Swastika Mukherjee: রচনাদির গুনগান গেয়ে শুরু করেছেন শো, তবু জুটছে কটাক্ষ! ইঙ্গিতে জবাব স্বস্তিকার?
‘আমার হাতে পুরো কন্ট্রোল আছে…’, রচনার জায়গায় স্বস্তিকাকে নতুন দিদি হিসাবে মেনে নিতে না-রাজ অনেকেই। নিন্দকদের গানে গানে ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দিদি নম্বর ১-এর নতুন সঞ্চালিকার।
বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’ (Didi No. 1)। বিগত ১৬ বছর ধরে এই শো-এর মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন জুগিয়েছেন সকলের প্রিয় ‘দিদি’ রচনা ব্যানার্জী (Rachana Banerjee)। তবে ১০ম সিজনের শুরুতেই ঘটে এক মস্ত বড় পরিবর্তন। মাত্র ২ দিনের নোটিশে রচনাকে গুরুদায়িত্ব থেকে হটিয়ে দেয় চ্যানেল। সেই নিয়ে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন রচনা।

রচনার জায়গায় সঞ্চালিকার দায়িত্ব পেয়েছেন টলিপাড়ার স্পষ্টবক্তা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। শো-এর শুরুতেই স্বস্তিকা নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং রচনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এত জনপ্রিয় একটা শো, ১৬ বছর ধরে চলছে দিদি নম্বর ১। এত বছর ধরে আপনাদের এই শো-তে মনোরঞ্জন দিয়েছেন রচনা ব্যানার্জি। আমার খুব প্রিয় দিদি, আমার খুব প্রিয় মানুষ। উনি ওঁর চেষ্টায় এই শো-টাকে এত বড় একটা জায়গায় নিয়ে গেছেন। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করব।’
তবে রচনা ব্যানার্জীর সেই চেনা ম্যাজিক ও দীর্ঘ ১৬ বছরের অনস্ক্রিন ইমেজকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না দর্শকদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বস্তিকাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল তুলনা ও ট্রোলিং।
‘রচনাই সেরা ছিল’— ট্রোলের মুখে স্বস্তিকা
জি বাংলার অফিসিয়াল পেজ হোক বা স্বস্তিকার নিজস্ব প্রোফাইল— কমেন্ট বক্সে নজর রাখলেই দেখা যাচ্ছে দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক নেটিজেনই সরাসরি মন্তব্য করছেন যে, রচনার জায়গায় তাঁরা স্বস্তিকাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ‘রচনাই ভালো ছিল’, ‘দিদি নম্বর ১ মানেই রচনা ব্যানার্জী’— এমন সব নেতিবাচক মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটপাড়া। কেউ কেউ তো কটাক্ষ করে বলতে ছাড়েননি, ‘এতদিন দিদি নম্বর ১ হত, এবার বৌদি নম্বর ১’। এমনিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো অন্যায্য ট্রোল বা কুরুচিকর মন্তব্যের সপাট ও কড়া জবাব দিতে ওস্তাদ স্বস্তিকা। কিন্তু এই ট্রোলিং নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই এক আশ্চর্য নীরবতা পালন করছিলেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া রিলে ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব ‘ভেবলি’-র
সরাসরি কোনো কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে না গিয়ে নিজের চেনা মেজাজেই ইঙ্গিতে ট্রোলারদের মুখ বন্ধ করলেন টলিপাড়ার আদরের ‘ভেবলি’। সম্প্রতি ‘দিদি নম্বর ১’-এর সেট থেকেই একটি জমকালো রিল (Reel) ভিডিও পোস্ট করেছেন স্বস্তিকা।
ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল ট্রেন্ডিং গান ‘লুস কন্ট্রোল’ (Loose Control)। তবে গানের চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে ওঁর দেওয়া চমৎকার ক্যাপশনটি। স্বস্তিকা কড়া ভাষায় ও আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখেছেন, ‘সম্পূর্ণ কন্ট্রোল আমার হাতেই আছে’।
রচনার জুতোয় পা গলিয়েও বিনয়ী স্বস্তিকা জয় করছেন মন
সমালোচনা যতই হোক না কেন, দর্শকদের একটা বড় অংশ কিন্তু স্বস্তিকার এই বিনয়ী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। প্রথম দিন থেকেই রচনার প্রতি কোনো রকম ঔদ্ধত্য না দেখিয়ে যেভাবে তিনি এই শো-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তা প্রশংসনীয়। এই রিল ভিডিওর ক্যাপশনের মাধ্যমে স্বস্তিকা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন যে, দর্শক আসনে কে কী আলোচনা করছেন বা ট্রোল করছেন, তাতে ওঁর কিছু যায় আসে না। শো-এর রাশ এবং পরিস্থিতি— দুটোই ওঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তিনি নিজের স্টাইলেই ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


