জোয়ার ভাঁটা-য় অনস্ক্রিন ননদ চাঁদনীর সঙ্গে ঝামেলা আরাত্রিকার? মুখ খুললেন ‘উজি’
নেটপাড়ায় হঠাৎ চর্চা যে, জোয়ার ভাঁটা-র সেটে নাকি বেশ গরম পরিস্থিতি। সিনিয়র অভিনেত্রী, অনস্ক্রিন ননদ চাঁদনী সাহা-র সঙ্গে ঝামেলা লেগেছে ‘উজি’ আরাত্রিকার। চর্চা বাড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এল আরাত্রিকার পোস্ট।
মাসখানেক আগেই অনবরত ঝামেলার কারণে রীতিমতো রোজই খবরে আসত চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিক। আর এবার হঠাৎই নেটপাড়ার চর্চা যে, জোয়ার ভাঁটা-র সেটেও নাকি বেশ গরম পরিস্থিতি। চাঁদনী সাহা-র সঙ্গে ঝামেলা লেগেছে ‘উজি’ আরাত্রিকার। চর্চা বাড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এল আরাত্রিকার পোস্ট।

শুরুটা হয়েছিল চাঁদনীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে। চাঁদনী কারও নাম না করেই শিল্পী শুটিং ফ্লোরে মোবাইল ফোন হাতে ঘুরে বেড়ানো ও অনুমতি ছাড়া বিটিএস ভিডিয়ো তোলার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর প্রজন্মের অনেকেই ফ্লোরে উপস্থিত সিনিয়র শিল্পীদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখান না। চাঁদনী আরও লেখেন, কেউ কেউ ক্যামেরা নিয়ে হঠাৎই শুটিং সেটে ঢুকে পড়েন, শিল্পীদের অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেলে ধারণ করেন এবং পরে সেই ভিডিয়ো বা ছবিতে শুধুমাত্র নায়ক-নায়িকার নাম উল্লেখ করেন। অথচ যাঁদের ফ্রেমে রাখা হচ্ছে, তাঁদের নাম দেওয়ার সৌজন্যও অনেক সময় দেখানো হয় না। শিল্পীর দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য জানার প্রয়োজন হলে সরাসরি জিজ্ঞেস করা উচিত, কিন্তু শুটিং ফ্লোরে এসে অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিয়ো তোলা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শুটিং চলাকালীন এভাবে ফোন নিয়ে সামনে এলে তিনি সহযোগিতা করবেন না এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আর এখানেই নেটপাড়ার আচমকা ধারণা তৈরি হয় চাঁদনীর ইঙ্গিত নাকি আরাত্রিকার দিকে। একাধিক মন্তব্যে ভরে যায় সেই পোস্টটি। এমনকী কিছু মিডিয়ায় এই মর্মে খবরও প্রকাশিত হয়। একটি পৃথক পোস্ট করেন চাঁদনী তারপর। লেখেন, ‘আমার এই পোস্টটা বাংলায় লেখা, আর যাঁদের বাংলা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে তাঁরা ফ্রি-তে ক্লাস করতে আসতে পারেন। উল্টোপাল্টা আবারও লেখা হচ্ছে যে, আমি নাকি আরাত্রিকাকে নিয়ে লিখেছি! কী মজার ব্যাপার! আমি লিখেছি হঠাৎ করে যারা একটা চ্যানেল খুলে নিজেদের মিডিয়া বলে দাবি করছে তাদের নিয়ে, এবং শুধু তাদের নয়, তাদের কিছু অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর আচরণ নিয়েও। এটাও বাংলাতেই লিখলাম সেই সব ‘মিডিয়া’র জন্য, যারা কোনও কারণ ছাড়াই একটু হাইপ পাওয়ার আশায় আরাত্রিকাকে মাঝখানে টেনে আনল। খুবই দুঃখজনক। যাঁরা এই ধরনের ভুলভাল পোস্ট করছেন, তাঁদের মানসিকতা যেন আরও পরিণত ও উন্নত হয়—এই আশাই রাখব।’
এই পোস্টে এরপর একটি মন্তব্য আসে আরাত্রিকার। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কোনও কথা নেই, বার্তা নেই—হঠাৎ করেই আমার নাম টেনে নিয়ে চলে এল! কী অদ্ভুত সব লোকজন! আর তোমার আগের পোস্টের সঙ্গে আমরা সবাই একমত। আমাদের অনুমতি ছাড়াই মাঝেমধ্যে BTS ভিডিও করা হয়, এমনকি সেগুলো পোস্টও করা হয়। লেখাটা পড়ে বুঝতে আমাদের তো কোনও সমস্যাই হয়নি। তাহলে এসব ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু টিআরপি বা প্রচার বাড়ানোর জন্যই করা হচ্ছে, আর কিছু নয়! এখন আবার বলা হচ্ছে, শ্রুতিও নাকি চাঁদনীর সঙ্গে একমত!’
তবে বিরক্ত আরাত্রিকা নিজের পেজেও একটি পোস্ট শেয়ার করেন। লেখেন, ‘চাঁদনী সাহা দি! মিডিয়া আউটলেটগুলো সব গ্রহণযোগ্য সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করে গিয়েছে। তুমি কি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাও?’ চাঁদনী ও আরাত্রিকার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি প্রমাণ যে অন্তত জোয়ার ভাঁটা-র সেটে সহ-অভিনেত্রীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা ঝামেলা চলছে না! সেরক কোনো সম্ভাবনাও নেই।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


