Sonu Nigam: কন্নড় গান গাওয়ার আর্জিকে ‘পহেমগাম জঙ্গি হামলার’র সাথে তুলনা, বিতর্ক-বয়কটের মাঝে ক্ষমা চাইলেন সোনু নিগম
‘পহেলগামে যা ঘটেছে, সেটার পেছনেও এই মনোভাবই দায়ী’, এক বছর পুরোনো এই মন্তব্যের জেরে বিতর্কে সোনু। চলতি মাসে বেঙ্গালুরু কনসার্ট ঘিরে জটিলতা, অবশেষে ‘টনক’ নড়ল গায়কের। চাইলেন ক্ষমা।
বেঙ্গালুরুতে আগামী ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘দ্য রেভোলিউশন ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর কনসার্টের ঠিক মুখেই আইনি ও রাজনৈতিক বিপাকে পড়েছিলেন প্রখ্যাত গায়ক সোনু নিগম। গত বছর বেঙ্গালুরুর একটি অনুষ্ঠানে কন্নড় ভাষায় গান গাওয়ার শ্রোতাদের দাবিকে ‘পহেলগাম জঙ্গি হামলা’র মনস্তত্ত্বের সাথে তুলনা করে প্রবল বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এই মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রো-কন্নড় সংগঠন ‘কর্ণাটক রক্ষণা বেদিকা’ (KRV)-এর প্রধান টি এ নারায়ণ গৌড়া পুলিশকে এই কনসার্ট বন্ধের আরজি জানালে, বিতর্ক এড়াতে সরাসরি কর্ণাটকবাসীর কাছে ভিডিয়ো বার্তা পাঠিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন সংগীতশিল্পী।

সোনু নিগমের আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা:
KRV প্রধান টি এ নারায়ণ গৌড়ার সাথে দীর্ঘ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ফোনালাপের পর সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন সোনু নিগম। ভিডিয়োয় অত্যন্ত বিনম্র সুরে গায়ক বলেন—'আমার প্রিয় কর্ণাটক পরিবার, ‘থান্না কন্নডিগারু’। সেই সন্ধ্যায় দর্শকাসনে কী ঘটেছিল, তা আমার ঈশ্বর এবং উপস্থিত শ্রোতারা ভালো করেই জানেন। তবে যাঁদের আপনি ভালোবাসেন, সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে এক হাজার বার ক্ষমা চাইতেও কোনো দ্বিধা থাকে না। অসাবধানতাবশত আমার কোনো কথায় যদি আপনাদের আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি সত্যি ক্ষমাপ্রার্থী। গত ৩০ বছর ধরে কন্নড়বাসী আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য সেই সুন্দর সম্পর্কে কোনো তিক্ততা আসুক, তা আমি চাই না।'
আন্দোলন তুলে নিল কন্নড় সংগঠন (KRV):
সোনু নিগমের এই আন্তরিক বার্তার পর আন্দোলন ও কনসার্ট বাতিলের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে কন্নড় সংগঠনটি। KRV প্রধান টি এ নারায়ণ গৌড়া এক্স (X)-এ ভিডিয়োটি শেয়ার করে লেখেন— ক্ষমা কন্নড় সংস্কৃতির অঙ্গ: গৌড়া জানান, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়াই কন্নড় সংস্কৃতির উদারতা। পি বি শ্রীনিবাস, কে জে যেসুদাস, কে এস চিত্রা বা এস জানকীর মতো ভিনরাজ্যের কিংবদন্তি শিল্পীদের মতোই সোনু নিগমকে কন্নড় সংগীত জগতের অন্যতম অংশ হিসেবেই মনে করে কন্নড় সমাজ।
প্রতিবাদের ইতি: তিনি ঘোষণা করেন, সোনু নিগমের প্রতিবাদের সব কর্মসূচি এখানেই শেষ করা হলো এবং আশা প্রকাশ করেন যে, গায়ক ভবিষ্যতে আরও বেশি করে কন্নড় ভাষায় গান গাইবেন।
ঠিক কী ঘটেছিল এপ্রিল ২০২৫-এর সেই বিতর্কিত অনুষ্ঠানে?
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গালুরুর ইস্ট পয়েন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে একটি কনসার্ট চলাকালীন এক শ্রোতা বারবার সোনুকে কন্নড় গান গাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ওই শ্রোতার আচরণে বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারিয়ে সোনু নিগম বলে বসেন— ‘যহি কারণ হে, পহেলগাম মে জো হুয়া হে না? যহি কারণ হে জো কর রহো, জো কিয়া থা না অভি?’ ('পহেলগামে যা ঘটেছে, সেটার পেছনেও এই মনোভাবই দায়ী। তোমরা এখন যা করছ, ঠিক এই কারণেই ওসব ঘটে!')
কন্নড় ভাষা ও জাতীয় নিরাপত্তার মর্মান্তিক একটি ঘটনাকে এক বন্ধনীতে ফেলার অভিযোগে গায়কের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর আভালাহাল্লি থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয় এবং একটি কন্নড় ছবির গান থেকেও বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। পরবর্তীতে কর্ণাটক হাইকোর্ট থেকে এই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি পেলেও, আসন্ন কনসার্ট ঘিরে ফের বিতর্ক মাথাচাড়া দেওয়ায় অবশেষে ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধান টানলেন শিল্পী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


