বিগ বস বাংলার ঘরে কোণঠাসা! ‘ও সফট টার্গেট হয়ে গিয়েছে’, রাজবীরের সমর্থনে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট শ্রীলেখার
বিগ বস বাংলা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার হট টপিক। এমনকী, বিনোদন জগতের খোঁজ না রাখা মানুষদেরও উৎসাহ এই শো নিয়ে। আপাতত বিগ বসে যেন চলছে রাজবীর বনাম গোটা ঘরের লড়াই। ব্যতিক্রম নন্দিনী। ফেসবুক পোস্টে কী লিখলেন শ্রীলেখা?
বিগ বস বাংলা হাউজে ঝড় তুলেছে রাজবীর দে। বলা চলে, নন্দিনী দত্ত ছাড়া রাজবীর গোটা ঘরে পুরো একা। এমনকী, জীতু কমল-তনুশ্রীরা উইকেন্ড এপিসোডের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন রাজবীরের প্রশংসা করার কারণে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেরই দাবি, কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে রাজবীরকে। বিশেষ করে মুম্বই থেকে বাংলায় আসার কারণে।

এবার এই নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই রাজবীরকে একটা কালেকটিভ টার্গেটিং-এর মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই ওকে নিয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে—অসভ্য ছেলে, গাম্বাট, এই ছেলে ওই ছেলে। নন্দিনীকে বাদ দিলে সংখ্যার অনুপাতটাও একবার ভাবুন। একটা মানুষকে যদি একসঙ্গে এতজন ক্রমাগত অসম্মান করে, খোঁটা দেয়, কর্নার করে, তাহলে তার কাছ থেকে সবসময় অত্যন্ত মেজার্ড এবং শান্ত আচরণ আশা করাটাও কি খুব বাস্তবসম্মত?’
তবে এমন নয় শ্রীলেখা রাজবীরের ‘ভুল’কে এড়িয়ে গিয়েছেন। বরং ‘পুকুরের মাছ’ মন্তব্যটির সমালোচনা করেন। লেখেন, ‘রাজবীরকে আমারও সবসময় ভালো লাগেনি। অনেক কিছু ও করেছে, যেগুলো আমার কাছে মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিশেষ করে 'পুকুরের মাছ' বলা—এটা আমি কোনওভাবেই সমর্থন করি না। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও দেখেছি, ও সবার সঙ্গে হেসে কথা বলতে যায়, অনেক সময় এমন কিছু করে বা বলে যা হয়তো ও নিজেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। ভাষার একটা সমস্যা তো আছেই। আর ও বাকিদের তুলনায় ছোট।
শিল্পী হিসেবে ওর ইমোশনাল সাইডটাও দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, ছেলেটা খারাপ নয়। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই ওকে একটা পূর্বকল্পিত ধারণার মধ্যে দেখা হয়েছে। যেহেতু ও বাকিদের মতো পরিচিত নয়, মুম্বইতে স্ট্রাগল করছে, তাই খুব সহজেই একটা সফট টার্গেট হয়ে গিয়েছে। আর একটা জিনিস বারবার চোখে পড়েছে—ওর খাওয়া নিয়ে মন্তব্য। সামনে দিয়ে দুধ, ডিম, খাবার নিয়ে যাওয়া, খাওয়া নিয়ে কথা বলা, চিৎকার করে অপমান করা—এসব যদি কোনও মানুষকে দিনের পর দিন সহ্য করতে হয়, তাহলে সে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ আনএফেক্টেড থাকবে কী করে?’
সঙ্গে শ্রীলেখা নিজের পোস্টে নন্দিনীরও উল্লেখ করেন। যে পুরো ঘরে অন্তত একটা মানুষ যে রাজবীরকে সঙ্গ দিচ্ছে। তাঁর হয়ে স্ট্যান্ড নেওয়ার চেষ্টা করছে। সঙ্গে রাজবীরের হয়ে দর্শকদের উদ্দেশে শ্রীলেখা লেখেন, ‘আমার মনে হয়, রাজবীরকে বিচার করার আগে একবার অন্তত এটাও ভাবা দরকার—একটা মানুষকে কতটা চাপের মধ্যে রাখলে সে শেষ পর্যন্ত এমনভাবে ফাইটব্যাক করতে বাধ্য হয়?’
শ্রীলেখার পোস্টের কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখলে বোঝা যাবে, সিংহভাগই রাজবীরকে এভাবে কোণঠাসা করায় সমালোচনা করেছেন বাংলার তারকাদের। শুধু তাই নয়, স্টার জলসার পেজেও বিগ বসের ভিডিয়োতে রাজবীরের সমর্থনে বহু মানুষ। তাঁদের দাবি, রাজবীরের ‘অনেক কিছু’ ভুল, তবে তিনি বিগ বসের ঘরে যেভাবে ‘কোণঠাসা’ হচ্ছেন, সেটাও ‘অনুচিত’।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


