Subhashree Ganguly: ‘পুরুষতন্ত্র কেবল নারীদেরই ঠকায়নি…’, রাজের দেখা নেই, ‘বেবি সিটিং’ নিয়ে ইনস্টায় বিস্ফোরক শুভশ্রী!
পুরুষরা নিজের সন্তান সামলালে বাহবা পায়, অথচ মায়েরা কাজের জন্য সন্তানকে অন্যের কাছে রাখলে সমাজ নিন্দা করে— এই বৈষম্য নিয়েই এবার সরব ইউভান-ইয়ালিরি মা, শুভশ্রী।
টলিপাড়ার অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)। তাঁদের মিষ্টি সংসার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়া-নেওয়া সবসময়ই অনুরাগীদের নজর কাড়ে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন! শুভশ্রীর সাম্প্রতিক পোস্ট থেকে রাজের ‘লাইক’ গায়েব হওয়া নিয়ে যখন নেটপাড়ায় ফিসফাস তুঙ্গে, ঠিক তখনই নায়িকার ইনস্টাগ্রাম স্টোরি জল্পনার আগুনে ঘি ঢালল।

আচমকাই নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পুরুষতন্ত্র (Patriarchy) এবং সমাজব্যবস্থার দ্বিচারিতা নিয়ে একটি বিস্ফোরক কোট শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।
রত্না পাঠক শাহের সেই বিস্ফোরক উক্তি
শুভশ্রী তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বলিউডের প্রখ্যাত ও স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ (Ratna Pathak Shah)-এর একটি ছবিসহ অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ বার্তা শেয়ার করেছেন। সেই পোস্টে যা লেখা রয়েছে তার বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘পুরুষেরা যখন নিজেদের সন্তানদের দেখাশোনা করে, তখন সমাজ তাদের প্রশংসা করে। অথচ একজন নারী যদি সন্তানকে বেবিসিটারের কাছে রেখে (কাজে) যান, তখন সমাজ তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। পুরুষতন্ত্র কেবল নারীদেরই ঠকায়নি, এটি পুরুষদের দায়িত্ব নেওয়ার বোধটুকুর প্রতিও এলার্জিক করে তুলেছে।’
রাজের লাইক গায়েব, নেপথ্যে কী কোনো সংকেত?
এমনিতেই রাজ ও শুভশ্রী একে অপরের সমস্ত পোস্টে লাইক করতে ভোলেন না। তবে সম্প্রতি শুভশ্রীর প্রোফাইল থেকে রাজের লাইক হঠাৎ উধাও হওয়া এবং তার পরপরই পুরুষদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও পুরুষতন্ত্র নিয়ে অভিনেত্রীর এই ধরণের স্টোরি শেয়ার করাকে একেবারেই ‘কাকতালীয়’ হিসেবে দেখছেন না নেটিজেনরা। বিশেষত যখন শুভশ্রী এবং দেবের রসায়ন নিয়ে নেটপাড়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে— তবে কি রাজ-শুভশ্রীর অন্দরমহলে সন্তান লালন-পালন বা কাজের দায়িত্ব ভাগাভাগি করা নিয়ে কোনো মতান্তর তৈরি হয়েছে? নাকি একজন কর্মরতা মা হিসেবে সমাজের চেনা মানসিকতার বিরুদ্ধেই স্রেফ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টলি-কুইন?
জল্পনা বনাম বাস্তব
যদিও এই বিষয়ে রাজ বা শুভশ্রী কেউই সরাসরি মুখ খোলেননি। তবে দুজনের ঘনিষ্ঠমহল বলছে, দুজনের দাম্পত্যে কোনওরকম সমস্যা নেই। দেবের সঙ্গে শুভশ্রীর জুটি বাঁধা নিয়েও রাজ এতটুুকু ইনসিকিউর নন, বরং সাপোর্টিভ হ্য়াজবেন্ডের ভূমিকাতেই রয়েছেন তিনি। জানিয়ে রাখি, গত ৪ঠা মে ভোটের ফলাফল সামনে আসবার পর থেকেই রাজ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গিয়েছেন। তাই শুভশ্রী পোস্টে লাইক দেওয়াই শুধু নয়, রাজ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতেই নেই। বরং খানিক ডিজিট্যাল ডিটক্স মুডে রয়েছেন।
নায়িকার অনুরাগীরা আবার মনে করছেন, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত জলঘোলা করার কিছু নেই। শুভশ্রী বরাবরই একজন স্বাধীনচেতা নারী এবং সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে পরিচিত। রত্না পাঠক শাহের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর নিজের জীবনের মিল খুঁজতে যাওয়া অহেতুক। প্রসঙ্গত, দুই সন্তানের মা শুভশ্রী কেরিয়ার আর সন্তান সমানভাবে ব্যালেন্স করছেন শুরু থেকেই। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার সপ্তাহ খানেকেরম ধ্যেই ছবির সেটে ফিরেছিলেন শুভশ্রী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


