‘যাঁর উদ্দেশে নামাজ,তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি না বলা যায় না কেন?' শাবানার ‘নামাজ পড়িনা’ প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তসলিমা

‘নামাজ না পড়লেই কেউ নাস্তিক হয়ে যান না। আল্লাহয় বিশ্বাস রেখেও কেউ আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে পারেন… আমার প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে, যাঁরা আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না, অথচ নিজেদের নাস্তিক বলতে দ্বিধা করেন’, বিস্ফোরক তসলিমা।

Published on: Oct 23, 2026, 14:00:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

সম্প্রতি অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও তাঁর স্বামী জাভেদ আখতারের নামাজ না পড়া এবং ধর্মীয় বিধিবিধান না মানার প্রসঙ্গে খোলামেলা স্বীকারোক্তি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শাবানার সাফ কথা, ‘আমি মুসলিম কিন্তু নামাজ পড়ি না’। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই এবার সমাজ মাধ্যমে এক বিস্ফোরক ও দীর্ঘ পোস্ট করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মানুষের বিশ্বাস, ধর্মীয় আচরণ এবং সমাজে ‘নাস্তিক’ পরিচয় দেওয়ার ভয় ও দ্বিধা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

‘যাঁর উদ্দেশে নামাজ,তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি না বলা যায় না…?' প্রশ্ন তসলিমার
‘যাঁর উদ্দেশে নামাজ,তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি না বলা যায় না…?' প্রশ্ন তসলিমার

বিশ্বাস ও আচরণের অমিল এবং নাস্তিকদের দ্বিধা:

ধর্মের নিয়ম না-মানা বনাম অবিশ্বাসী: তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অনেক মুসলমান নামাজ পড়েন না, রোজা রাখেন না, এমনকি নিষিদ্ধ খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলেও নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেন। এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। কারণ, নামাজ না পড়লেই কেউ নাস্তিক হয়ে যান না; ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখেও অনেকে আদেশ অমান্য করতে পারেন।

আসল প্রশ্ন অবিশ্বার্থীদের নিয়ে: লেখিকার মূল প্রশ্ন কিন্তু শুধু নিয়ম না-মানা মানুষদের নিয়ে নয়। তাঁর প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে, যাঁরা খোদ আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না, অথচ প্রকাশ্যে নিজেদের ‘নাস্তিক’ বলতে দ্বিধা বোধ করেন।

সমাজে ভয়, পারিবারিক স্মৃতি ও ভণ্ডামি:

তসলিমা প্রশ্ন তোলেন— ‘নামাজ পড়ার প্রয়োজন দেখি না’ বলা গেলেও ‘যার উদ্দেশে নামাজ, তাঁর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করি না’—এই সত্যটা বলতে মানুষের এত ভয় কেন? ভয়টা কি আল্লাহকে, নাকি সমাজে থাকা তাঁর ভক্তদের?'

অনেকের কাছে মুসলিম পরিচয়টি শৈশবের স্মৃতি, পরিবার, প্রিয় খাবার বা সংস্কৃতির বন্ধন হতে পারে। কিন্তু সেই অতীত বা স্মৃতিকে ভালো বাসতে গিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অভিনয় কেন করতে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন লেখিকা।

অনেকেই নিজের অবিশ্বাস প্রকাশ করতে পারেন না নিরাপত্তার অভাবে। পরিবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, জীবিকা বিপন্ন হওয়া বা শারীরিক হামলার ভয়ে যদি পরিচয় গোপন রাখতে হয়, তবে তা ব্যক্তির ভীরুতা নয় বরং সমাজের অসহিষ্ণুতা। যে সমাজ সত্য বলতে দেয় না, সেটিই ভণ্ডামির কারখানা খুলে বসে আছে।

ধর্মীয় পরিচয় কি আমৃত্যু বয়ে বেড়ানোর আদেশ?:

তসলিমা নাসরিন পোস্টের শেষে দাবি জানান যে, প্রতিটি মানুষের নির্ভয়ে নিজের মতামত জানানোর অধিকার থাকা উচিত। ‘আমি নাস্তিক, ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না তাই নামাজও পড়ি না’—এই কথাটি কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি নয়, বরং এটি নিজের চিন্তার প্রতি সততা। জন্মের সময় ঘাড়ে চাপানো ধর্মীয় পরিচয় আমৃত্যু বয়ে বেড়ানোর বিষয় হতে পারে না বলে মত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More