‘ভালোবাসার চেয়ে বড়…’, সৌদির মসজিদে চুমু, বাংলাদেশি যুগলের ধড়-মুণ্ডু আলাদা করার ঘটনায় সরব শ্রীলেখা
‘আজও কেন ভালোবাসার জন্য দু’টি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে?' প্রশ্ন অভিনেত্রীর।
সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি দম্পতির শিরশ্ছেদের ঘটনায় তোলপাড় বিশ্বজুড়ে। প্রখ্যাত কবি শ্রীজাতর পর এবার এই ভয়াবহ ঘটনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার ও আবেগঘন ভাষায় নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রকার আড়াল না রেখে, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে ‘এই বর্বরতা’ নিয়ে নিজের গভীর মনের যন্ত্রণা উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
শ্রীলেখা মিত্রের সেই বিস্ফোরক বক্তব্য:
প্রযুক্তি বনাম মধ্যযুগীয় বর্বরতা: বর্তমান সমাজের বৈপরিত্য তুলে ধরে শ্রীলেখা প্রশ্ন তোলেন, ‘আজ আমরা AI, ChatGPT ব্যবহার করছি, রোবট তৈরি করছি, প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি করছি। অথচ আজও ধর্মের নামে মানুষের ভালোবাসা, স্বাধীনতা, এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে! একটি মসজিদে চুম্বন করার অপরাধে সৌদি আরবে দু’জন মানুষের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে—এই খবরটি সত্যিই ভয়াবহ।’
ভালোবাসাই একমাত্র ধর্ম: ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। আমি বিশ্বাস করি, সব ধর্মের মূল কথাই ভালোবাসা। ধর্মের নামে ভয়, ঘৃণা আর হিংসা ছড়ানো মানুষের তৈরি—ঈশ্বরের নয়। ইসলাম হোক, হিন্দুধর্ম হোক কিংবা খ্রিস্টধর্ম—যে কোনো ধর্মের নামে মৌলবাদ ও ধর্মীয় উন্মাদনা আমার কাছে সমান ঘৃণ্য।’
প্রতিবাদের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক যন্ত্রণা:
সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল প্রতিবাদ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শ্রীলেখা যোগ করেন, ‘আজও কেন ভালোবাসার জন্য দু’টি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে? সৌদি আরব, ইরান কিংবা পৃথিবীর অন্য কোথাও মানুষের স্বাধীনতা ও জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হলে আমাদের প্রতিবাদ কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কয়েকটি পোস্টেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আমি জানি না। এসব ঘটনা আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। অন্য অনেকের মতো সহজে সবকিছু ভুলে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারি না। হয়তো আমি একজন পুরোনো মানুষl আর পুরোনো আত্মাদের পৃথিবীর এই নিষ্ঠুরতা একটু বেশিই যন্ত্রণা দেয়। শুধু এটুকু জানি, মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম হতে পারে না।’
শ্রীলেখা মিত্রের এই অকপট ও সোজা সাপ্টা মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে নেটপাড়ায়। প্রখ্যাত কবি শ্রীজাতর কবিতার পর শ্রীলেখার এই জোরালো প্রতিবাদ প্রমাণ করে দেয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে সরব হয়ে উঠেছে সচেতন সমাজ ও সাংস্কৃতিক মহল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


