ভুগছিলেন অ্যালজাইমার্স, ডিমনিশিয়ার মতো রোগে! চলে গেলে এক্স মেন খ্যাত অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট!
Sir Patrick Stewart Death: এক্স-মেন এবং স্টার ট্রেকের মতো ছবিতে অভিনয় করা কিংবদন্তি অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট আর নেই!
‘স্টার ট্রেক’ (Star Trek)-এর ক্যাপ্টেন জ্যঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’ (X-Men) ফ্র্যাঞ্চাইজির চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট (Sir Patrick Stewart) আর নেই। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ব্রিটিশ স্যার খেতাবপ্রাপ্ত অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অ্যালজাইমার্স ও লুই বডি ডিমেনশিয়ার সাথে লড়াই:
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবার ও এজেন্সির তরফে জানানো এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয় যে, জীবনের শেষ অধ্যায়ে অত্যন্ত শান্ত ও নীরব লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চলে যেতে হয়েছে অভিনেতাকে।
পোস্টে লেখা হয়, ‘আমরা গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি যে স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর প্রিয় স্ত্রী সানির সান্নিধ্যে এবং পরম যত্নে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অ্যালজাইমার্স ডিজিজ এবং লুই বডি ডিমেনশিয়ার সাথে একটি সংক্ষিপ্ত ও আবেগঘন লড়াইয়ের পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তিনি পরিবার, নিকটাত্মীয় এবং বন্ধুবান্ধবদের উষ্ণতায় ঘেরা ছিলেন। সেখানে জীবন্ত সঙ্গীত, প্রার্থনা, অশ্রু এবং হাসির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ছিল।
সহ-তারকাদের চোখের জল ও বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য:
স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের প্রয়াণে হলিউডের বিনোদন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহ-অভিনেতারা স্মৃতিচারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
‘স্টার ট্রেক’ সহ-অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার লিখেছেন, ‘হৃদয়বিদারক এক সপ্তাহ। স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট একাধারে আমার বন্ধু, সহকর্মী এবং একজন অসাধারণ অভিনেতা ছিলেন। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে ‘এন্টারপ্রাইজ’-এর ব্রিজ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় তিনি মেধা, সৌন্দর্য এবং এক গভীর মানবিকতা নিয়ে এসেছিলেন। ক্যাপ্টেন পিকার্ড আমাদের মধ্যকার সেরা দিকটি তুলে ধরতেন, আর যিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন— তিনিও ছিলেন ঠিক তেমনই ব্যক্তিত্ববান মানুষ।’
‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রে তাঁর বহু বছরের সহ-অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমরা আজকে মঞ্চ এবং রুপোলি পর্দার অন্যতম সেরা এক নক্ষত্রকে হারালাম। আমার চোখে তিনি ছিলেন পরম এক বন্ধু ও অসাধারণ মানুষ। তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি তোমায় আজীবন মিস করব, প্যাট্রিক।'
: ‘লেডি জেন’ ও ‘রবিন হুড: মেন ইন টাইটস’-এর সহ-অভিনেতা কেরি এলউয়েস ১৯৮৪ সালে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি মনে করে তাঁর অসামান্য কণ্ঠস্বর, নম্রতা এবং অনবদ্য উপস্থিতির প্রশংসা করে লেখেন, ‘শুভরাত্রি, আমাদের প্রিয় রাজপুত্র।’
. ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকার:
মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী সানি ওজেল (Sunny Ozell) এবং প্রথম পক্ষের দুই সন্তান— পুত্র ড্যানিয়েল স্টুয়ার্ট ও কন্যা সোফি আলেকজান্দ্রা-স্টুয়ার্টকে রেখে গিয়েছেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শেক্সপিয়রীয় নাটক থেকে শুরু করে হলিউডের মেগা সায়েন্স-ফিকশন ব্লকব্লাস্টার মুভিতে তাঁর অসামান্য অবদান সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


