‘হিজড়ে কোথাকার…’, দর্শকের কটাক্ষ শুনে রেগে কাঁই পৌষালী! বললেন, ‘গাড়িতে তুলে আপাদমস্তক দিয়েছিলাম'
Poushali Banerjee: তিনি স্পষ্টবক্তা। অন্যায় দেখলে চুপ থাকেন না পৌষালী। তাই যে হাতে মাইক ধরেন, সেই হাত দিয়ে মানুষ পেটাতেও দু-বার ভাবেন না গায়িকা।
পরনে আটপৌরে শাড়ি, এক হাতে ঘুঙুর অন্য় হাতে মাইক্রোফোন- মঞ্চে পৌষালী বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে এই রূপে দেখতে সকলেই অভ্যস্ত। বাংলা লোকগানের জগতে পরিচিত নাম পৌষালী। সারেগামাপা বাংলার মঞ্চ থেকে ওঠে আসা শিল্পীদের অন্যতম পৌষালী। তাঁর গানে বাংলার মাটির সোঁধা গন্ধ লেগে থাকে। তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ সকলেই।

লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি মানুষের মনের অন্তরে পৌঁছে গিয়েছেন। পাশাপাশি পৌষালী স্পষ্টবক্তা, খানিক ঠোঁটকাটাও বলা চলে। তাই মাঝেমধ্য়েই বিতর্ক ধেয়ে আসে তাঁর দিকে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে মঞ্চের এক তিক্ত স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন পৌষালী। তিনি জানান, ‘একটা জায়গায় গান গাইতে গিয়েছি। আমি রাধাকৃষ্ণের গান দিয়েই শুরু করি (অনুষ্ঠান)। গান গাওয়ার পর থমথমে পরিবেশ। হঠাৎ একজন ভদ্রলোক চিৎকার করে বলে উঠল- হিজড়ে কোথাকার’।
এই কটাক্ষ মুখ বুজে সহ্য করেননি পৌষালী। তিনি নির্ডর, নির্ভীক। এইবারও তাই চুপ করে থাকেননি তিনি। গায়িকা বলেন, ‘আমি ওকে গাড়িতে তুলে যা আপাদমস্তক দিয়েছিলাম… ওহ জীবনে কাউকে ওই সম্বোধনে ডাকবে না। এমন জায়গায় মারব না… আমি কিন্তু মাথা নীচু করা মেয়ে নই। বা আমি ভয় পেয়ে যাব এমন নয় কিন্তু’।
নিজের মুখে তাঁর ‘রণং দেহী’ অবতারের কথা জানালেন পৌষালী। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দর্শককে মারধরও করেছেন তিনি, অকপটেই জানালেন।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সত্যিই কি রিয়েলিটি শো-তে সুবিধা পেতে গেলে সুপারিশ লাগে? এর জবাবে ‘সঙ্গে সঙ্গীতা’ পডকাস্টে গায়িকা বলেন, ‘মোট ৫টা রাউন্ডে অডিশন হয়েছিল। আমি কাওকে চিনি না। বাকিদের সব একে চেনা, ওকে চেনা। আমি যে প্ল্যাটফর্মটার কথা বলছি তাতে না লাগে ব্যাকিং, না কিছু। তার জন্য অমুক টাকা, অমুক স্যার, তমুক নেতা, কিচ্ছু লাগে না। আমার লাগেনি। আমি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। আর আমি এটা অহংকার করে বলি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জি বাংলার সারেগামাপা-তে অংশ নিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনের মেয়ে পৌষালি। এখান থেকেই তিনি তিনি শীর্ষ ১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন।
গায়িকার ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে আসানসোলের চিত্তরঞ্জনে। যদিও এরপর চলে যান কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে। মাত্র চার বছর বয়সে নিজের থেকেই গানে হাতেখড়ি। তাঁর মা-ই ছিলেন তাঁর জীবনের প্রথম সঙ্গীত গুরু। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসংগীতে এমএ পাশ করেন। লোকসংগীত দিতে বর্তমানে পৌষালী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক জমজমাট স্টেজ শো বা লাইভ পারফরম্যান্স করে চলেছেন।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, পৌষালী মূলত রবীন্দ্রসঙ্গীতের ধারাতেই শিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু সারেগামাপা-য় এসে লোকসঙ্গীতের প্রাণপুরুষ এবং 'দোহার' ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপ হয়। আর কালিকাপ্রসাদই তাঁর সুপ্ত প্রতিভাকে চিনে তাঁকে রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে লোকগানের আঙিনায় নিয়ে আসেন। শুরু করেন বাউল ও বাংলার লোকসংগীত নিয়ে চর্চা। শুধু গান নয়, পোশাক দিয়েও নিজের এক আলাদা ছাপ ফেলেছেন পৌষালী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


