মাঝরাতে বাইপাস সংলগ্ন ধাবায় অরিজিৎ! ফোটো-ভিডিয়ো নিতে তাড়া, চটল গায়কের ভক্তরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মধ্যরাতে একটি হাইরোড সংলগ্ন ধাবা থেকে বের হচ্ছেন জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র। গায়ে একেবারে সাধারণ পোশাক। আর গায়ককে ক্যামেরাবন্দি করতে একপ্রকার তাড়া করে সেখানে উপস্থিত কিছু মানুষ।
বরাবরই আড়ম্বরহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত অরিজিৎ সিং। বর্তমানে তিনি শুধু দেশের নয়, বিশ্বেরও পয়লা সারির গায়কের তালিকায় রয়েছেন। তাঁর ভক্ত আট থেকে আশি। কিন্তু এই জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কোনোরকম নিরাপত্তা নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় না তাঁকে। এবার যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মধ্যরাতে একটি হাইরোড সংলগ্ন ধাবা থেকে বের হচ্ছেন জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র। গায়ে একেবারে সাধারণ পোশাক।

মধ্যরাতে ধাবা-য় অরিজিৎ
এদিকে সাধারণের স্থানে অরিজিৎ আসবেন, আর ছবি-ভিডিয়ো সামনে আসবে না তা কী হয়! দেখা গেল, ধাবা থেকে অরিজিৎ বেরতোই ফোন হাতে নিয়ে প্রস্তুত তাঁর ভক্তরা। সেলফির আবদার অগ্রাহ্যই করলেন। তবে বাঁচতে পারলেন না ফোনবন্দি হওয়া থেকে। একসময় তো রীতিমতো দৌড় লাগান গাড়ির দিকে। আর পিছনে ফোন হাতে দৌড় অনুরাগীদের।
কেন তাড়া করা হল ছবির জন্য? চটল গায়কের ভক্তরা
গায়কের এই ভাইরাল ভিডিয়োতে একজন মন্তব্য করলেন, ‘এত নরমাল পোশাকে একমাত্র অরিজিৎ সিং কেই দেখতে পাওয়া যায়’। যদিও এইভাবে ছবি-ভিডিয়োর জন্য অরিজিৎকে তাড়া করা মোটেও পছন্দ হয়নি একাধিকের। একজন লিখেছেন, ‘এই মানুষটাকে বাঁচতে দিন। যেখানেই দেখবেন ফোন নিয়ে চলে যাবেন না। মানুষটার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ফোন নিয়ে ভিডিয়ো করে কোন মহান কিছু করতে পারবেন না! লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে, মানুষটাকে বাঁচতে দিন। তাঁর নিজের বৈচিত্রে বাঁচতে দিন।’
আরেকজন লিখলেন, ‘অরিজিৎ কোনোদিনই আসলে তারকা হিসেবে বাঁচতে চায় না। বরং একজন সাধারণ মানুষের মতো থাকতে চায়।’ এখনো জিয়াগঞ্জে স্কুটিতে ঘুরে বেড়ান গায়ক। নিজে বাজার করেন। এলাকারই স্কুলে লেখাপড়া করে তাঁর দুই ছেলে। আর পাঁচজন বাবার মতো ছেলেদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়া-ও করেন। এমনকী, একবার শিলিগুড়ি কনসার্টে গিয়েছিলেন সাধারণের সঙ্গে ট্রেনে করে, তাও স্লিপারে চড়ে। এসি কামরাতেও নয়। আর এই কারণেই হয়তো, গোটা দেশের ভালোবাসার মানুষ তিনি। যাকে একবার দেখতে, একবার ছুঁতে পাগল হয় তাঁর অনুরাগীরা। যার কনসার্টের টিকিট কাটতে খরচ করে লাখ-লাখ টাকাও।
দেশব্যপী অরিজিতের কনসার্ট
প্রসঙ্গত, সংগীতজগতে ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২৭ সালে দেশজুড়ে কনসার্ট করবেন জনপ্রিয় এই গায়ক। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের ন’টি শহরে মঞ্চ মাতাবেন তিনি। আর এই সফর ঘিরেই সামনে এসেছে টিকিটের চমকে দেওয়ার মতো দাম। কোথাও টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ৯৯৯ টাকা থেকে, আবার কোথাও বিশেষ প্রিমিয়াম প্যাকেজের মূল্য পৌঁছেছে ১১.৮ লক্ষ টাকায়! তবে দুঃখের বিষয়, এই তালিকায় নেই শহর কলকাতা।
কবে কোথায় থাকবেন গায়ক?
২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে আহমেদাবাদ থেকে শুরু হবে অরিজিৎ সিংয়ের এই দেশব্যাপী সফর। আর শেষ হবে মে মাসে হায়দরাবাদে। তালিকা দেখে নিন এক ঝলকে-
আহমেদাবাদ: ৯ জানুয়ারি ২০২৭
চণ্ডীগড়: ২৩ জানুয়ারি ২০২৭
জয়পুর: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
মুম্বই: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
বেঙ্গালুরু: ১৩ মার্চ ২০২৭
নয়াদিল্লি: ২৭ মার্চ ২০২৭
পুণে: ১০ এপ্রিল ২০২৭
ইন্দোর: ১ মে ২০২৭
হায়দরাবাদ: ১৫ মে ২০২৭
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


