Sona-Arijit: ‘ছ্যাঁকা কি শুধু পুরুষই খায়?’, অরিজিৎ-কে টেনে বলিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির পুরুষতান্ত্রিকতাকে বিঁধলেন সোনা

বলিউডে বিগত দুই দশক ধরে ৯০% বড় রোম্যান্টিক এবং বিরহের গান পুরুষ গায়কদের দিয়ে গাওয়ানো হচ্ছে, যা লিঙ্গবৈষম্যের প্রতীক, দাবি সোনা মহাপাত্রের।

Published on: Jun 23, 2026, 11:00:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

লিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে লিঙ্গবৈষম্য, নারীদের পণ্য হিসেবে প্রদর্শন করা এবং নারী কণ্ঠকে কোণঠাসা করার বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার গায়িকা সোনা মহাপাত্র (Sona Mohapatra)। এবার বলিউডের ‘ব্রেক-আপ’ বা বিরহের গান নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। সোনার মতে, বলিউডের সমস্ত জনপ্রিয় বিরহের গান যেন কেবল ‘পুরুষদের জন্যই সংরক্ষিত’ থাকে, সেখানে নারী কণ্ঠের জন্য কোনও জায়গাই রাখা হয় না।

‘অরিজিৎ-এর দোষ নেই…’, বলিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির পুরুষতান্ত্রিকতাকে বিঁধলেন সোনা
‘অরিজিৎ-এর দোষ নেই…’, বলিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির পুরুষতান্ত্রিকতাকে বিঁধলেন সোনা

কেরালার একটি সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে বলিউডের এই ‘রিস্ক-অ্যাভার্স’ (ঝুঁকি এড়াতে চাওয়া) মিউজিক সিস্টেমকে ধুয়ে দিলেন গায়িকা।

১. “পুরুষরাই কি কেবল ভালোবাসা অনুভব করে?”— সোনা

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিও ক্লিপে সোনা মহাপাত্রকে বলিউডের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: ‘বলিউডের সমস্ত ব্রেক-আপ বা মন ভাঙার গান ছেলেদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। (গানগুলো শুনলে মনে হয়) যেন কেবল পুরুষদেরই মন ভাঙে, কিংবা বর্তমান সময়ে শুধু ছেলেরাই ভালোবাসা অনুভব করতে পারে! কারণ যখনই আমাকে কোনও ডুয়েট (যুগলবন্দি) গান গাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে, দেখা গেছে আমাকে দেওয়া হয়েছে কেবল গানের শেষের কোরাসটুকু।’

‘জালিমা’ গানের উদাহরণ এবং প্রীতমকে করা সেই কঠিন প্রশ্ন

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ২০১৭ সালের শাহরুখ খান ও মাহিরা খান অভিনীত ‘রইস’ ছবির সুপারহিট গান ‘জালিমা’ (Zaalima)-র প্রসঙ্গ টানেন সোনা— যদিও তথ্যগতভাবে এই গানটি গেয়েছিলেন অরিজিৎ সিং ও হর্ষদীপ কৌর। সোনা জানান, এই ধরণের গানের কাঠামো দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘গানের মুখড়া, অন্তরা, আবার মুখড়া, অন্তরা— সবকিছুই পুরুষ গায়ক গেয়ে যান। এতে অরিজিতের কোনও দোষ নেই, ও দারুণ শিল্পী। কিন্তু নারী কণ্ঠটি কেন একদম শেষে আসবে? আমি সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমকে প্রশ্ন করেছিলাম— ‘তাড়াতাড়ি বলো, এই লোকটা কি নিজের সাথেই প্রেম করছে? এটা কেমন ধরণের ডুয়েট গান? আমি কেন একদম শেষে আসব?’ জানিয়ে রাখি, রইস অ্যালবমে সোনা মহাপাত্রের গলায় জালিমা গানটি রয়েছে, তবে তা ছবির অংশ হতে পারেনি। পাশাপাশি অরিজিৎ ইতিমধ্য়েই মেনস্ট্রিম বলিউড মিউজিককে বিদায় জানিয়েছেন। স্পষ্ট বলেছেন, আর প্লে-ব্যাক করবেন না তিনি।

‘আইকনিক নারী তারকা তৈরি না হওয়ার পেছনে দায়ী এই সিস্টেম’

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক নিয়ে আলোচনা টেনে সোনা কমেন্ট সেকশনে লেখেন যে, এটি আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের সঠিক প্রতিনিধিত্বের লড়াই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইন্ডাস্ট্রি নারীদের কেন্দ্র করে আইকনিক গল্প বা গান তৈরি করা বন্ধ করে দেয়, তবে আগামীদিনে ভারত কোনও আইকনিক নারী সঙ্গীত তারকাও পাবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিষয়টা এমন নয় যে মহিলারা কখনও বিরহের গান গাননি। মূল সমস্যা হলো, বলিউড মেয়েদের জন্য এই ধরণের গান লেখাই বন্ধ করে দিয়েছে। যে ইন্ডাস্ট্রি বিগত দুই দশক ধরে তাদের ৮০-৯০% বড় রোম্যান্টিক এবং ব্রেক-আপের গান পুরুষ কণ্ঠকে উপহার দিয়ে আসছে, তারা যেন আজ সমমানের মহিলা তারকা না পেয়ে অবাক না হয়। এটা সিস্টেমের সমস্যা, এখানে কেউ ভিক্টিম নয়। আগে গানগুলো গুনুন, তারপর আমার সাথে কথা বলতে আসবেন।’

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More