৬০ বছর বয়সে আইবুড়ো নাম ঘোচান! ৭৫ দিনের প্রেম, আমিরের ‘মা’ বিয়ে করেন বিজ্ঞানীকে
‘লগান’ অভিনেত্রী সুহাসিনী মুলে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সিঙ্গল থাকার পর প্রথমবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পেশাদার কাজের সূত্রে ফেসবুকে এসে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অতুল গুর্তুর সাথে আলাপ ও বন্ধুত্ব হয় তাঁর।
আমির খানের ব্লকবাস্টার ছবি ‘লগান’ (Lagaan)-এ ভুবনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিলেন প্রবীণ জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী ও তথ্যচিত্র নির্মাতা সুহাসিনী মুলে। তবে শুধু রুপোলী পর্দায় নয়, তাঁর বাস্তব জীবনের গল্পও কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়। যেখানে সমাজের চেনা নিয়মে মনে করা হয় বিয়ের একটা নির্দিষ্ট বয়স থাকে, সেখানে সুহাসিনী সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবনের ৬০টি বসন্ত একা পার করার পর ছাদনাতলায় বসেছিলেন। তাও আবার ফেসবুকের হাত ধরে!

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই অভিনেত্রী নিজের জীবনের সেই ছকভাঙা মিষ্টি প্রেমের গল্প এবং কীভাবে এক ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল, তা নিয়ে অকপটে মুখ খুললেন।
‘৬০ বছর বয়স পর্যন্ত যোগ্য মানুষ খুঁজে পাইনি’
বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘকাল সিঙ্গল থাকা প্রসঙ্গে সুহাসিনী জানান, তিনি জোর করে বা লোকদেখানো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চাননি। তিনি বলেন:
'আমি জীবনের ৬০ বছর বয়সে প্রথমবার বিয়ে করি। তার আগে পর্যন্ত আমি আমার মনের মতো বা যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাইনি। আমার স্বামী একজন অত্যন্ত নামী বিজ্ঞানী। উনি যখন বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলেন, আমি তার বিন্দুমাত্র কিছু বুঝি না, তবে মানুষ হিসেবে উনি এক্কেবারে অসাধারণ।'
কাজের খোঁজে ফেসবুকে আগমন এবং বিজ্ঞানীর প্রেমে পড়া
সুহাসিনীর ফেসবুক জার্নি এবং তাঁর স্বামী বিজ্ঞানী অতুল গুর্তুর সাথে আলাপের গল্পটি বেশ মজাদার। কাজের নতুন সুযোগ বা পেশাদার যোগাযোগের খাতিরে এক সহ-অভিনেতার পরামর্শে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন সুহাসিনী।
ফেসবুক স্ক্রোল করতে করতে একদিন তাঁর সামনে অতুল গুর্তুর প্রোফাইল সাজেশনে আসে। অতুল তখন বিশ্বখ্যাত ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’ প্রজেক্টে ফিজিসিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। বিজ্ঞানের প্রতি ছোট থেকেই আগ্রহ থাকায় সুহাসিনী কৌতূহলবশত অতুলকে মেসেজ করে বসেন, ‘LHC কী?’
সেখান থেকেই শুরু হয় আলাপ। ইমেইল আদান-প্রদান চলাকালীন অতুল জানান যে তিনি একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছেন। প্রথমটায় সুহাসিনী হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন— ‘৬০ বছর ধরে যাকে পেলাম না, সে কি হুট করে এখন চলে আসবে?’
পরিচয় নিয়ে সতর্কতা ও ৭৫ দিনের মধ্যে বিয়ে!
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ফেক প্রোফাইলের ভিড়ে সুহাসিনী শুরুতে অতুলের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারেননি। এমনকি অতুল ফোন নম্বর চাইলেও তিনি সরাসরি না করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভালো মেয়েরা অচেনা মানুষকে নম্বর দেয় না।’
পরে নিজের এক বান্ধবীর আশ্বাসে এবং অতুলের কর্মক্ষেত্রের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের সাথে ছবি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর তিনি এগোন। দুজনের প্রথম দেখা হয় নভেম্বরের শেষে, আর দেখামাত্রই মন দেওয়া-নেওয়া পর্ব শেষ করে মাত্র ৭৫ দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১৬ই জানুয়ারি তাঁরা গাঁটছড়া বাঁধেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


