ঘুমোতেই হবে রাত ৮টায়! মা শর্মিলার শেখানো পথেই মেয়ে ইনায়াকে মানুষ করছেন সোহা

মেয়েকে রাত ৮টার মধ্যে ঘুম পাড়ানো থেকে শুরু করে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা—ইনায়া নাওমি খেমুকে বড় করার ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। ‘টুইক ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের পেরেন্টিং স্টাইল এবং মা শর্মিলা ঠাকুরের কাছ থেকে শেখা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সোহা।

Published on: Aug 13, 2026, 13:41:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সন্তান লালন-পালন কখনোই সহজ কাজ নয়। তারকা হোক বা সাধারণ মানুষ—সন্তানকে বড় করতে গিয়ে প্রতিটি বাবা-মাকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে অভিনেত্রী সোহা আলি খান সন্তান পালনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন, যার সঙ্গে কোনও আপস করতে তিনি রাজি নন। ‘টুইক ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের পেরেন্টিং স্টাইল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সোহা। জানিয়েছেন, মেয়ে ইনায়া নাওমি খেমুর জন্য তাঁর সবচেয়ে কঠোর নিয়মগুলির একটি হল— রাত ৮টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে।

মায়ের শেখানো পথেই ইনায়াকে মানুষ করছেন সোহা।
মায়ের শেখানো পথেই ইনায়াকে মানুষ করছেন সোহা।

রাত ৮টার মধ্যে ঘুম, নিয়মে কোনও আপস নয়

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মেয়ে ইনায়ার জন্মের পর থেকেই সন্তান পালনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন সোহা। অভিনেত্রীর কথায়, বর্তমানে প্রায় সব বিষয়েই কিছুটা সমঝোতা করা সম্ভব হলেও ঘুমের সময় নিয়ে তিনি একেবারেই অনড়।

সোহা জানান, তিনি নিয়ম তৈরি করার চেষ্টা করেন এবং সেগুলি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনে লড়াইও করেন। তবে একটি বিষয়ে তিনি কোনওভাবেই ছাড় দেন না—ইনায়াকে রাত ৮টার মধ্যে বিছানায় যেতেই হবে। প্রথম দিকে, তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা এই নিয়ম নিয়ে একমত না হলেও শেষ পর্যন্ত সকলেই তা মেনে নিয়েছেন। এমনকী তাঁকে মজা করে বলা হয়েছে, রাত ৮টা বাজলেই তিনি নাকি আরও কঠোর হয়ে ওঠেন!

শুধু মেয়ের জন্যই নয়, নিজের ক্ষেত্রেও ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করেন সোহা। তাঁর লক্ষ্য রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া। যদিও প্রতিদিন তা সম্ভব হয় না, তবুও রুটিনটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

শর্মিলা ঠাকুরের কাছ থেকে কী শিখেছেন সোহা?

সন্তান পালনের ক্ষেত্রে নিজের মা, অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন সোহা। তিন সন্তানের মা হয়েও কীভাবে নিজের সফল অভিনয়জীবন সামলেছিলেন শর্মিলা, সেই অভিজ্ঞতা সোহার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলির মধ্যে একটি হল—সন্তানের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা। সোহার মতে, একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি শুধু শিশুর জন্যই উপকারী নয়, মায়ের জন্যও স্বস্তিদায়ক। এতে সন্তান কখন কী করছে, তার একটা পরিষ্কার ধারণা থাকে।

আর মজার বিষয় হল, ইনায়াকে রাত ৮টার মধ্যে ঘুম পাড়ানোর যে নিয়ম সোহা এতটা কঠোরভাবে মেনে চলেন, তাঁর মা শর্মিলাও সন্তানদের ক্ষেত্রে একই বিষয়ে যথেষ্ট কড়া ছিলেন।

বই পড়ার অভ্যাসেও বিশেষ নজর

সন্তান পালনের ক্ষেত্রে সোহার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল মেয়ের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা। ইনায়াকে নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহ দেন তিনি। এমনকী বই না পড়লে টিভি দেখতে দেওয়া হবে না— এমন নিয়মও মাঝে মাঝে করেন।

সোহার মতে, সব শিশু স্বাভাবিকভাবে বই পড়তে ভালোবাসে না। তাই কখনও কখনও তাদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার বা বিশেষ কোনও প্রলোভনের সাহায্য নিতে হয়। তবে এই কৌশল সবসময় কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সন্তানকে অভ্যাস তৈরি করানোর ক্ষেত্রে বাবা-মাকেও নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন সোহা। সন্তানকে যে নিয়ম মেনে চলতে বলা হচ্ছে, বাবা-মাকেও নিজেদের জীবনে সেই নিয়মের প্রতিফলন ঘটাতে হবে—এটাই তাঁর পেরেন্টিং দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More