Jeetu-Anik: ‘মানসিকভাবে খুন করা হয়েছে…’, শেষযাত্রায় অনীক দত্তকে কী প্রমিস করলেন ‘সত্যজিৎ’ জীতু?

দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অনীক দত্ত। তাঁর ছবি আটকে, তাঁকে তিলে তিলে শেষ করেছে কিছু প্রভাবশালী। পরিচালকের মৃত্যুর পর বিস্ফোরক জীতু কমল। 

Published on: May 29, 2026, 20:05:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শ্মশানের আগুন তখন প্রায় নিভে এসেছে। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্য। প্রথমে নন্দন, তার পরে এনটিওয়ান (NT-1) স্টুডিয়োয় শায়িত রাখা হয়েছিল প্রয়াত পরিচালককে। বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু থেকে শুরু করে টলিউডের বিশিষ্টজনেরা হাজির হয়েছিলেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।

‘মানসিকভাবে খুন করা হয়েছে…’, অনীক দত্তকে কী প্রমিস করলেন ‘সত্যজিৎ’ জীতু?
‘মানসিকভাবে খুন করা হয়েছে…’, অনীক দত্তকে কী প্রমিস করলেন ‘সত্যজিৎ’ জীতু?

ভিড়ের মাঝে হাজির ছিলেন পরিচালকের তৈরি সত্যজিৎ রায় অর্থাৎ অপরাজিত ছবির নায়ক জীতু কমলও। তিনি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্টুডিওর বাইরে। থমথমে মুখ, চোখেমুখে ক্লান্তি আর হাজারো প্রশ্ন মনে। শ্মশানে দাঁড়িয়ে অবশেষে ক্ষোভ উগরে দিলেন জীতু। সাফ জানালেন, অনীক দত্তকে আসলে মানসিক ভাবে খুন করা হয়েছে।

ছবি আটকে মানসিক অত্যাচার, বিস্ফোরক জীতু

অনীকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন জীতু। গত দু’দিন ধরে চোখের পাতা এক করতে পারেননি অভিনেতা। প্রিয় পরিচালকের শেষযাত্রায় এসে টলিপাড়ার ভেতরের নোংরা রাজনীতি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। জীতু বলেন, মানসিক ভাবে খুন করা হল মানুষটাকে। সামনে থেকে দেখেছি, কী ভাবে ছবি আটকে দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে ওঁর ওপর। কোনও প্রযোজক কাজ করতে এলে তাঁকে পরিষ্কার বলে দেওয়া হত যেন অনীকদার সঙ্গে কাজ না করেন। ইন্ডাস্ট্রির অনেক মানুষ তৎকালীন সরকারকে খুশি করতে গিয়ে অনীকদার বিরুদ্ধে কথা বলতেন।

জীতু আরও যোগ করেন, ওই দলটা অবশ্য আমার বিরুদ্ধেও বলে। তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। কিন্তু অনীকদাকে যে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি।

প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক, নতুন সরকারের কাছে আর্জি

পরিচালকের মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মায়াকান্না ও ভণ্ডামিকেও একহাত নিয়েছেন জীতু। তিনি ক্ষোভের সুরে জানান, পাপ-পুণ্য সবকিছুর খতিয়ান দিয়ে শেষে এই শ্মশানেই সবাইকে আসতে হবে। একটাই অনুরোধ করছি, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক। রাজ্যে নতুন সরকারের কাছে আর্জি, এই প্রতিহিংসা যেন এবার বন্ধ হয়। অনেকে এখন অনীকদার খুব প্রশংসা করছেন, কিন্তু তাঁরাই একদিন ওঁর সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন।

মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেও নাকি নতুন কাজ নিয়ে জীতুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন অনীক। কিন্তু সেই কাজ আর করা হলো না।

আটকে থাকা ছবি মুক্তির অনুরোধ

বিপ্লবের জয় হোক— এই আশাতেই এখন বুক বাঁধছেন পর্দার সত্যজিৎ। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের কাছে হাতজোড় করে এক বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন জীতু। তিনি বলেন, অনীকদার যে ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যে ছবি বাংলায় চলতে দেওয়া হয়নি, সেই ছবিগুলো যাতে এবার অন্তত দর্শকদের দেখানো যায়, তার ব্যবস্থা করা হোক। এমনটা হলে অন্তত ওপর থেকে দেখে উনি বলবেন, বিপ্লবের জয় হল।

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা সরকার বদল হওয়ার পর অনেক প্রযোজক নাকি নতুন করে অনীক দত্তর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, নতুন ইনিংস শুরু করার আগেই চিরতরে ক্যামেরা ক্লোজড হয়ে গেল টলিউডের অন্যতম প্রতিবাদী পরিচালকের। আর জীতুর এই বিস্ফোরক মন্তব্য যেন প্রমাণ করে দিল, অনীকের বিদায় শুধু এক জন পরিচালকের চলে যাওয়া নয়, এক দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাসের করুণ অবসান।

ফিরবে সত্য়জিৎ?

এর আগে ফেসবুক পোস্টেও বিস্ফোরক জীতু কমল। অনীক দত্তর শেষযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ উগরে তিনি জানিয়েছিলেন- ‘যারা অনীক দত্ত’র পিঠপিছু প্রচুর নিন্দে করতেন, গালি দিতেন,প্রতিনিয়ত ওর কাজগুলোকে নষ্ট করেছেন, মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছেন, তারা দয়া করে আসবেন না। শুধু শুধু অভিশাপ কুড়িয়ে, বাড়ি ফেরার কোনও মানে হয় না। পাপ-পূণ্য সবকিছুর বিচার এখানেই করে যেতে হবে।তাই,নিজের বাড়িতে বসেই না হয়, অনীক দার কাছে একবার মন থেকে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। ভয় পাবেন না ঈশ্বর ক্ষমাশীল’।

একই সঙ্গে জীতু লিখেছিলেন, ‘ফিরবে তোমার সত্যজিৎ। তোমার শেষ ইচ্ছে পূরণ হবেই, তুমিই অপরাজিত অনীক।’

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More