Taslima Nasrin: ‘বাংলাদেশে কোনও শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়’,৭ বছরের শিশুর খুন-ধর্ষণ! গর্জন তসলিমার

Taslima Nasrin: বাংলাদেশে ক্রমাগত বেড়ে চলা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন তসলিমা নাসরিন। সাত বছর বয়সী শিশু কন্যার নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে লেখিকা সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং অপরাধীদের মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

Published on: May 21, 2026, 09:30:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান গ্রাফ নিয়ে সমাজমাধ্যমে মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি সাত বছর বয়সী শিশুকন্যার পাশবিক হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর প্রতিবেশী ধর্ষক-খুনী সোহেন রানার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন লেখিকা। অপরাধীদের স্বাভাবিক চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বীভৎস রূপ এবং শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

‘বাংলাদেশে কোনও শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়’,৭ বছরের শিশুর খুন-ধর্ষণ! গর্জন তসলিমার
‘বাংলাদেশে কোনও শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়’,৭ বছরের শিশুর খুন-ধর্ষণ! গর্জন তসলিমার

নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও সীতাকুণ্ডের স্মৃতি:

লেখিকা তাঁর পোস্টে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ফুটফুটে ছাত্রীর হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার বিবরণ দিয়ে সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের চারপাশে প্রতিদিন ওই শিশুকন্যার মতো অসংখ্য নিষ্পাপ বাচ্চা ঘুরে বেড়ায়, যারা আসলে এই বিকৃত মানসিকতার সমাজ ব্যবস্থার সম্ভাব্য শিকার (Potential Victim)। অন্যদিকে, খুনী-ধর্ষক সোহেন রানার মতো অতি সাধারণ চেহারার মানুষদের ভিড়ও চারদিকে, যারা সুযোগ পেলেই সম্ভাব্য ধর্ষক ও খুনী হয়ে উঠছে। সীতাকুণ্ড পাহাড়ের এক পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে লেখিকা বলেন, সেখানে এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা সম্পূর্ণ কাটতে পারেনি খুনি। কিন্তু রেহাই পায়নি ওই খুদে। মাত্র ৭ বছরের বাচ্চা মেয়েটার ধড় ও মুণ্ডু আলাদা করে দুই ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানিক অবক্ষয় নিয়ে কড়া তোপ:

তসলিমা নাসরিনের দাবি, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটনা বর্তমানে সর্বত্র ঘটছে। ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, জংলা থেকে শুরু করে ঘর কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান— কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। এই অপরাধ প্রবণতা এবং হিংস্রতার নেপথ্যে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের এক গভীর নৈতিক অবক্ষয় কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।

ক্ষোভ ও হতাশা থেকে বিলুপ্তির ডাক:

দেশে শিশুদের জন্য কোনো নিরাপদ ভবিষ্যৎ না দেখতে পেয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন লেখিকা। তিনি লিখেছেন, এমন এক পরিস্থিতিতে দেশে কোনো শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, যে সমাজ বা জাতি শিশুদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে পারে না এবং যেখানে প্রতিদিন বর্বরতা, হিংস্রতা আর বীভৎসতার মহোৎসব চলে, সেই অসুস্থ ও অমানবিক মানসিকতার অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি লেখেন, ‘আমার তো মনে হয় বাংলাদেশে কোনও শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়। বন্ধ হয়ে যাক শিশুজন্ম। এই অসুস্থ অসভ্য অশ্লীল অমানবিক বাংলাদেশিমুসলমানজাতি ধর্ষণ করতে করতে, খুন করতে করতে; বর্বরতা, হিংস্রতা, আর বীভৎসতা করতে করতে বিলুপ্ত হয়ে যাক’।

তসলিমা নাসরিনের এই পোস্টটি সমাজমাধ্যমে আসার পর থেকেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই নৃশংস অপরাধগুলোর কঠোরতম শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পল্লবী এলাকার ওই স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অপরাধে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। দোষীদের চরম শাস্তি চায় গোটা বাংলাদেশ।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More