‘আমিও বিফ রোল খেয়েছি…’, গোমাংস কাণ্ডে বিশ্বজিৎ-এর পাশে সুরজিৎ, নীরব টলিউডকে ‘মেরুদণ্ডহীন ভাড়াটে’ বলে তীব্র আক্রমণ
‘যারা আজ মূক বধির, শুধু জায়গা মতো তোষামোদে যাদের কথা ফোটে, তারা সবাই বিফ খান। কিন্তু নির্লজ্জ চাটুকার…’, বিশ্বজিৎ-এর সমর্থনে বিস্ফোরক পোস্ট সুরজিতের।
বাংলাদেশে গিয়ে গোমাংস খাওয়ার কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র ট্রোলিং ও কটাক্ষের মুখে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এমনকি তাঁর ছবিতে ‘জুতোর মালা’ পরানোর মতো অপমানজনক ট্রোলেও ছেয়ে গেছে নেটপাড়া। তবে এই ঘটনায় এবার আর মুখ বুজে থাকলেন না টলিউডের আরেক অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (Surajit Bandyopadhyay)। বিশ্বজিতের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানানোর পাশাপাশি, এই অপমানের বিরুদ্ধে নীরব থাকা টলিপাড়ার সহ-অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের সোজা ভাষায় বিঁধলেন তিনি।

‘আমিও বিফ রোল খেয়েছি, ভালো পেলে আবার খাব!’
ফেসবুকে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট লিখে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সুরজিৎ। অভিনেতার বিরুদ্ধে কুৎসিত আক্রমণকারীদের 'অশিক্ষিত' ও 'আকাট' বলে বর্ণনা করে তিনি লেখেন, যারা প্রবীণ এই শিল্পীকে অপমান করছে, তারা আসলে বাংলার কুলাঙ্গার। শুধু সমর্থন জানানোই নয়, নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নিজেও দু-একবার ‘বিফ রোল’ খেয়েছেন এবং মাটন বেশি পছন্দ বলে নিয়মিত না খেলেও, ভালো গোমাংস পেলে ভবিষ্যতেও তিনি তা খাবেন। বৈদিক যুগের ঋষিমুনিদের যজ্ঞের পর গোমাংস ভক্ষণের ঐতিহাসিক তথ্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, অশিক্ষিত সমাজবিরোধীদের কাছে নিজের খাবারের কৈফিয়ত দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি লেখেন, ‘।অশিক্ষিত, আকাট গুলো জানে না হিন্দু ধর্মের নীতি নির্ধারক ঋষি বলে যাঁরা প্রতিভাত, তাঁরা সকলেই যজ্ঞের পর গোমাংস ভক্ষণ করতেন। যারা আজ মূক বধির, শুধু জায়গা মতো তোষামোদে যাদের কথা ফোটে, তারা সবাই বিফ খান। কিন্তু নির্লজ্জ চাটুকার।’
টালিউডের শিল্পীদের ‘ভাড়াটে পারফর্মার’ বলে তোপ
এই পুরো ঘটনায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রবীণ তারকা। ক্ষমতাশীলদের তোষামোদ করা ‘মূক ও বধির’ তারকাদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন: ‘আজ যদি বাংলার সমস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এর প্রতিবাদে মুখর না হন, তবে তাঁদের আমি ধিক্কার জানাই। বাবুর ইশারায় তাঁর উঠোনে নাচা ‘ভাড়াটে পারফর্মার’ বলেই নিজেদের গণ্য করবেন, আর নিজেদের শিল্পী বলে জাহির করবেন না!’
‘দেখালে মেরুদণ্ড এখনও কোনও কোনও বাঙালির আছে!’
তোষামোদকারী ও নির্লজ্জ চাটুকারদের ভিড়ে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী যেভাবে আইনি হুংকার দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন, তাঁর সেই আত্মসম্মান ও সাহসী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সুরজিৎ। প্রবীণ অভিনেতাকে অভিবাদন জানিয়ে তিনি লেখেন— 'সাব্বাস বিশ্বজিৎ দা, তুমি দেখালে মেরুদণ্ড এখনও কোনও কোনও বাঙালির আছে।'
সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সোজা ব্যাটে ছক্কা হাঁকানো পোস্টের পর গোমাংস বিতর্ক ও টলিউডের নিজস্ব বাক্স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


