BJP-কে 'মহিষাসুর' কটাক্ষ শুভশ্রীর! বাদ যায়নি ‘বাহিনী’ও, বঙ্গে পদ্ম-ফুটতেই রাজ ঘরণীর মন্তব্যের কী সাফাই বন্ধুর?
ভোটের আবহে সরগরম বাংলা। আর এই গরম বাজারে ঘি ঢালল শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি রাজনৈতিক বয়ান। বরকে সমর্থক করতে গিয়ে কি সেনাবাহিনীকে ‘অপমান’ করে বসলেন নায়িকা?
ভোটের দিন স্বামীর হাত ধরে ভোটদান কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন শুভশ্রী। সেখান থেকে বেরিয়েই বিজেপি-কে মহিষাসুর খোঁচা দেন টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’। কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই রাজ্যে রঙ বদল হয়েছে। চারদিকে এখন গেরুয়া ঝড়। ভোটে গো-হারা হেরেছেন রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুরে ধুয়ে মুছে সাফ তৃণমূল। কটাক্ষের জেরবার রাজ সোমবার বিধ্বস্ত অবস্থায় ভোট গগণা কেন্দ্র ছাড়েন। তাঁকে কাদা ছোঁড়া হয় বিজেপির তরফে। এরপর হেরো পরিচালক ফেসবুক ত্যাগ করেন।

এর মাঝেই মঙ্গলবার বরকে ‘সুপারহিরো’ তকমা দিয়ে দীর্ঘ পোস্ট লেখেন শুভশ্রী। যদিও সেই পোস্টে বিদ্রুপ ধেয়ে আসতেই তড়িঘড়ি কমেন্ট বক্স বন্ধ করেন নায়িকা। এবার নেটপাড়ায় শোরগোল শুভশ্রীর বক্তব্য নিয়ে। ভোটের দিন শুভশ্রী বলেছিলেন, ‘প্রতিবার মা দুর্গার সঙ্গে প্রচুর মহিষাসুররা লড়াই করতে আসে, প্রচুর বাহিনী নিয়ে আসে। কিন্তু জয় হয় মা দুর্গারই। এবারও তাই হবে।’ এখানে ‘মহিষাসুর’ বলতে তিনি বিজেপি এবং ‘বাহিনী’ বলতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (CRPF/BSF) ইঙ্গিত করেছেন বলে অভিযোগ এক জনৈকের।
শুভশ্রীর এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে, এক সেনাকর্মীর কন্যা সরাসরি প্রশ্ন ছুড়েছেন শুভশ্রী-রাজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নীল রায়ের কাছে। তৃণমূলের ‘অপশাসন’ নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেছিলেন নীল। সেখানেই ওই নেটিজেনের বক্তব্য, ‘আমার বাবা ভারতীয় সেনায় ছিলেন। সিআরপিএফ বা বিএসএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্রেফ ‘বাহিনী’ নয়, তারা দেশের মেরুদণ্ড। তারা এক মুহূর্তের জন্য সরে দাঁড়ালে দক্ষিণ কলকাতায় বসে কেউ জ্ঞান দিতে পারতেন না। রাজনৈতিক বিবৃতির আগে এই রক্ষাকর্তাদের সম্মান জানানো উচিত।’ তাঁর মতে, শুভশ্রীর মতো পাবলিক ফিগারের উচিত আরও সংবেদনশীল হয়ে মন্তব্য করা।
নীল রায়ের কৌশলী জবাব:
রাজ-শুভশ্রীর বন্ধু নীল রায় ওই নেটিজেনের যুক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তিনি পালটা উত্তরে লেখেন— ‘আপনার কথার সঙ্গে আমি একমত। তবে অনেক সময় আবেগের বশে এমন কিছু কথা বলা হয়ে যায় যা হয়তো আক্ষরিক অর্থে বোঝাতে চাওয়া হয়নি। এটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।’
নীল আরও যোগ করেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমি ওই মন্তব্যকে সমর্থন করছি। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আমার অগাধ সম্মান রয়েছে। তারা নিজের পরিবার ছেড়ে সীমান্তে দিনরাত জেগে থাকে বলেই আমরা শান্তিতে ঘুমোতে পারি। তাদের আত্মত্যাগের কোনো তুলনা হয় না।’
বিতর্কের কেন্দ্রে শুভশ্রী:
শুভশ্রীর এই ‘মহিষাসুর’ রূপকটি যে বিজেপি সমর্থকদের মন কষ্ট বাড়িয়েছে, তা সমাজমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় অংশই শুভশ্রীর ওপর ক্ষুব্ধ। বন্ধুর হয়ে নীল রায় সাফাই দিলেও, শুভশ্রী নিজে এই নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


