Sonu Nigam: ঘোরতর অসুস্থ, আর বাঁচবে না মা! হাউহাউ করে কাঁদতেন সোনু, করেছিলেন এই গানের রেকর্ড
সোনু নিগম তাঁর কেরিয়ারে অনেক রোমান্টিক এবং অনেক দুঃখজনক গান গেয়েছেন। এখন আসুন আমরা আপনাকে তাঁর গানের সাথে সম্পর্কিত একটি উপাখ্যান বলি যা আপনাকেও আবেগপ্রবণ করে তুলবে।
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোনু নিগমের গান আমরা বহুবার শুনেছি— কখনো রোম্যান্টিক, কখনও স্যাড, আবার কখনও ভিন্ন মেজাজের। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই গানগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের গভীর যন্ত্রণা। এমনই এক আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা নিজেই শেয়ার করেছিলেন তিনি, যা জানলে আপনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়বেন। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত গান ‘আভি মুঝ মে কাভি’ গাওয়ার সময়কার স্মৃতি আজও তাঁকে নাড়া দেয়।

অসুস্থতায় কষ্ট পাচ্ছিলেন মা, গান গাওয়ার পর কাঁদতেন সোনু
রণবীর এলাহাবাদিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোনু সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তখন তাঁর মা মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
সোনু কান্নাভেজা স্বরে বলেন, ‘মা তখন খুব কষ্টে ছিলেন। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম, হানুমান চল্লিশা মুখস্থ করা, বড়দের সম্মান করা। তিনি অসাধারণ মানুষ ছিলেন। যখন আমি ‘অভি মুঝ মে কাহি’ গানটি গাই, তখন তিনি খুব অসুস্থ ছিলেন, যদিও সামান্য আশা ছিল। গানটির লাইন—'অভি মুঝ মেঁ কাহিঁ বাকি'—আমার নিজের জীবনের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছিল। গান গাওয়ার সময় আমি খুবই আবেগপ্রবণ ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন এই গানটির জন্য আমি পুরস্কার পেতাম, আমি তা মাকে দিতাম। তিনি আশীর্বাদ করতেন। আমরা দু’জনেই কাঁদতাম, কারণ জানতাম তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন।’
কনসার্টের পর ভেঙে পড়তেন গায়ক
গায়ক জানান, সেই সময় তাঁর মানসিক অবস্থা খুবই কঠিন ছিল। ‘আমি খুব কাঁদতাম। কনসার্টে যাওয়ার আগে অনেক কাঁদতাম। তবে মঞ্চে উঠলেই সব ভুলে যেতাম। আমার কাজেই আমি ঈশ্বরকে খুঁজে পাই। কিন্তু স্টেজ থেকে নামার পর আবার মায়ের কথা মনে পড়ত। বাড়িতেও তখন অনেক সমস্যা চলছিল, প্রচণ্ড মানসিক চাপ ছিল’, বলেন সোনু।
এখন গানে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে দেন
বর্তমানে সেই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে নিজের কাজের ধরন বদলেছেন সোনু। তিনি বলেন, ‘মা যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমি নানা টেকনিক ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন আমি বুঝেছি, কাজের মধ্যে পুরোপুরি ডুবে যাওয়াই আসল। এখন যখন গান গাই, তখন তাতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মিশিয়ে দিই। ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিই—তিনি সম্মান দেবেন না অপমান, সেটাও তিনিই ঠিক করবেন।’
সোনু নিগমের কেরিয়ারের শুরু
মাত্র ৪ বছর বয়সে গানের জগতে পা রাখেন সোনু নিগম। তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে মঞ্চে মহম্মদ রফি-র গান গাইতেন। ১৯৯০ সালে তিনি মুম্বইয়ে পাড়ি দেন, নিজের কেরিয়ার গড়ার জন্য। তাঁর প্রথম রেকর্ড করা গান ছিল ‘ও আসমান ওয়ালে’, যা ১৯৯৩ সালের ছবি আজা মেরি জান-এ ব্যবহৃত হয়। যদিও ১৯৯০ সালে ‘জনম’ ছবির জন্যও তিনি গান রেকর্ড করেছিলেন, কিন্তু সেটি মুক্তি পায়নি। এছাড়াও, ১৯৯২ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘তলাশ’-এর গান ‘হম তো ছৈলা বন গয়ে’ তাঁর শুরুর দিকের কাজের মধ্যে অন্যতম।
যেসব গান সোনুকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়
বলিউডে তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে ‘অচ্ছা সিলা দিয়া তুনে মেরে প্যায়ার কা’ গানটির মাধ্যমে, যা ১৯৯৫ সালের অ্যালবাম বেবফা সনমের অংশ। এই গান তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর ১৯৯৭ সালের ছবি বর্ডার-এর ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ গানটি তাঁকে সুপারস্টার গায়কের মর্যাদা দেয়।
অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত সোনু নিগম
সঙ্গীত জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য সোনু নিগম বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার সাউথ, ৪টি আইফা অ্যাওয়ার্ড, একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী লাভ করেছেন। তাঁর জীবনের এই সংগ্রাম এবং আবেগই যেন তাঁর কণ্ঠকে আরও গভীর, আরও হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছে—যা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


