Sreelekha Mitra:‘আমার বাবাকেও নিয়েও নোংরা কথা বলতে ছাড়েননি…’, ট্রোলারদের কড়া জবাব শ্রীলেখার
‘ঠিককে ঠিক আর ভুলকে ভুল বলার সাহসটা আমি বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। কোনো ফরেইন ফান্ড (Foreign Fund) আমাকে কথা বলার জন্য স্পন্সর করে না, কেউ আমাকে ভাড়া করে সাহস দেয় না’, বিস্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র।
নানা সময়ে সোজা ব্যাটে ছক্কা হাঁকানো এবং নিজের স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য চর্চায় থাকেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকৃত পোস্টার হাতে জেন জি-র প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটায় হালে বিতর্কে জড়িয়েছেন শ্রীলেখা। এর জেরে তাঁর প্রয়াত বাবাকে টেনে এনে কুরুচিকর আক্রমণ চালিয়েছিল নেটপাড়ার একাংশ। নিজের আসন্ন জন্মদিনের ঠিক আগের মুহূর্তে ট্রোলারদের সেই নোংরা মন্তব্যের মোক্ষম জবাব দিয়ে এবং বাবার স্মৃতিচারণ করে সোশাল মিডিয়ায় এক অত্যন্ত আবেগঘন ও শক্তিশালী খোলা চিঠি লিখলেন অভিনেত্রী।

কঠিন সময়ে বন্ধুদের সরে যাওয়া, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলা সিনেমার নাম উজ্জ্বল করার ইতিহাস এবং বাবার কাছ থেকে পাওয়া 'সোজা মেরুদণ্ডের' শিক্ষা নিয়ে নিজের মনের ভাব উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।
‘আমার বাবার মতো বাবা পেলে তিন পুরুষ গল্প বলত’
ট্রোলারদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে শ্রীলেখা জানান, তাঁর বাবা ছিলেন একজন খাঁটি সেলফ মেড বা স্বনির্ভর মানুষ। জমিদার বংশে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে তিনি ছিলেন সিপিআইএম (CPI-M)-এর পার্টি মেম্বার। ধর্মের বিভাজন, দাঙ্গা ও দেশভাগের যন্ত্রণা সহ্য করেও মানুষকে কেবল 'মানুষ' হিসেবে দেখতে শিখিয়েছিলেন তিনি।
শ্রীলেখা মিত্রর স্পষ্ট বক্তব্য, 'আমার বাবার মতো বাবা যদি আপনারা পেতেন, তাহলে হয়তো আপনাদের তিন পুরুষেরও জীবন ভরে যেত তাঁর শিক্ষা, তাঁর আদর্শ আর তাঁর মেরুদণ্ডের গল্প বলতে। ঠিককে ঠিক আর ভুলকে ভুল বলার সাহসটা আমি বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। কোনো ফরেইন ফান্ড (Foreign Fund) আমাকে কথা বলার জন্য স্পন্সর করে না, কেউ আমাকে ভাড়া করে সাহস দেয় না।
২০২১-এর ইতালি যাত্রা ও অধরা থেকে যাওয়া স্বপ্ন
অভিনেত্রী ২০২১ সালের 'ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন কলকাতা' (Once Upon a Time in Calcutta) ছবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সময়কার কিছু স্মৃতি ও ছবি পোস্ট করেন। তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে সেই সময়ও তাঁকে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকানোর নানা চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের উপার্জিত টাকায় বিদেশে যান এবং তৎকালীন কোভিড বিধির কারণে ইতালিতে প্রবেশের আগে সুইজারল্যান্ডে কোয়ারেন্টিনে থাকেন।
সুইজারল্যান্ডে নিজের জন্মদিনে শাড়ি পরে ঘুরে বেড়ানোর সুন্দর ছবি-ভিডিওগুলো জমিয়ে রেখেছিলেন দেশে ফিরে বাবাকে দেখাবেন বলে। কিন্তু দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে চিরদিনের জন্য চলে যান তাঁর বাবা। বাবার সেই দুশ্চিন্তা— ‘আমি চলে গেলে আমার আদরের টুম্পার কী হবে?’— মনে করে শ্রীলেখা আজ বাবাকে আশ্বস্ত করেছেন।
‘সুখের সময়ের বন্ধুরা হাত ছেড়েছে, কিন্তু আমি স্থির’
কঠিন সময়ে যাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সব বন্ধুদের সরে যাওয়া নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
একা লড়াইয়ের সাহস: শ্রীলেখা জানান, ভয় ও হুমকির মুখে অনেকেই সুখের সময় কাটিয়ে সরে গেছে। কিন্তু তিনি একা হলেও মেরুদণ্ড সোজা রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাবার দেওয়া আসল সম্পদ: শ্রীলেখা লেখেন, "বাবা, তোমার টুম্পাকে টলানো এত সহজ নয়। কারণ তুমি আমাকে শুধু জীবন দাওনি, মেরুদণ্ড দিয়েছ।"
কটুক্তিকারীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাবাকে বা তাঁকে নিয়ে কে কী বলল, তাতে শ্রীলেখা বা তাঁর বাবার পরিচয় প্রমাণ হয় না; বরং ট্রোলারদের নিজেদের নিচু মন মানসিকতার পরিচয়টাই প্রকাশ্যে আসে। জন্মদিনের প্রাক্কালে শ্রীলেখার এই সাহসী ও আবেগঘন পোস্টটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নেটিজেনদের এক বিরাট অংশ তাঁর এই লড়াই ও স্পষ্টবাদিতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


