‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে, সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে’, পোস্ট তসলিমার! ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন’, সচেতন করল নেটপাড়া
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা করেছিলেন পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। আর এই নিয়ে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। তারই মাঝে তসলিমা নাসরিনের থেকে এল একটি বিতর্কিত পোস্ট।
ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতা এখন গোটা দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা করেছিলেন। বিমান নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলেছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। তবে হাল ছাড়েননি স্মিথ। গুরুতর আহত হওয়ার পরও সক্ষম হন ককপিটের দরজা খুলে দিতে। সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন স্মিথ এরপর। তাতে ছুটে আসেন যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা। এরপর হামলাকারীকে সবাই মিলে কাবু করে। এরপর বিমানে থাকা আরও পাইলটরা পরে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলাকারী সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমামের নাগরিক। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাংশ ধর্ম টেনে একাধিক পোস্ট করেছে। আর যাতে গলা মেলাতে দেখা গেল বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিকেও।
তসলিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে…’! আর লেখিকার কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখলে দেখা যাবে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বিমানে ওঠার আগে পাইলটের ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে নেওয়া উচিত।’ আরেকজন লেখেন, ‘অবিশ্বাসের ছায়া নিজেরাই ছড়াচ্ছে’। তৃতীয় কমেন্টে লেখা, ‘যারা মনে করে বিধর্মীদের হত্যা করতে পারলে জান্নাত কনফার্ম, তারা জান্নাতের লোভে যে কোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই ভয় লাগাটা স্বাভাবিক।’
তবে একাংশ তসলিমাকে সাবধান করে দেন যে, তাঁর কথা থেকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে তাঁর মতো একটা মানুষের এমন পোস্ট করা উচিত নয়। একটি কমেন্ট পড়ে, ‘এ কি এভাবে আপনি কথা বলতে পারেন না । আপনি ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছেন’। আরেকজন আবার তসলিমাকে পালটা কটাক্ষ করে কমেন্ট করেন, ‘ভারত সরকারকে বলুন একটা প্রাইভেট জেট আর পার্সোনাল হিন্দু পাইলট আপনাকে দিতে।’
প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরে তসলিমা নাসরিন ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘লজ্জা’ উপন্যাস এবং পরবর্তীতে আত্মজীবনীর অংশ ‘দ্বিখণ্ডিত’ বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিক্রিয়া এতই তীব্র ছিল যে, মৌলবাদী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে বাংলাদেশ থেকে তাঁকে নির্বাসিত করা হয়। এমনকী বহু বছর পশ্চিমবঙ্গেও তাঁর পা রাখার অধিকার ছিল না। যদিও তসলিমা ২০২৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, কলকাতায় এসেছিলেন। ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে এসেছিলেন। চলতি মাসেও তাঁর ফের কলকাতায় আসার কথা রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


