অতিরিক্ত মদ্যপানই কারণ! কেউ ৩৮, কেউ ৩৯, মদের নেশা প্রাণ কেড়েছে এই বলি তারকাদের
বিনোদন শিল্প সম্পদ ও খ্যাতি দেয়, কিন্তু যখন এই ঝলকানি ম্লান হয়ে যায়, তখন মানুষ তা সহ্য করতে পারে না। এমন অনেক অভিনেতা ও অভিনেত্রী আছেন যারা এতটাই মদ্যপান করতেন যে, এই বদভ্যাস তাঁদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিনোদ খান্নার স্ত্রী কবিতা খান্না তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে স্বামীর স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন। কবিতা জানিয়েছিলেন যে, বিনোদ দিনে ৪০ থেকে ৮০টা সিগারেট খেতেন। সঙ্গে রোজ মদ্যপান করতেন। তাঁর স্ত্রী বলেছেন যে, বিনোদ প্রথমে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মূত্রাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান। বিনোদন জগতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের জীবন মদ্যপানের কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

১. মীনা কুমারী:
যিনি 'ট্র্যাজেডি কুইন' নামেও পরিচিত, পেশাদার জীবনে সফল হলেও, ব্যক্তিগত জীবনে বড্ড একা ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার কারণে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। ৩৮ বছর বয়সে, লিভার সিরোসিসের কারণে তাকে জীবন হারাতে হয়েছিল।
২. গুরু দত্ত:
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতা, গুরু দত্ত তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি হতাশায় ভুুগতেন। অ্যালকোহল এবং ঘুমের ওষুধের মারাত্মক সংমিশ্রণের কারণে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর।
৩. রাজেশ খান্না:
রাজেশ খান্না প্রচুর সম্পদ এবং খ্যাতি পেয়েছেন। তিনি ছিলেন বলিউডের প্রথম সুপারস্টার। যখন তাঁর ক্যারিয়ার গ্রাউ নামতে থাকে, তখন তিনি এটি সামলাতে পারেননি। একাকীত্বের কারণে মদ্যপানে ডুবে যান। বলা হয় যে, তিনি তাঁর ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেননি এবং অ্যালকোহল তাঁর স্বাস্থ্যের যথেষ্ট ক্ষতি করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।
৪. সঞ্জীব কুমার:
সঞ্জীব কুমারের পরিবারে একটি জেনেটিক সস্যা ছিল, যার কারণে পরিবারের পুরুষরা তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেন। এই অবস্থাটি হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেখানে অ্যালকোহল পান করা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কথা জেনেও তিনি মদ্যপানের প্রতি আসক্তি ছাড়তে পারেননি। তিনি ৪৭ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।
৫. পারভিন বাবি:
তাঁর সময়ের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী, পারভিন ববি স্কিটফ্রেনিয়ার রোগী ছিলেন। তিনি মদ্যপানেও আসক্ত ছিলেন। পারভিন তার জীবনের শেষ অংশটি বিস্মৃতি এবং একাকীত্বের মধ্যে কাটিয়েছিলেন যেখানে অ্যালকোহল তাঁর অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে।
৬. সিল্ক স্মিতা:
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংবেদনশীল নায়িকা সিল্ক স্মিতার জীবন খুব দুঃখজনক ছিল। কেরিয়ারের অবনতি, ঋণ ও ব্যক্তিগত জীবনে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। ৩৫ বছর বয়সে, ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ। ধারণা করা হয় যে, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে অনেকেই এই মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করেন। কারণ কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


