Shudhu Tomari Jonno: ‘পা টাই আর সঙ্গ দিচ্ছে না…’, শুধু তোমারই জন্য ছাড়লেন শুভ্রজিৎ, পাশে বউ প্রিয়াঙ্কা
Shudhu Tomari Jonno: ‘প্রোডাকশনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং আমার শারীরিক অবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে, এই মুহূর্তে ‘রাহুল’ চরিত্রটার পথচলা আমার সাথে” এখানেই থামল’, নিজের মুখেই সবটা জানিয়ে দিলেন শুভ্রজিৎ। কে হবেন নতুন রাহুল?
স্টুডিও পাড়ায় জল্পনা চলছিলই, এবার তাতে অফিশিয়াল সিলমোহর পড়ল। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শুধু তোমারি জন্য’ থেকে আচমকাই সরে দাঁড়ালেন গল্পের মূল নায়ক ‘রাহুল’ ওরফে অভিনেতা শুভ্রজিৎ সাহা।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পায়ে গুরুতর চোট নিয়েই হুইলচেয়ারে বসে শুটিং চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রোডাকশনের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শো ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন অভিনেতা।

অভিনেতার এই আবেগঘন বিদায়ী পোস্টের পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসার বার্তা দিয়েছেন তাঁর রিয়েল লাইফ স্ত্রী তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা মিত্র। অফস্ক্রিনে শুভ্রজিৎ-দীপান্বিতার মনোমালিন্যের খবরের মাঝেই অনস্ক্রিনে রাহুল-রাহির কেমিস্ট্রি জমে ওঠেছিল। এই রসায়নই গল্পের একমাত্র ইউএসপি। সেটাই আর থাকবে না পর্দায়!
‘পা আর সঙ্গ দিচ্ছে না’— শুভ্রজিতের যন্ত্রণার খতিয়ান
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ্রজিৎ তাঁর এই লড়াই এবং মেগা ছাড়ার আসল কারণ খোলসা করেছেন। তাঁর সেই পোস্টে উঠে এসেছে এক চরম পেশাদারিত্ব ও যন্ত্রণার গল্প। পায়ে ‘টর্ন লিগামেন্ট’ (Torn Ligament)-এর কথা জানার পরেও ধারাবাহিকের গল্পের স্বার্থে টানা দুই সপ্তাহ বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করে গেছেন শুভ্রজিৎ। ফলে পরবর্তীতে এমআরআই (MRI) রিপোর্টে পায়ের জটিলতা আরও বাড়ে এবং পা প্লাস্টার করতে হয়।
শুভ্রজিৎ জানান, সিরিয়ালের প্রথম প্রোমোর মাত্র ৩ দিন আগে তাঁর কপাল ফেটে গিয়েছিল এবং স্টিচ পড়েছিল। সেই স্টিচ নিয়েই ভালো শটের আশায় সমুদ্রে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ‘জেট স্কিইং’ করেছিলেন তিনি।
হুইলচেয়ারের যন্ত্রণা ও ১০ ঘণ্টার শর্ত: পায়ে প্লাস্টার পড়ার পর হুইলচেয়ারে বসে সকাল থেকে রাত শুটিং করতেন অভিনেতা। এর ফলে হাত ও কোমরে অসহ্য ব্যথা শুরু হওয়ায় তিনি প্রোডাকশনের কাছে দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু মেগার প্রধান নায়ককে ছাড়া তো আর গল্প টানা সম্ভব নয়। তাই গল্পের স্বার্থে এবং নিজের শরীরকে প্রাধান্য দিয়ে অবশেষে ‘রাহুল’ চরিত্র থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
স্বামীর পাশে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা, দিলেন ‘হরে কৃষ্ণ’ বার্তা
শুভ্রজিতের এই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা মিত্র। শুভ্রজিতের এই যন্ত্রণার সফরকে সম্মান জানিয়ে এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, ‘তুমি তোমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছ। যখন তোমার শরীর যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, তখনও তুমি প্রতিদিন শুটিংয়ে গেছ, ব্যথার সাথে লড়াই করে নিজের সেরাটা দিয়েছ। কিন্তু মাঝে মাঝে আমরা যতই শক্তিশালী হই না কেন, আমাদের শরীর, সময় এবং পরিস্থিতি আমাদের সাথে থাকে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনও রেস, ডেডলাইন বা কাজ নয়— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলে তুমি নিজে।’
শুভ্রজিৎকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফেরার তাগিদ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা আরও যোগ করেন, ‘সুস্থ হয়ে ওঠা মানে তোমার যাত্রাপথে কোনও বিরতি নয়, ওটা এই সফরেরই একটা অংশ। তাই এখন আমরা তোমাকে আবার নিজের পায়ে শক্ত করে দাঁড় করানোর দিকেই মন দেব। কাজ, ব্যস্ততা বা এই অন্তহীন দৌড়াদৌড়ি একটু অপেক্ষা করতেই পারে। শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় (Hare Krishna) তুমি আবার আগের মতোই প্যাশন কিন্তু আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কামব্যাক করবে।’
দর্শকদের কাছে শুভ্রজিতের অনুরোধ
চরিত্র থেকে বিদায় নিলেও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি শুভ্রজিৎ। তিনি লিখেছেন, ‘আবার দেখা হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনও রূপে, সুস্থ হয়ে।’ এর পাশাপাশি তিনি দর্শকদের কাছে অনুরোধ করেছেন, তিনি না থাকলেও যেন দর্শক ‘শুধু তোমারি জন্য’ ধারাবাহিকটি দেখা বন্ধ না করেন এবং যেভাবে ভালোবেসে এসেছেন, সেভাবেই যেন ধারাবাহিকটিকে ভালোবাসা দিয়ে যান। কে হবেন নতুন রাহুল? তা এখনই স্পষ্ট নয়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


