Success Story: বাবার বেতন ছিল ১৫০০ টাকা! KBC-তে ৫০ লক্ষ জেতার কয়েক মাস পরেই, ২২ বছরে প্রথম চেষ্টায় UPSC পাশ বিকাশের
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কেবিসিতে এসেছিলেন হিমাচল প্রদেশের তরুণ বিকাশ সিং পানওয়ার। অমিতাভের শো থেকে জিতে নেন ৫০ লাখ টাকা। এর কয়েকমাস পরেই, মাত্র ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসি পাশ করলেন তিনি।
হিমাচল প্রদেশের একটি ছোট্ট গ্রামের ছেলে বিকাশ সিং পানওয়ার ২২ বছর বয়সে এমন কিছু করে দেখিয়েছেন যা খুব কম মানুষই তাদের জীবনবৃত্তান্তে যোগ করতে পারেন। চরম দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া বিকাশকে এখন চেনে গোটা দেশের মানুষ। ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফলের আগেই তিনি জনপ্রিয় গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-তে অংশ নিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা জিতেছিলেন। এর কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে, হিমাচল প্রদেশের এই তরুণ পরীক্ষার্থী তার প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ২০২৫-এ সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ১৫৯ অর্জন করেন।

বিকাশ সিং পানওয়ার কে?
বিকাশ হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের শিমলা জেলার কুপভি এলাকার জুবলি গ্রামের বাসিন্দা। নবভারত টাইমস এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লিতে যাওয়ার আগে তিনি ডিএভি নিউ শিমলায় পড়াশোনা করেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হিন্দু কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুধু স্নাতকেই থেমে থাকেনি। বিকাশ পানওয়ার ইউজিসি-নেটও পাশ করেন এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছিলেন। তার বাবার একসময় বেতন ছিল মাত্র ১,৪০০ টাকা।
ধার করে লেখাপড়া করিয়েছেন বাবা
বিকাশের গল্প সামনে আসে কেবিসি-তে তাঁর উপস্থিতির কারণে। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি'-র ১৭তম সিজনে একজন ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তাঁর বাবার শিক্ষকতা জীবন ও আর্থিক অস্বচ্ছলতা নিয়ে কথা বলেন।
বিকাশ অমিতাভ বচ্চনের শো-তে এসে জানিয়েছিলেন যে, সেই সময় তাঁর বাবার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১,৪০০ টাকা, অথচ তাঁর স্কুলের ফি ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলত তাঁর পড়াশোনার খরচ মেটাতে বাবাকে মাঝে মাঝে লোকজনের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হত। বিকাশের বাবা এখন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ। দিল্লিতে আসার আগে তিনি ২০২৩ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে কর্মরত ছিলেন।
বিকাশ পানওয়ারের কাছে তাঁর বাবার অবদান শুধু পরিবারের ভরণপোষণে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের আদর্শ কে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর বাবা তাঁর আদর্শ নন, কারণ তিনি কখনোই তাঁর মতো হতে পারবেন না। তাঁর কাছে তাঁর বাবা আদর্শের চেয়েও 'অনেক বেশি' কিছু।
তরুণ বিকাশের পড়াশোনার আগ্রহ শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও তিনি বিভিন্ন বই পড়তেন। এখনো পড়ে চলেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে হাজার হাজার বই রয়েছে। কেবিসি-তে উপস্থিতির সময়ও তার বই পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছিল, যেখানে তিনি তার শিক্ষাজীবন ও পরিবার সম্পর্কে কথা বলেছিলেন। তিনি তাঁর ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফলের আগেই কেবিসি থেকে ৫০ লক্ষ টাকা জিতেছিলেন।
কেবিসি থেকে ৫০ লাখ জেতেন বিকাশ
তিনি শো-টি থেকে ৫০ লক্ষ টাকা জিতে নেন। ১ কোটি টাকার প্রশ্নে এসে তিনি খেলা থামিয়ে দেন, কারণ উত্তরটি নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তবে, তিনি খেলা ছাড়ার পর সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁর মতে উত্তরটি কী হতে পারে। পানওয়ার নেভিল চেম্বারলেনের নাম বেছে নেন। দেখা যায়, সেটাই ছিল সঠিক উত্তর। প্রশ্নটি ছিল, প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাম মিলে যাওয়া কোন সেনা কর্মকর্তাকে প্রায়শই জব্বলপুরে স্নুকার আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। বিকল্পগুলির মধ্যে ছিল নেভিল চেম্বারলেইন, উইনস্টন চার্চিল, অ্যালেক ডগলাস-হোম এবং হ্যারল্ড ম্যাকমিলান। সুতরাং, ১ কোটি টাকার প্রশ্নটির উত্তর না দেওয়ায় বিকাশকে ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে শো ছেড়ে চলে যেতে হয়।
পরবর্তীতে বিকাশ ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। তাঁর চূড়ান্ত ইউপিএসসি স্কোর ছিল ৯৮৮। তিনি লিখিত পরীক্ষায় ৭৮৭ নম্বর এবং পার্সোনালিটি টেস্টে ২০১ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র্যাঙ্কে ১৫৯তম স্থান লাভ করেন। পানওয়ার ২২ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


