'অনীকদা মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হতে পারেন এই কথাটা বিশ্বাসই হয়নি…', পরিচালকের মৃত্যু প্রসঙ্গে যা বললেন সুদীপা

বুধবার দুপুরে কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় অনীক দত্ত তাঁর আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর এই মৃত্যু যে কোনও ষড়যন্ত্রমূলক নয় বরং স্বেচ্ছায় তা এক প্রকার উঠে এসেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে। এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।

Published on: May 27, 2026, 19:07:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বুধবার দুপুরে কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় অনীক দত্ত তাঁর আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। জানা গিয়েছে, তাঁর এই মৃত্যুর পর একটি চিঠি পেয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজও। সেখানে পরিচালককে একাই ছাদে যেতে দেখা গিয়েছিল। তাছাড়াও জানা গিয়েছে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, সেই জন্য চিকিৎসকের পরামর্শও নিচ্ছিলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।

অনীক দত্তর মৃত্যু প্রসঙ্গে যা বললেন সুদীপা
অনীক দত্তর মৃত্যু প্রসঙ্গে যা বললেন সুদীপা

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনীকদা কোনও ভাবে মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হতে পারেন এই কথাটা আমাদের বিশ্বাসই হয়নি। তবে শারীরিক অসুস্থতা এমন এক অসুস্থতা যা মানুষকে মানসিক ভাবে কুড়ে কুড়ে খায়। আর আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উপর এমন মানসিক ভাবে চাপ থাকে, আমার মনে হয় না অন্য কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম মানসিক চাপ নিতে হয়। আমাদের সারাক্ষণ বোঝাতে হয়, ’আমরা খুব ভালো আছি'। আমার পাকা চুল দেখা যাচ্ছে, এইভাবে আজ এখানে আসতে গিয়ে ভাবছি যে, 'এবাবা আমার পাকা চুলটা দেখা যাবে না তো?' এই সময়ও অনেক শিল্পী আছেন যিনি চুলটা ঠিক করছেন। কারণ আমাদের সব সময় দেখাতে হয় যে আমরা খুব ভালো আছি, সুখে আছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘না আমরা সব সময় ভালো থাকি না। আমাদের শরীর খারাপের মতো মন খারাপ হয়। আমরা ভীষণ ভাবে কুঁকড়ে যাই। আমরা ভীষণ ভীতু। আমাদের শামুকের মতো একটা খোলস আছে সেটার মধ্যে আমরা ঢুকে যাই। আমরা দেখাই আমিরা লড়ে নেব। কিন্তু লড়ে নিতে পাড়ছি কোথায়? এটাই তো তার প্রমাণ। যে মানুষটা আমাদের সব সময় বলে এসেছে, ’লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই', সেই মানুষটার লড়াই এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় কী করে? এটা একটা সামাজিক চাপ, সেটা আমাদের প্রতিনিয়ত নিতে হয়। প্রত্যেকটা শিল্পীকে জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে তাঁদের কতটা মানসিক চাপ নিতে হয়। এখানে আসতে গিয়েও অনেক শিল্পীকে তাঁর পোশাকের কথা ভাবতে হয়েছে। একটা মানুষকে শোকও ঠিক মতো করতে দেওয়া হয় না। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের সারাক্ষণ প্রমাণ দিতে হয় আমাদের শরীর খুব ভালো আছে, মানসিক স্বাস্থ্য খুব ভালো আছে। আমাদের কোনও রোগ হয়নি।'