Sunny Leone: ‘তুমি উলঙ্গ হয়ে…’, সানি নীল ছবির নায়িকা শুনে কান্না মা-বাবার! কী বলেছিলেন মেয়েকে
সানি লিওনির পরিবার বিশেষ করে তাঁর মা যখন জানতে পেরেছিলেন তাঁর নীল ছবির কেরিয়ার নিয়ে, তখন কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তাঁদের? 'বেবি ডল' খ্যাত এই অভিনেত্রী তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন জীবনীভিত্তিক ওয়েব সিরিজ 'কারেনজিৎ কৌর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ সানি লিওনি'-তে।
বর্তমানে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে পিছনে ফেলে জীবনে অনেকখানিই এগিয়ে এসেছেন বলিউডের হট অ্যান্ড সেক্সি নায়িকা সানি লিওনি। বর্তমানে শুধু সিনেমা বা সিরিজে নয়, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর সঞ্চালক-বিচারক তিনি। তবে শুরুর দিকে বলিউডে জায়গা করে নেওয়া বিশেষ করে ভারতবাসীর মনে, অতটাও সহজ ছিল না। এমনকী সানি লিওনির পরিবার বিশেষ করে তাঁর মা যখন জানতে পেরেছিলেন তাঁর নীল ছবির কেরিয়ার নিয়ে, তখন তাঁর মাথায়ও ভেঙে পড়েছিল আকাশ। নিজের জীবনীভিত্তিক ওয়েব সিরিজ 'কারেনজিৎ কৌর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ সানি লিওনি'-তে তুলে ধরেছিলেন।

'বেবি ডল' খ্যাত এই অভিনেত্রী তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মা হতবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি নগ্ন হয়েছিলে?’ অভিনেত্রী জানান, তিনি জানতেন যে এই খবরটি তাঁর বাবা-মায়ের জন্য বড়সড় ধাক্কা হয়ে আসবে। নগ্ন ফটোশুট এবং অ্যাডাল্ট ফিল্মের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সাফল্য এলেও, পরিবারের কাছে সেই সত্য তুলে ধরা ছিল মারাত্মক কঠিন।
কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সানি লিওনির মা
সানি জানান, তিনি আশা করেছিলেন যে একটি ভালো খবর শেয়ার করলে হয়তো আঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমবে। তিনি তাঁর বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি 'পেন্টহাউস পেট অফ দ্য ইয়ার' (Penthouse Pet of the Year) নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১,০০,০০০ ডলার পুরস্কার জিতেছেন। কিন্তু সেই ঘোষণার পর সেখানে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
শেষমেশ তাঁর মা প্রশ্ন করেন, ‘তুমি নগ্ন হয়েছিলে?!’ সানি জানান, এরপরই তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। 'আমার পেশা কী, তা জানার পর মা খুশি হননি। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কেন তুমি ওই নামটা বেছে নিলে? তোমার ভাইয়ের নাম? আমি বলেছিলাম, জানি না, আমি ওটা এমনিই বেছে নিয়েছিলাম।’
বাবা বলেছিলেন বিষয়টিকে 'মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে'
সানি জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই জীবনের এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁর বাবা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তুমি আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ করোনি!’ তবে হ্যাঁ, সানির বাবা নিজের মেয়ের বেছে নেওয়া পেশাকে সমর্থন না করলেও, কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াননি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘কোনো বাবা-মা-ই তাঁর সন্তানের জন্য এমনটা চান না’!
তবে তিনি এটাও মেনে নিয়েছিলেন যে সানি নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছে। যদি সে এই পথ বেছেই নিয়ে থাকে, তবে তাকে এখন তা মেনে নিয়ে সফল হতে হবে।" সানি আরও বলেন যে, তাঁর বাবা কখনোই তাঁর এই পেশাকে সমর্থন করেননি। “কোনো বাবাই এমনটা চান না, কোনো বাবা-মাই এমনটা চান না।”
সানি স্বীকার করেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল অর্থ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সপ্তাহে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার আয় করা সম্ভব, যা অন্য যে কোনো চাকরির তুলনায় অনেক বেশি। ‘আমি আমার পরিবারের কথা ভাবিনি। তাদের কাছে কোনটা সঠিক বা ভুল, তা নিয়েও ভাবিনি। আমি কেবল আমার জীবিকা নির্বাহ করছিলাম।’, বলেছিলেন তিনি।
যদিও সানি এটাও মেনে নেন যে, তাঁর পরিবার খুব একটা দরিদ্র ছিল না। কিন্তু তাঁর বা তাঁর ভাইয়ের সব আবদার মেনে নেওয়ার মতো সামর্থও তাঁদের ছিল না। তিনি আর্থিক স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। আর বিশ্বাস করতেন নীল ছবির দুনিয়াই তা পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম উপায়।
একঘরে করা হয়েছিল সানির পরিবারকে
সানি জানান, তাঁর পেশার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে। যার ফলে তাঁর বাবা-মাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। ‘মা আমাকে বলেছিলেন যে বাবা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, তিনি কাঁদতেন। এমনকী আমি যখন মাকে বিষয়টি জানালাম, তিনিও খুব কেঁদেছিলেন। তাঁরা ভাবছিলেন যে, যদি তাঁরা আমাকে জোর করে থামানোর চেষ্টা করেন, তবে হয়তো আমার কৌতূহল আরও বেড়ে যাবে এবং আমি হয়তো সেই জগত থেকে আর ফিরে আসব না। আমার আত্মীয়রা এখনো আমার সঙ্গে কথা বলেন না।’, বলেছিলেন সানি।
বলিউডে সানির রাজত্ব
তবে আচমকাই সানি ঠিক করেন যে, নীল ছবির দুনিয়া ত্যাগ করবেন তিনি। এরপর তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘বিগ বস’-এ। ২০১২ সালে 'জিসম ২' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের পর থেকে সানি লিওনি হিন্দি সিনেমায় নিজের নাম করেন। 'রাগিনি এমএমএস ২', 'এক পহেলি লীলা', 'মাস্তিজাদে', 'ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড', 'কেনেডি'-র মতো সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এমনকী সানিকে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু আইটেম ডান্সেও যেমন 'বেবি ডল', 'দেশি লুক', 'লায়লা ম্যায় লায়লা'।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


