‘সোনামণি আজও তোমার, শুধু তুমি নেই…’! আজকের দিনেই চলে যান মা, মনখারাপ শ্রীলেখার
২০১৬ সালের ১২ অগস্ট প্রয়াত হন শ্রীলেখা মিত্রের মা। আর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী। স্মৃতিচারণ করলেন ভালোবেসে ‘সোনামণি’ বলে ডাকতেন তাঁর মা। লিখলেন, ‘সোনামণি আজও তোমারই। শুধু তুমি নেই মা।’
বিতর্কের কালো মেঘ যেন কাটতেই চায় না অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে ঘিরে। তবে অভিনেত্রী বরাবরের পণ, অন্যায়ে মাথা নত না করার! এমনকী, নিজের মতামত রাখঢাক না করে সামনে রাখার জন্যও পড়তে হয় তাঁকে সমালোচনায়। তবে এসব বিতর্কের মাঝেও মনখারাপের দিন হয়ে আসে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার মৃত্যু। বুধবার একটি পোস্টে শ্রীলেখা জানালেন যে, এক ১২ অগস্ট তিনি হারিয়েছিলেন মা-কে। পোস্টের সঙ্গে মা-বাবার পুরনো ছবিও পোস্ট করেন তিনি।

শ্রীলেখা লেখেন, ‘বোধহয় মায়েদের আমরা একটু বেশিই টেকেন ফর গ্র্যান্টেড ধরে নিই। আমিও নিয়েছিলাম। বাবা আমার নাম দিয়েছিলেন ‘টুম্পা’। আর মা ডাকত ‘সোনামণি’। কী আদর করে, কী সুরে ডাকত—'সোনামণি'! বয়স তখন কম। পাবলিক প্লেসে মা যখন সেই একই সুরে ‘সোনামণি’ বলে ডাকত, ভীষণ লজ্জা পেতাম, বিব্রত হতাম। অনেক সময় ইচ্ছে করেই উত্তর দিতাম না। মনে হতো, না, আমায় নয়— হয়তো অন্য কাউকে ডাকছে! আজ সেই ‘সোনামণি’ নামটাই আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি শব্দ।’
২০১৬ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন শ্রীলেখার মা। এমনিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে বেশ ঝামেলায় রয়েছেন শ্রীলেখা। তাঁর নামে একাধিক থানায় এফআইআর করেছেন বিজেপি সমর্থক-কর্মীরা। শ্রীলেখা তাঁর এই পোস্টে লিখেছেন, ‘আগস্ট মাসটা কেন জানি না, আমার জীবনে ভীষণ ঘটনাবহুল। প্রত্যেক বছরই এই মাসটা যেন কিছু না কিছু নিয়ে আসে, কিছু কেড়ে নেয়, কিছু মনে করিয়ে দেয়।’ শ্রীলেখা বাবাকে হারান ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর।
অভিনেত্রী তাঁর মা-কে নিয়ে আরও লেখেন, ‘মা মাঝে মাঝে অভিমান করে বলত, 'তুই বাবাকে বেশি ভালোবাসিস'। তখন বুঝিনি, মায়ের সেই কথার মধ্যে কতখানি অভিমান, কতখানি ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল। আজ আমার নিজের মেয়ে হয়েছে। ওকে যখন দেখি ওর বাবাকে একটু বেশি ভালোবাসে, তখন বুঝতে পারি—মায়ের সেই অভিমানটা কী ছিল। বুঝতে পারি, ভালোবাসার মধ্যেও অভিমান থাকে। খুব গভীর অভিমান। মাগো তোমায় খুব ভালোবাসতাম। শুধু তোমাকে সেটা যথেষ্ট করে বলিনি। কারণ মনে হয়েছিল, তুমি তো আছই। কিন্তু মায়েরা তো চিরকাল থাকে না। তোমার চলে যাওয়াটা বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে গেল, মা। খুব তাড়াতাড়ি।শুধু একটাই আফসোস—আর একবার যদি তুমি ডাকতে, আর একবার যদি আমি সেই ডাকে লজ্জা না পেয়ে ফিরে তাকিয়ে বলতাম, 'হ্যাঁ মা, বলো'। সোনামণি আজও তোমারই। শুধু তুমি নেই, মা।’
প্রসঙ্গত, শ্রীলেখার একমাত্র মেয়ে ক্লাস টুয়েলভে দুর্দান্ত ফলাফল করে আপাতত শহরের বাইরে লেখাপড়া করছেন। সহকারী পরিচালক ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর অধ্যাপক শিলাদিত্য সান্যালকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তবে তা সুখের হয়নি। দুজনে আলাদা হয়ে যান। ২০১৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তবে মেয়ে ঐশীকে বড় করেছেন দুজনে একসঙ্গে। এমনকী, এখনো প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক শ্রীলেখার।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


