Sourav-Dona: ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আর সাপোর্ট…’, ৩০ বছর আগের বিশেষ দিন, গার্লফ্রেন্ড ডোনা রায়ের ছবি দিলেন সৌরভ!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেস্ট অভিষেকের ৩০ বছর পূর্তিতে একটি বিশেষ ছবি সামনে এল। প্রেমিকা ডোনা রায়ের ছবি দিলেন ‘দাদা’।
বাঙালি তথা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের নাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯৯৬ সালের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর সেই রাজকীয় টেস্ট অভিষেক এবং শতরানের ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। দেখতে দেখতে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৩০ বছর পার হয়ে গেল। আর এই বিশেষ মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত বিরল এবং আবেগঘন ছবি শেয়ার করে অনুরাগীদের নস্টালজিক করে তুললেন স্বয়ং ‘দাদা’।

ফ্রেমে বন্দি করা সেই পুরনো ছবিতে ধরা পড়েছেন সৌরভের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস— তাঁর স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভের সেই কীর্তি দু-চোখ ভরে টিভির পর্দায় দেখছেন ডোনা। যদিও তখনও তাঁরা স্বামী-স্ত্রী নন, প্রেমিক-প্রেমিকা।
১৯৯৬ সালের ২১ জুন: লর্ডসের ডায়েরি ও ডোনা
সৌরভের শেয়ার করা ছবিটি ১৯৯৬ সালের ২১ জুনের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ঘরের ড্রয়িংরুমে একটি পুরনো বক্স টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক তরুণী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। আর টিভির পর্দায় ভেসে উঠছে লর্ডসের মাঠে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়া তরুণ সৌরভের সেই চিরপরিচিত বিশ্বজয়ের হাসি ও দুই হাত তুলে দর্শকদের অভিবাদন জানানোর দৃশ্য।
টিভি স্ক্রিনের ওপর ‘লাইভ লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ২১ জুন ১৯৯৬’ লেখা টাইমস্ট্যাম্পটি যেন মুহূর্তের মধ্যে দর্শকদের তিন দশক আগের সেই সোনালী দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
‘যিনি আমার অবিরাম শক্তির উৎস’— ডোনার প্রতি সৌরভের বার্তা
ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডোনার পাশে থাকার অবদানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। আবেগপ্রবণ হয়ে ‘প্রিন্স অফ কলকাতা’ লেখেন, ‘৩০ বছর আগে, এই বিশেষ দিনে, একজন তরুণ ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার প্রথম পদক্ষেপ রেখেছিল। আর টেলিভিশনের পর্দায় সেই পুরো মুহূর্তটি যিনি অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলেন, তিনি হলেন সেই মানুষটি যিনি আমার জীবনের অবিরাম শক্তি এবং সমর্থনের স্তম্ভ হয়ে থেকেছেন!’
নেটপাড়ায় নস্টালজিয়ার ঢল
সৌরভের এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ডোনা ও সৌরভের এই মিষ্টি রসায়ন দেখে অনুগামীরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, ‘দাদা, এই ছবিটা শুধু একটা ছবি নয়, এটা একটা গোটা ইমোশন।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘লর্ডসের সেই সেঞ্চুরির কথা আজও মনে হলে গায়ে কাঁটা দেয়, আর পর্দার আড়ালে বৌদির এই হাসিমুখের অবদান সত্যিই অনবদ্য।’
সৌরভ-ডোনার সম্পর্ক
পাশের বাড়ির মেয়ে ডোনার প্রেমে পড়েছিলেন সৌরভ। তাঁদের গোপন প্রেমের গল্প কারুর অজানা নয়। সুন্দরী, নৃত্যশিল্পী ডোনাকে পটাতে কম মেহনত করেননি সৌরভ। নিজের অভিষেক সফরে সাফল্য সৌরভকে অনুপ্রাণিত করেছিল, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বাবা-মা'র অমতে গিয়ে ডোনাকে বিয়ে করার। ১৯৯৬ সালের ১২ই আগস্ট সৌরভ ও ডোনা পালিয়ে গিয়ে গোপনে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেছিলেন। যদিও দাদা শ্রীলঙ্কা সফরে থাকাকালীন সেই খবর ফাঁস হয়ে যায় মিডিয়ায়। পরবর্তীতে দুই পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয় এবং ১৯৯৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাঁদের প্রথাগত সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর কেটে গিয়েছে তিন দশক। সৌরভ-ডোনার একমাত্র মেয়ে সানা গঙ্গোপাধ্যায়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


