বিজেপি-র আমলে ওয়াপসি কলকাতায়! দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল ভাঙচুর করা নিয়ে কী বললেন তসলিমা নাসরিন?
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর আবহে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বামেদের (সিপিআইএম, সিপিআইএমএল এবং এসইউসিআই) বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উৎসবের মরশুমে রাজ্য রাজনীতি মারাত্মকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিনও।
বামেদের বুকস্টলকে কেন্দ্র করে পুজোর মধ্যেও ধুন্ধুমার গোটা বাংলা। কাঠগোড়ায় বিজেপি। কোনো এলাকায় রাতের অন্ধকারে হামলা, আবার কোথাও বজরং দল নিয়ে হেনস্থার অভিযোগ তোলা হচ্ছে বামেদের তরফে। এবার নাম না করে ভাঙচুর করা-র প্রতিবাদে মুখর হলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তসলিমা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ‘পুজোর কলকাতায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের খবর পড়ে মন খারাপ হল। যাদবপুরে স্টল সরাতে বুলডোজার আনার কথা পড়লাম। বাগুইআটিতে বই খালের জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বামপন্থীদের সমস্ত মতের সঙ্গে একমত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁদের রাজনীতির সমালোচনা করারও যথেষ্ট অবকাশ আছে। আমি তো খুব সমালোচনা করি তাঁদের রাজনীতির। কিন্তু তাঁদের বই বিক্রি করার অধিকার, মানুষের সেই বই কেনার ও পড়ার অধিকার নিশ্চয়ই আছে। এই অধিকার স্বীকার করতে কাউকে বামপন্থী হতে হয় না। অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা মানছি, তা বোঝা যায় সেই মতটি আমার অপছন্দের হলে।’
‘পুজো তো শুধু প্রতিমা আর মণ্ডপ দেখার উৎসব নয়। আড্ডা, গান, নতুন পত্রিকা, বই —এসবও পুজোর আনন্দের অংশ। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কেউ বইয়ের স্টলে দাঁড়াবেন, দুটো পাতা উল্টে দেখবেন, পছন্দ হলে কিনবেন। এই সামান্য আনন্দটুকুর জায়গা তো থাকা উচিত। কোনও স্টলের অনুমতি বা অবস্থান নিয়ে সমস্যা থাকলে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা যায়। পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থাও করা যায়। নিয়ম থাকলে তা সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করাও যায়। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, তাঁর বই নষ্ট করা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আশা করছি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। প্রশাসন নিশ্চিত করবে, মানুষ নির্বিঘ্নে বই বিক্রি করতে পারবেন, কিনতে পারবেন। বই হাতে নিয়ে মানুষকে বইয়ের স্টল পাহারা দিতে হবে না। যে শহর বইকে এত ভালবাসে, সেই শহরে বইয়ের স্টলগুলো নিরাপদ থাকুক।’, আরও লেখেন তসলিমা নিজের পোস্টে।
তসলিমার পোস্টে মন্তব্য করে এক নেটিজেন লিখলেন, ‘কাদের কথা বলছেন? বিজেপির সঙ্গে শিক্ষার কোনও সম্পর্ক আছে? বইয়ের স্টল ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে আসে, পৃথিবীতে কোথাও শুনেছেন? একটা অসভ্য বর্বর দল, শুধু বিদ্বেষ ছড়ায় আর বিভাজনে মদত দেয়। হয়তো এই সব কথা আপনার ভালো লাগবে না কিন্তু এটাই কঠিন সত্য। পৃথিবীর ইতিহাসে কখনও শুনেছেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার জন্য দেশের মানুষকে গ্রেফতার করছে দেশের সরকার? এদের জন্য কোনও ঘৃণাই যথেষ্ট নয়।’
আরেকজন লেখেন, ‘পরিবর্তন ২.০ — ওরা যত বেশি পড়ে, তত বেশি জানে, তত কম মানে।’ অন্য কমেন্টে লেখা হয়, ‘পৃথিবীর কোনো মৌলবাদী দলই ভালো না । এই চক্করে যারা পড়েছে তাদের শেষ পরিনীতি ভালো হয় না’।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


