‘মায়ের মুখ তো মায়ের মতোই হবে, মানুষ মা বা ইশ্বরী মা…’! দুর্গা প্রতিমা নিয়ে অগ্নিমিত্রার ‘ফতেয়া’, কী বললেন সুদেষ্ণা রায়?
দুর্গাপুজো নিয়ে চলমান বিতর্কে মুখ খুললেন পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে অকপট জবাব আসে, ‘মায়ের মুখ তো মায়ের মতোই হবে। সেটা মানুষ মা হতে পারে, ইশ্বরী মা-ও হতে পারে। মা আমাদের সবার।’
বাজল পুজোর ঘণ্টা! জানি জানি, পুজোর ঘণ্টা বাজতে এখনো অনেকটাই বাকি। কিন্তু ওই যে বাঙালি একটা একটা করে দিন গোনা শুরু করে দুর্গা মায়ের আসার মাস তিনকে আগে থেকেই। আর যখন মাত্র ১ মাস বাকি পুজোর, তখন ঘণ্টা বাজল বললে কী আর ভুল হয়! তবে এবারের পুজোর প্রস্তুতিতে একটু পিছিয়ে শহর কলকাতা। কারণ বর্তমান সরকারের নানান ‘ফতেয়া’য় কিছুটা যেন দিশেহারা বাঙালি। বিশেষ করে পুজোর খাবার আমিষ হবে না নিরামিষ, ঠাকুরের মুখ কেমন হবে, এসব নিয়েই তর্ক-বিতর্ক চলছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।

চলতি বিতর্কে মুখ খুললেন পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে অকপট জবাব আসে, ‘মায়ের মুখ তো মায়ের মতোই হবে। সেটা মানুষ মা হতে পারে, ইশ্বরী মা-ও হতে পারে। মা আমাদের সবার।’
সঙ্গে খাবার নিয়ে চলা বিতর্কেও নিজেরঅবস্থান স্পষ্ট করলেন। জানালেন, ‘আমি নিজে নিরামিষাশী, কিন্তু আমার আপত্তি নেই কেউ যদি আমিষ খায়।’ যদিও থিম পুজো না সাবেকি পুজো, এই নিয়ে প্রশ্নে জানালেন, এই আলোচনা নিজের ছোটবেলাতেও শুনেছেন। খুব একটা মাথা ঘামাতে তাই রাজি নন এসবে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের 'বিশেষ গাইডলাইন' নিয়ে শুরু হয় এই চর্চা। যদিও সম্প্রতি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে যে তাঁদের কথার ভুল ব্যখ্যা হয়েছে। দুর্গাপুজো নিয়ে কোনো ফতোয়া-নিদান নেই তাঁদের তরফে। পুজো কমিটিগুলি যে কোনো থিমই বেছে নিতে পারবে। শুধু তাঁদের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা কিংবা মা দুর্গার প্রতিমার বিকৃতি না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জুতো বা ছেঁড়া কাপড় দিয়ে মণ্ডপসজ্জা না করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুজো প্যান্ডেলের আশপাশে আমিষ খাওয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলাই হয়নি বলে দাবি। শুধু মণ্ডপের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অগ্নিমিত্রা পালও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেন মা দুর্গার মুখ ‘মা দুর্গার মতো’ই দেখতে হয়। ইদানীং থিমের চক্করে মায়ের রূপ ও মুখমণ্ডলের যে পরিবর্তন করা হয়, তার সমালোচনা করেন। বলেন, মা দুর্গাকে আমরা যেভাবে চিরাচরিত 'মা' রূপে দেখতে অভ্যস্ত, প্রতিমা যেন ঠিক সেই রকমই থাকে। নি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মায়ের মুখ কোনো সাধারণ মানুষের মতো করা যাবে না। মায়ের মুখ মায়ের মতোই হতে হবে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


