যোগ দিলেন শুভেন্দু! উত্তম কুমারের জন্ম শতবার্ষিকীতে এক মঞ্চে জিৎ, দেব, প্রসেনজিৎ
টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, রঞ্জিত মল্লিক-সহ টলিউডের তারকারা।
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে শহর কলকাতাজুড়ে হয়েছিল বিশেষ আয়োজন। এদিন টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, রঞ্জিত মল্লিক-সহ টলিউডের তারকারা।

মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদানের পর মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ বাংলা তথা গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন। মহানায়ক উত্তম কুমার বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য শিল্পসৃষ্টি আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।’ উত্তম কুমারের মতো কিংবদন্তি শিল্পী সম্পর্কে নতুন করে কোনও মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘মহানায়ক উত্তম কুমার... এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী অভিনয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে জানাই শ্রদ্ধা। গত রবিবার #MannKiBaat-এ আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, সেটাও শেয়ার করছি।’
উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকীর আগে নিজের 'মন কি বাত' রেডিয়ো অনুষ্ঠানে উত্তম কুমারকে স্মরণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বার্তার একটি অংশও তিনি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে শেয়ার করেছেন। মোদী বলেন, প্রাথমিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও অভিনেতা হিসেবে না দমে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন উত্তম কুমার। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর কাজের কথা এবং সত্যজিৎ রায়ের 'নায়ক' ছবির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া অতীতে কলকাতা সফরে মহানায়কের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার স্মৃতিও স্মরণ করেন।
প্রসঙ্গত, মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু চার দিনের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বছরভর মহানায়ককে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর—টানা চার দিন ধরে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে। জন্মদিনের সকালে আহিরীটোলায় মহানায়কের জন্মস্থান এবং টালিগঞ্জে তাঁর কর্মস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি বিজলী সিনেমা হলের সামনেও রয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় নন্দন থেকে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম পর্যন্ত পদযাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে।
তবে চার দিনের অনুষ্ঠানেই শেষ নয়, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মহানায়ককে কেন্দ্র করে বছরভর নানা কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যেই নিউ টাউনে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা বিশেষ নজর কেড়েছে। এই প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রকেন্দ্রে আধুনিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম এবং ওপেন-এয়ার থিয়েটার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তম কুমারের অভিনীত ছবিও নতুন করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নন্দন-১, নন্দন-২ এবং রাধা স্টুডিওতে প্রদর্শিত হবে মহানায়কের একাধিক জনপ্রিয় ছবি। এই বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা হওয়ার কথা সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ দিয়ে।
জন্মশতবর্ষের মঞ্চে শুধু মহানায়ককে স্মরণ করাই নয়, তাঁর সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদেরও সম্মান জানানো হবে। তালিকায় রয়েছেন সবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে, শকুন্তলা বড়ুয়া এবং মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা।
মহানায়ককে স্মরণে রাখার এই আয়োজন ছড়িয়ে পড়ছে ডাক বিভাগের উদ্যোগেও। ইন্ডিয়া পোস্টের তরফে উত্তম কুমারকে উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক খাম ও ডাকটিকিট। সব মিলিয়ে জন্মশতবর্ষে অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সম্মাননা এবং স্মারক প্রকাশের মধ্য দিয়ে উত্তম কুমারের স্মৃতি ও অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


