মদ খেয়ে স্বরা ভাস্বরের দরজায় কড়া পরিচালকের! ক্রমাগত অশালীন আচরণ, করতে থাকেন জড়িয়ে ধরার দাবি
‘তনু ওয়েডস মনু’ ছবির সাফল্যের পর এক পরিচালকের কাছ থেকে অস্বস্তিকর আচরণের শিকার হয়েছিলেন স্বরা ভাস্কর! রাতের বেলা মদ্যপ অবস্থায় তাঁর দরজায় কড়া নেড়ে আলিঙ্গনের জন্য জোরাজুরি করেন ওই পরিচালক। রিয়্যালিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এ নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী।
বলিউডে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করকে। তবে কেরিয়ারের শুরুর দিকে এক পরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি এমএক্স প্লেয়ার ও প্রাইম ভিডিয়োর নতুন রিয়্যালিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এ সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, শুটিং চলাকালীন ওই পরিচালক তাঁর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণ করেছিলেন। এমনকী, মদ্যপ অবস্থায় একা রোম্যান্টিক দৃশ্যের মহড়া দেওয়ার জন্যও জোরাজুরি করেছিলেন তিনি।

পরিচালকের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্বরা
‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর একটি পর্বে স্বরা জানান, ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তনু ওয়েডস মনু’ ছবির সাফল্যের পরেই এই ঘটনা ঘটে। ওই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ছবিটির শুটিং চলার সময় পরিচালক প্রথমে তাঁকে বলেছিলেন, পরিচালকদের তাঁদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভালোবাসা উচিত। এরপর তাঁর চেহারার প্রশংসা করে কবিতা লিখে মেসেজ পাঠাতে শুরু করেন। স্বরা জানান, প্রথম দিকে তিনি বিষয়টিকে ভদ্রভাবেই সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন।
এরপর ছবির নায়ককে সঙ্গে নিয়ে একটি রোম্যান্টিক দৃশ্যের শুটিংয়ের কথা ছিল। সেই দৃশ্যের মহড়া একান্তে দেওয়ার জন্য স্বরাকে বলেন পরিচালক। কিন্তু তাতে রাজি হননি অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নায়ক ও চিত্রগ্রাহককে সঙ্গে নিয়েই মহড়া দিতে চান।
স্বরা জানান, যে গেস্টহাউসে তাঁরা ছিলেন, সেখানে একমাত্র মহিলা ছিলেন তিনি। পরে তিনি দেখেন, পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক একসঙ্গে মদ্যপান করছেন। তাঁদের মদের বোতলও প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, ‘একজন তরুণী, যার বয়স কুড়ির কোঠার গোড়ায়, সে কেন দু’জন মদ্যপ পুরুষের সঙ্গে একা মহড়া দেবে? আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব সেই জায়গা ছেড়ে চলে যাই।’
মাঝরাতে দরজায় কড়া নেড়ে আলিঙ্গনের দাবি
তবে স্বরার দাবি, এরপর পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। রাতে পরিচালক ক্রমাগত তাঁর ঘরের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর মনে হচ্ছিল, পরিচালক বুঝি দরজা ভেঙেই ফেলবেন। শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতেই মদ্যপ অবস্থায় টলতে টলতে তাঁর সামনে দাঁড়ান ওই পরিচালক। এরপর স্বরার কাছে আলিঙ্গন চান তিনি।
অভিনেত্রী জানান, তিনি স্পষ্টভাবে আলিঙ্গন করতে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরিচালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অসংলগ্নভাবে কথা বলতে বলতে তাঁকে জোরাজুরি করতে থাকেন। স্বরা বলেন, ‘আমি ওঁর মুখের উপরেই বলেছিলাম যে উনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এর বেশি কিছু করার ছিল না আমার। কারণ, উনিই ছবির পরিচালক।’
স্বরা ভাস্করের কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন
২০০৯ সালে ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন স্বরা ভাস্কর। তবে ২০১১ সালে ‘তনু ওয়েডস মনু’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘রাঞ্ঝনা’, ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ এবং ‘ভিরে দি ওয়েডিং’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী।
২০২৩ সালে রাজনীতিক ফাহাদ আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন স্বরা। তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে, নাম রাবিয়া। বর্তমানে ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এই শোয়ের সঞ্চালনার দায়িত্বে রয়েছেন বীরেন্দ্র সহবাগ। প্রতিদিন দুপুর ১২টায় প্রকাশ্যে আসছে এই শোয়ের নতুন পর্ব।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


