রেম ও স্টুডিওর সেই যত্ন:
স্মৃতিচারণায় উঠে এল তাঁর বর্তমান স্বামী, পরিচালক স্বর্ণেন্দু সামাদ্দারের সঙ্গে প্রেমের শুরুর দিনগুলো। তখন ‘ত্রিনয়নী’-র সেট। শ্রুতি লিখলেন, ‘মনে পড়ে স্বর্ণর (স্বর্ণেন্দু) প্রেমে পড়ে একা একা ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে ভিজে ভিজে নাচ করা, দূর থেকে তাকে একঝলক দেখা... চোখাচুখি হওয়ার পর তার ইশারা করে আমায় মেকাপ রুমে ঢুকতে বলা যাতে আমার ঠাণ্ডা না লেগে যায়।’ সেই যত্নের মুহূর্তগুলো আজও শ্রুতির কাছে অন্যতম সেরা ‘বৃষ্টিভেজা সময়’। তবে স্মৃতির গহীনে এমন কিছু বিষণ্ণতাও লুকিয়ে আছে, যা নিয়ে শ্রুতির আক্ষেপ— সেই বইয়ের পাতাগুলো তিনি ছিঁড়ে ফেলেছেন, তাই সেই গল্প আর কাউকে বলা হবে না।
বড় হওয়ার যন্ত্রণা ও বাবা-মায়ের চিন্তা:
আজ শ্রুতির জীবনে সাফল্য আছে, সংসার আছে। কিন্তু নেই সেই নিশ্চিন্ত শৈশব। বাবা-মায়ের বয়স বাড়ছে, বাবার শরীরটাও ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। মা একা হাতে সব সামলাচ্ছেন। শ্রুতির আক্ষেপ— ‘আচ্ছা, বড় হতে চাইতাম বরাবর কিন্তু তখন কেন বুঝিনি আর একটু রয়ে সয়ে বড় হতে হতো।’ মধ্যবিত্ত মানসিকতার শিকড় ছিঁড়ে বেরোতে না পারা এক মেয়ের হাহাকার ফুটে উঠল তাঁর লেখায়। তাঁর প্রশ্ন— আবেগপ্রবণ বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যৎ ঠিক কেমন হয়?
আলোর প্রার্থনা:
নিজের জীবনের ফেলে আসা কিছু ‘জমাট বাঁধা অন্ধকারের’ কথা বললেও, শ্রুতি সবার জন্য আলো ও প্রেমের প্রার্থনা করেছেন। পোস্টের শেষে তাঁর কাতর অনুরোধ, ‘সবার জীবনে আলো থাক, প্রেম থাক, কাজ থাক, সর্বোপরি বাবা মা থাক।’ বৃষ্টির জলে চোখের জল ধুয়ে যায় ঠিকই, তাও মনের কোণে জমে থাকা নস্টালজিয়াগুলো যেন শ্রুতির পোস্টে এক দীর্ঘশ্বাসের মতো ঝরে পড়ল।
ত্রিনয়নী সিরিয়াল দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন শ্রুতি। সেই সিরিয়ালের পরিচালক ছিলেন স্বর্ণেন্দু। নায়িকার তরফেই গিয়েছিল প্রথম প্রেমের প্রস্তাব। প্রেমর সফর পার করে এখন তাঁরা আইনত স্বামী-স্ত্রী। সামাজিক বিয়ের অপেক্ষায় অনুরাগীরা। বর্তমানে জোয়ার ভাঁটা ধারাবাহিকে নিশার চরিত্রে দেখা মিলছে তাঁর।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


