Swastika As Didi No 1: ‘রচনার এবার বিশ্রামের প্রয়োজন’, নতুন দিদি স্বস্তিকাকে জানাল নেটিজেন, মিলল জবাব
জল্পনায় সিলমোহর পড়েছে আগেই, এবার দিদি নম্বর ১-এর সঞ্চালিকা হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দীর্ঘতম রিয়্যালিটি শো জি বাংলার ‘দিদি নম্বর ১’ (Didi No. 1)। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘দিদি নম্বর ১’ নামটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। তবে এবার আসতে চলেছে এক মস্ত বড় রদবদল। আসন্ন ১০ নম্বর সিজন (Season 10)-এ সঞ্চালিকার ভূমিকায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় দেখা যাবে টলিউডের ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে।

টেলিভিশনের পর্দায় এই বড় পরিবর্তনের খবর আসতেই সাধারণত নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ‘দিদি’কে সাদরে গ্রহণ করেছেন অধিকাংশ দর্শক। ফ্যানদের সেইসব ভালোবাসা ও কমেন্টের জবাবে এবার মন খুলে মুখ খুললেন স্বস্তিকা নিজেই।
‘২০ বছরের একটা শো, দায়িত্ব অনেক বড়’— স্বস্তিকা
ইনস্টাগ্রামে এক অনুরাগী মন্তব্য করেন যে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন, কারণ টানা ১০ বছর ধরে এই ধরণের একটি হেক্টিক শো চালানো কঠিন। সেই কমেন্টের জবাবে অত্যন্ত বিনম্রভাবে শো-এর ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে স্বস্তিকা লেখেন,'আমি সবসময়ই আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি আপনারা এবং এই শো-এর সমস্ত অন্ধ ভক্তরা এটি উপভোগ করবেন। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই শো-টি কিন্তু ১০ বছর নয়, টানা ২০ বছর ধরে চলছে! তাই এটা একটা মস্ত বড় দায়িত্ব।'
‘এতদিনে মেয়েদের কথা ভাবার মতো মানুষ এল’
স্বস্তিকাও নারী অধিকার ও মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সুপরিচিত। তাই এক নেটিজেন কমেন্ট সেকশনে লেখেন, ‘ওএমজি, লাভ ইউ স্বস্তিকাদি! এতদিনে সত্যি যে মেয়েদের কথা ভাবে, তেমন একটা মানুষকে জি বাংলা ‘দিদি নম্বর ১’ হিসেবে নিয়ে এল।’ ভক্তের এই সুন্দর মূল্যায়নে আপ্লুত হয়ে স্বস্তিকা হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে লেখেন, ‘এই প্রশংসার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’ অন্যান্য অনুরাগী এবং অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সহ ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরাও স্বস্তিকাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনি প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান।

সুতি শাড়ি আর মিনিমাল মেকআপের সাজে স্বস্তিকা?
ফ্ল্যাশব্যাকের গ্ল্যামারাস সাজের বাইরে দিদি নম্বর ১-এর মঞ্চে স্বস্তিকাকে কেমন লুকে দেখা যাবে, তা নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল কম নয়। এক অনুরাগী পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, ‘নতুন হোস্ট হিসেবে স্বস্তিকাকে দেখার জন্য দারুণ এক্সাইটেড। ও যদি শো-তে নিজের সেই চিরপরিচিত সাধারণ সুতির শাড়ি (cotton saree) এবং মিনিমাল মেকআপ লুকটা ধরে রাখে, তবে জাস্ট ফাটিয়ে দেবে!’
মায়ের শাড়িতেই সাজবার ইচ্ছে রয়েছে স্বস্তিকার। স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। নতুন ভূমিকায় নিজেকে দেখতে এক্সাইটেড স্বস্তিকা নিজেও।
এতদিন ধরে ‘দিদি নম্বর ১’ মূলত প্রতিদিন বিকেলে সম্প্রচারিত হতো, কেবল রবিবারের স্পেশাল এপিসোডটি রাতে দেখা যেত। তবে এবার থেকে বিকেলের সেই চেনা স্লট অতীত। নতুন সিজন থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচারিত হবে এই শো। মেগা সিরিয়ালের মতোই এবার রাতের প্রাইম টাইমে ড্রয়িংরুম কাঁপাতে আসছেন দিদিরা।
৫ বা ৪ নয়, এবার এক ফ্রেমে ‘১০ জন’ প্রতিযোগী!
এতদিন পর্যন্ত ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চে প্রতিটি পর্বে সাধারণত ৪ জন বা ৫ জন প্রতিযোগী নিয়ে খেলা হতো। তবে ১০ নম্বর সিজনে প্রতিযোগীদের সংখ্যা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এবার থেকে প্রতিটি পর্বে একসঙ্গে অংশ নেবেন ১০ জন প্রতিযোগী। প্রতিযোগীর সংখ্যা এত বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই গেম ফরম্যাট এবং খেলার নিয়মেও আসতে চলেছে বিস্তর রদবদল ও টানটান উত্তেজনা।
সপ্তাহের দিনগুলিতেও বড় বদল
আগে শনি এবং রবিবার সহ সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দিদিদের লড়াই দেখার সুযোগ পেতেন দর্শকরা। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে আর শনি এবং রবিবার করে এই রিয়্যালিটি শো দেখা যাবে না। ‘দিদি নম্বর ১’ এবার থেকে সম্প্রচারিত হবে সপ্তাহে মাত্র ৫ দিন (সোম থেকে শুক্র)।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে নতুন সিজন?
জি বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি সিজন অর্থাৎ ‘দিদি নম্বর ১’ সিজন ৯-এর শেষ পর্বটি সম্প্রচারিত হবে আগামী ২৮ জুন। আর তার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৯ জুন থেকে নতুন সঞ্চালিকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে, সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে ও নতুন সময়ে পথ চলা শুরু করবে ‘দিদি নম্বর ১’ সিজন ১০।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


