‘ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান যেন…’! পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে খোলা চিঠি, কী অনুরোধ বাম-মনস্ক শ্রীলেখার

রাস্তাঘাটে আবর্জানা ফেলা, থুতু বা প্রস্রাব করা, বাজারের অবৈধ সম্প্রসারণ নিয়ে ইতিধ্যেই সোচ্চার পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার আচমকাই গড়িয়াহাট বাজারে আচমকাই পৌঁছে কড়া মেজাজে দেখা যায় অগ্নিমিত্রাকে। এবার বিজেপি নেত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে কী অনুরোধ করলেন বাম-মনস্ক শ্রীলেখা?

Published on: Jun 24, 2026, 11:46:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাকে সাফ-সুতরো করার পণ নিয়ে ফেলেছে বিজেপি। শহর কলকাতার ইতিউতি ঘুরছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা নোংরা, বেদখল করে বসা দোকানপাট, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের চোখ রাঙানিতে সকলেই বেশ তটস্থ। সোমবার আচমকাই গড়িয়াহাট বাজারে পৌঁছে যান বিজেপি নেত্রী। বাজারের অপরিচ্ছন্নতা দেখে বেজায় চটে যান। ফতেয়া জারি করেন যে, নিজের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কারের দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরকেই নিতে হবে। নোংরা দেখলেই দিতে হবে জরিমানা। বাজারের দোকানগুলির অবৈধ সম্প্রসারণ সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ আসে। এর আগে রাস্তাঘাটে আবর্জানা ফেললে, থুতু বা প্রস্রাব করলেও জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা।

বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে খোলা চিঠি লিখে কী অনুরোধ করলেন বাম-মনস্ক শ্রীলেখা?
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে খোলা চিঠি লিখে কী অনুরোধ করলেন বাম-মনস্ক শ্রীলেখা?

এবার ফেসবুকে একটা দীর্ঘ পোস্ট করলেন বামমনস্ক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। খোলা চিঠি লিখলেন তিনি অগ্নিমিত্রা পালকে উদ্দেশ্য করে। সেই পোস্টে লেখা হয়, ‘আমি আপনাকে বহু বছর ধরে চিনি, তাই কয়েকটি ব্যক্তিগত কথা বলতে চাই। এরা এমন মানুষ, যারা এই ব্যবস্থার মধ্যেই জন্মেছে ও বড় হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তাদের শেখানো হয়েছে যে এটাই স্বাভাবিক জীবনযাপন। এখন যেন তাদের অস্তিত্বই একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় লক্ষ্য। নাগরিক সচেতনতারও গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, রোম একদিনে তৈরি হয়নি।’

‘মানুষের কাছে শিক্ষা, টেকসই জীবিকা এবং দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে একটি জীবন নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই তাদের কাছ থেকে আচরণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা যায়। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে থাকা মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করার আগে অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রাস্তার ধারে থুতু ফেলার জন্য শুধু জরিমানা করলেই হবে না, বরং কেন এই ধরনের আচরণ তৈরি হয়েছে, সেই কারণগুলিও খতিয়ে দেখা দরকার। একজন নারী হিসেবে আরেকজন নারীকে আমার অনুরোধ, মানুষকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাদেরও বোঝাতে সাহায্য করুন। কিন্তু বোঝাপড়ার শুরু হয় শিক্ষা থেকে, আর শিক্ষার ভিত্তি হল এমন একটি জীবন যেখানে প্রতিদিন বেঁচে থাকার চিন্তায় জর্জরিত থাকতে হয় না।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।

ফেসবুকের সেই পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘আমরা বিদেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে মুগ্ধ হই এবং ভাবি আমাদের দেশে কেন তা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা আলাদা। জনসংখ্যার ঘনত্ব, প্রতিদিনের সংগ্রাম এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। অর্থনীতির উন্নতি অবশ্যই দরকার, তবে তা যেন ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান আরও না বাড়ায়। আসুন, সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করি। দরিদ্রদের আরও প্রান্তিক করে না দিয়ে, তাদের শিক্ষিত করি, ক্ষমতায়ন করি এবং উন্নতির সুযোগ করে দিই। আশা করি, আপনি আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন।’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More