‘ক্ষমতায় থাকা কারও থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই…’! BJP বিধায়ক কৌস্তভ বাগচির কোন স্বভাব কাড়ল শ্রীলেখার মন?
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচির একটি ভিডিয়ো শেয়ার করলেন শ্রীলেখা। যেখানে কৌস্তভকে দেখা গেল রাস্তার কুকুরদের খাবার খাওয়াতে। রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যককে পিছনে রেখে কৌস্তভকে প্রশংসায় ভরলানে শ্রীলেখা।
বরাবরই পোষ্যপ্রেমী শ্রীলেখা। এমনকী, বাড়ির আশেপাশে থাকা সারমেয়দের খাবার দিতে গিয়ে পড়শিদের আক্রমণও সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও হামেশাই পোস্ট করে থাকেন অবলা প্রাণীদের নিয়ে। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচির একটি ভিডিয়ো শেয়ার করলেন শ্রীলেখা। যেখানে কৌস্তভকে দেখা গেল রাস্তার কুকুরদের খাবার খাওয়াতে। রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যককে পিছনে রেখে কৌস্তভকে প্রশংসায় ভরলানে শ্রীলেখা।

কৌস্তভের ভিডিয়ো শেয়ার করে শ্রীলেখা লেখেন, ‘মতাদর্শগতভাবে আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করি— হ্যাঁ, আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের কথাই বলছি, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে— তবুও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, যা ভালো তার প্রশংসা করা উচিত এবং যা মহৎ, তাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর সঙ্গে আমার পরিচয় সেই সময় থেকে, যখন তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে একটি বিষয় আমি বরাবরই জানি, আর তা হল প্রাণীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। তিনি সত্যিই প্রাণীদের একজন বড় অনুরাগী। তাঁর সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপটি আমার সেই ধারণাকে আরও জোরালো করল যে, এই বিষয়ে আমার মূল্যায়ন সঠিক ছিল।’
‘একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই: এই পোস্টটির উদ্দেশ্য কোনোভাবেই তাঁর অহংকে উসকে দেওয়া নয়। তাঁর কাছ থেকে বা ক্ষমতার অবস্থানে থাকা অন্য কারও কাছ থেকে আমার কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই। আমার একমাত্র প্রত্যাশা হল, প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ব্যক্তিরা যখন প্রাণীদের প্রতি এমন দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করেন, তখন তাঁদের দলের সহকর্মী এবং অন্যান্যরাও তাতে অনুপ্রাণিত হতে পারেন। কৌস্তভ বাগচী, আমি আপনাকে আমাদের র্যালিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি—যেখানে আমরা প্রাণীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলব এবং এই দীপাবলিতে বাজি না ফাটানোর বার্তা দেব। এই র্যালির প্রসঙ্গেই আমি রাজনৈতিক পরিচয় বা দলমত নির্বিশেষে সকলকেই একই আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা তাঁর পোস্টে।
নিজের পোস্টে শ্রীলেখা সবশেষে লেখেন, ‘প্রাণীকল্যাণ হওয়া উচিত রাজনৈতিক সীমানার ঊর্ধ্বে। সহানুভূতি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আসুন, আমরা সবাই একত্রিত হই, যারা নিজেদের কথা বলতে পারে না তাদের হয়ে কণ্ঠস্বর তুলি এবং মানুষকে উৎসাহিত করি যেন তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করে— এমনভাবে, যাতে প্রাণীদের কোনো অহেতুক কষ্ট পেতে না হয়। কৌস্তভ, আপনার এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, আপনার এই দৃষ্টান্ত দেখে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন। কারণ, যখন সহানুভূতির প্রশ্ন আসে, তখন মতাদর্শের চেয়েও মানবতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রসঙ্গত, West Bengal Animal Rights Activists Front-এর উদ্যোগে ১ নভেম্বর নন্দন থেকে একটি প্রতিবাদি র্যালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে সব পশুপ্রেমীদের অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানালেন শ্রীলেখা। এই র্যালি-র দাবি, ‘শব্দবাজি বন্ধ হোক। মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী, সবাই নিরাপদে বাঁচুক।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


