Swarnava Sanyal: মায়ের সঙ্গে ছবি দেওয়ায় কুরুচিকর আক্রমণের মুখে স্বর্ণাভ! আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি অভিনেতার মায়ের
মাতৃ দিবসের মতো একটি পবিত্র দিনের ছবি ঘিরে যে এমন কুরুচিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি অভিনেতা স্বর্ণাভ ঋত সান্যাল। বর্তমানে জি বাংলার ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকের পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি দর্শকদের বেশ পছন্দের।
সম্পর্কের পবিত্রতা কি তবে স্রেফ ক্যামেরার লেন্সে বন্দি? না কি নেটিজেনদের একাংশের চোখটাই বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে? মাতৃ দিবসের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে নিজের মায়ের সঙ্গে কিছু আদুরে ছবি পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা স্বর্ণাভ ঋত সান্যাল। কিন্তু সেই ছবি ঘিরেই শুরু হলো অশালীন আক্রমণ। অভিযোগ, কিছু নেটিজেন ছবিগুলিকে বিকৃত মানসিকতায় ব্যাখ্যা করে অভিনেতা ও তাঁর মা-কে ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’র তকমা দিয়েছেন। চুপ করে বসে থাকার পাত্র নন স্বর্ণাভর মা। সরাসরি অপরাধীদের শ্রীঘরে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

বিতর্কের সূত্রপাত:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে জনৈক এক নেটিজেন স্বর্ণাভ ও তাঁর মায়ের ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘ডিজিটাল যুগের মা ছেলে... এমনভাবে ছবি কেন তুলতে হবে যেটা দেখে মা-ছেলের থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা বেশি মনে হয়!’ মুহূর্তের মধ্যে সেই পোস্টের নিচে জমা হয় একগুচ্ছ নোংরা মন্তব্য। অভিনেতার ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি অনেকে।
গর্জে উঠলেন স্বর্ণাভকর মা:
এই নোংরামি সহ্য করার সীমানা ছাড়িয়ে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পালটা কড়া পোস্ট করেন অভিনেতার মা,মৌসুমী। স্পষ্ট জানান, তিনি ইতিমধ্যই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর পোস্ট থেকে স্রেফ কিছু নির্দিষ্ট ছবি বেছে নিয়ে সেগুলিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ছেলের ছোটবেলার ছবিগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে— যাতে বিতর্ক তৈরি করে টাকা উপার্জন করা যায়।
আইনি হুঁশিয়ারি:
মৌসুমী দেবী লেখেন, ‘পারমিশন ছাড়া কারও পার্সোনাল পোস্ট নিয়ে এইভাবে শেয়ার করা যে কতটা ইললিগাল, সেটা এবার বুঝতে পারবেন। যা ইচ্ছা তাই পোস্ট করা যায় নাকি? এত বড় নোংরা মেন্টালিটির একটা মানুষকে আপনারা অবশ্যই রিপোর্ট করবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, আগে ইংরেজিতে সতর্ক করলেও এবার বাংলায় লিখে বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি আর এক চুলও ছাড় দেবেন না।
টলিপাড়ার প্রতিক্রিয়া:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং বা হেনস্থা নতুন কিছু নয়, কিন্তু মা-ছেলের সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এমন কুরুচিকর আক্রমণ টলিপাড়ার অনেককেই স্তম্ভিত করেছে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। এখন দেখার, আইনি পদক্ষেপের পর এই ডিজিটাল ‘বুলিং’ বা হেনস্থার কারিগররা মাথা নত করেন কি না।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


