'লোক মা-বাবাকে মিথ্যে বলে সিনেমা দেখতে যেত, আমি মন্দিরে যেতাম…', আধ্যাত্মিকতা নিয়ে যা বললেন শুভশ্রী
টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সামনেই নায়িকার নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে…’ মুক্তি পেতে চলেছে। এই ছবির সঙ্গে যে একটা আধ্যাত্মিক যোগ রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। আর সেই প্রসঙ্গেই নিজের জীবনের আধ্যত্মিকতা নিয়ে মুখ খুলেছেন নায়িকা।
টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সামনেই নায়িকার নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে…’ মুক্তি পেতে চলেছে। এই ছবির ট্রেলার বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে। ট্রেলারের পরতে পরতে উঠে এসেছে নিমাই সন্ন্যাসীর অন্তর্ধান রহস্য। ফলে এই ছবির সঙ্গে যে একটা আধ্যাত্মিক যোগ রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। আর সেই প্রসঙ্গেই নিজের জীবনের আধ্যত্মিকতা নিয়ে মুখ খুলেছেন নায়িকা।

নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নায়িকা এই প্রসঙ্গে বলেন, ভগবানের আশীর্বাদ আমি বিশ্বাস করি আমার উপর সব সময়ই ছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। আমার যখন থেকে বোধ বুদ্ধি হয়েছে ছোটবেলা থেকে তখন থেকেই আমার মনে আছে আমি মন্দিরে বসে থাকতাম। মানুষ ছোটবেলায় বাবা-মাকে মিথ্যা কথা বলে সিনেমা দেখতে যায়, বা মন্দিরে যায় কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকে মন্দিরে যেতাম।'
প্রসঙ্গত, গৌরাঙ্গ বা শ্রী চৈতন্য ও নানা সময়ের সমাবর্তন এই ছবির পটভূমি। ছবিতে তিনটি সময়কাল এক সুতোয় বেঁধে তুলে ধরা হবে। সৃজিতের ছবিতে শ্রীচৈতন্যর সময়কাল, নটী বিনোদিনী-গিরিশ ঘোষের সময় কাল এবং বর্তমান সময় এক সুতোয় বাঁধা পড়বে। ছবিতে শ্রীচৈতন্যের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে দিব্যজ্যোতি দত্তকে। অন্যদিকে, অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এই ছবিতে নটী বনোদিনী। নটী বিনোদিনীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল 'চৈতন্যলীলা'। সেই সূত্র ধরেই নায়িকা এই ছবির খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে, ছবির মধ্যেও একটা ছবি হতে দেখা যাবে। সেই ছবির নায়ক ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। পেশার খাতিরে সেও সাজবে শ্রী চৈতন্য। আর ট্রেলারেও সেই ধারা অব্যহত ছিল।
ট্রেলারের শুরুতেই দেখা গিয়েছে, ঘষাকাঁচের ফ্রেমে একসারি নৌকা আর তাতে দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন গৌরাঙ্গ। আবহে ইশার কন্ঠ স্বর। নায়িকাকে এই ছবিতে চলচ্চিত্র নির্দেশকের ভূমিকায় দেখা যাবে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ইমেজটা আমি ক্লিয়ার চাই না বুঝলে। এটা তো লোককথা, তারপর একটু ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। একটু মিথ রয়েছে। চৈতন্যর মতো একটা চরিত্র, সবটা মিলিয়ে মিশিয়ে যদি সবটা মিলিয়ে যদি একটু স্বপ্লালু, একটি রহস্যময় হয়' আর সেই সময় পর্দায় ফুটে উঠতে থাকে লক্ষ্মীপ্রিয়ার সঙ্গে নিমাইয়ের বিয়ের পর গৃহপ্রবেশের দৃশ্য। তাঁদের শয্যাদৃশ্য ও প্রেম।
তারপরই আবহে ছবির নটী বিনোদিনী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের কন্ঠস্বর শোনা যায়। বিনোদিনীকে গিরিশ ঘোষকে প্রশ্ন করে, 'কিন্তু আপনার কেন এমন মনে হচ্ছে মাস্টারমশাই এ যাবত কাল আমরা যে গপ্প শুনে এসেছি তা সত্য নয়। সেই সময় একবার ইশা আর ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত আর একবার গিরিশ ঘোষ আর বিনোদিনীর চরিত্রে শুভশ্রী আর ব্রাত্য বসুর দেখা মেলে।
তবে এরপর ট্রেলার যত এগোতে থাকে ছবির রঙ আরও গাঢ় হয়, মিশতে থাকে বিষাদের সুর আর অন্তর্ধান রহস্যের জটিলতা। দেখা মেলে পর্দার নিত্যানন্দ গোসাই যিশু সেনগুপ্তের তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মিলছে না। জোয়ারে ভেসে যদি যেত সে তবে চন্দ্রভাগার তটে সে ফিরতই।’ তারপর ইতিহাসের মিশেল অন্তর্ধান রহস্যের নানা থিওরি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। অন্যদিকে, নটী বিনোদিনী ত্যাগ করে গিরিশ ঘোষের থিয়েটার। তবে সবশেষে রয়েছে মন ঠান্ডা হয়ে যাওয়া শান্তির বার্তা। ২৫ ডিসেম্বর ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পাবে।
E-Paper

