Sreelekha Mitra: মোদীর কুরুচিকর পোস্টার হাতে বিতর্কে শ্রীলেখা! ‘বাঁদরামির দিন শেষ’, হল FIR, গ্রেফতার হবেন অভিনেত্রী?
‘আমাকে অ্যারেস্ট করার ইচ্ছে হলে করবেন, ফাঁসিতে চড়ানোর ইচ্ছে হলে চড়াবেন, আবার একটা আন্দোলন হবে… আমি তৈরি’, পোস্টার বিতর্কে সাফ বার্তা শ্রীলেখার।
টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)-কে ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও কুরুচিকর পোস্টার প্রকাশ্যে তুলে ধরার অভিযোগে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে সরাসরি কলকাতার আনন্দপুর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন বিজেপি মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে ধর্মতলায় যে জমায়েত হয়েছিল, সেই মিছিলে হেঁটেছিলেন শ্রীলেখা। সেখানেই ওই ‘কুরুচিকর’ পোস্টার হাতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে।

শুধু লিখিত অভিযোগই নয়, পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ ও মর্যাদাকে অবমাননা করার অভিযোগে অভিনেত্রীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের জোরালো দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন কেয়া ঘোষ স্পষ্ট জানান, ‘বিজেপি নেত্রী হিসাবে নয়, একজন পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসাবে ভারতবাসী হিসাবে আমি এই অভিযোগ জানিয়েছি’। তিনি বলেন, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি, শ্রীলেখা মিত্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে’।
ঠিক কী ঘটেছিল
শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে একটি ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অভিযোগ উঠেছে, সেই বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রীলেখা নিজ হাতে একটি পোস্টার প্রদর্শন করেন। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এমন কুরুচিকর পোস্টার তুলে ধরা হয়েছে এবং তা প্রকাশ্যে গর্বের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’
রাজ্যজুড়ে আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারের দাবি
আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিষয়টিকে তাঁরা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। শুধু আনন্দপুর থানাতেই নয়, শ্রীলেখার এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও 'রাষ্ট্রবাদী' ও সাধারণ মানুষ একইভাবে আইনি অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানানো হয়েছে।
শ্রীলেখার সাফাই
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একটা পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি সেটা ভাইরাল করা হয়েছে। ছবিটা দেখলেই বুঝবেন, আমি বিজেপি বিরোধী যতই হই, অন্ধভক্ত বিরোধী যতই হই, বা মোদী বিরোধী হই। কেউ আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে সেটা হাস্যকর ব্যাপার। একইরকম হাস্যকর, আমি ইচ্ছে করে ওই ছবিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছি। পেটে তো একটু শিক্ষাদীক্ষা আছে। ওতো লাখ লাখ হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘামের গন্ধ, ওই মাঠে দাঁড়িয়ে বিপ্লব যেটা… যখন লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। আর পাঁচটা যুব-ছাত্রদের সাথে আমিও দৌড়েছি। আমি আগে অনেক মিটিং-মিছিলে গেছি তবে এমনটা হয়নি’।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমারও একটা মেয়ে আছে বড় হচ্ছে।...চশমা ছাড়া গিয়েছিলাম সানগ্লাস হাতে। ওইটুকু পোস্টারে মোদীজির বিলো দ্য বেল্টের দিকে আমার চোখটা যায়নি। মহিলারা পুরুষমানুষকে দেখলে ৯৫% নিম্নাঙ্গে দেখি না।… আমি পোস্টারটা ঘুরিয়ে দেখিওনি। সময়ও ছিল না, পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছে। তারপরে শুনছি আমার নামে অনেক কিছু হচ্ছে, আমাকে ইমিটিয়েড গ্রেফতারির দাবি উঠছে… এমন শাস্তি দেবেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে তিন পুরুষ মনে রাখবে। এক কাজ কারুন, আপনার যে আপ্ত সহায়কদের পরপর মৃত্যু হয়েছে, আপনি আগে তাদের (সেই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী) কড়া শাস্তি দিন’।
রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা
ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই পোস্টার বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ায় তুমুল চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র অবশ্য বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকায় থাকেন। তবে এফআইআর দায়ের এবং গ্রেফতারের দাবির মুখে পড়ে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, তা-ই এখন দেখার। তবে অভিনেত্রীর সাফ কথা, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করার ইচ্ছে হলে করবেন, ফাঁসিতে চড়ানোর ইচ্ছে হলে চড়াবেন, আবার একটা আন্দোলন হবে… আমি তৈরি’।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


