Rajkummar Rao on Dada Biopic: ভুল স্বীকার রাজকুমারের! ‘সব AI দিয়ে হয় না’, দাদার পোস্টার বিতর্কে চাচাঁছোলা জবাব
ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক 'দাদা'র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন রাজকুমার। 'দাদা' ছবির পোস্টার ঘিরে ব্যাপর ট্রোলড হতে হয়েছে অভিনেতা, সেই নিয়ে এবার মুখ খুললেন নায়ক।
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘দাদা’ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই চর্চার পারদ চড়ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশ্যে আসা ছবিটির প্রথম পোস্টার নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক। পোস্টারে রূপোলি পর্দার ‘দাদা’ রাজকুমার রাওয়ের লুক দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অগণিত ভক্ত। নেটিজেনদের বড় অংশের দাবি ছিল, পোস্টারটি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি। অবশেষে সেই বিতর্কের মুখে মুখ খুললেন খোদ রাজকুমার রাও।

‘তাড়াহুড়ো করে পোস্টার বানানো ভুল ছিল’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার অকপটে স্বীকার করে নেন যে পোস্টার ঘিরে হওয়া সমস্ত সমালোচনা পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন, ‘যারা পোস্টারটি তৈরি করেছিলেন, তাঁরা এই ভুল থেকে শিক্ষা পেয়েছেন। বুঝেছেন কোনও কিছু তাড়াহুড়ো করে বানানো উচিত নয়। শান্ত মাথায়, সময় নিয়ে কাজ করা দরকার। তবে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি মহারাজকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের আবেগ ও ভক্তদের উৎসাহ কতটা উন্মাদনার পর্যায়ে রয়েছে।’
সিনেমায় AI-এর দাপট নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিনেতা:
বলিউডে এআই-এর ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজকুমার। তিনি যোগ করেন, ‘প্রযুক্তিকে থামানো যাবে না, কিন্তু এটাকে কেবল সাহায্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়। ঘরের ভেতর বসে এআই দিয়ে সবকিছু বানানো যায় না এবং মানুষের সত্যি আবেগের জায়গা কখনো প্রযুক্তি নিতে পারে না। পোস্টার দেখে মানুষ যে ধরে ফেলেছে ওটা ফেক বা আর্টিফিশিয়াল, এটাই বড় প্রমাণ।’
প্রিন্স অফ কলকাতার বাড়ি ও ইডেন গার্ডেন্সে শুটিং:
ছবিটির প্রস্তুতি ও কলকাতা শহরের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজকুমার। বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে পরিচালিত এই বায়োপিকের জন্য ইতিমধ্যেই মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেহালা এবং আলিপুরের বাড়ি ও ইডেন গার্ডেন্সে বেশ কিছুদিন শুটিং শেষ করেছে টিম। রাজকুমার জানান, “আমি দাদার সঙ্গে অনেকবার দেখা করেছি, তাঁর বাড়িতে থেকেছি, ইডেনে শুটিং করেছি। পর্দার পেছনের নানা অজানা সত্যি কথা ও জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়ে তিনি আমাদের কাছে মন খুলে কথা বলেছেন। উনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি আজকের ভারতীয় ক্রিকেট দলের শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।” ছবিটিতে কেবল সৌরভের সাফল্য নয়, বরং তাঁর কেরিয়ারের নানা বিতর্ক ও খারাপ সময় থেকে কীভাবে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন— তা-ও তুলে ধরা হবে। বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘দাদা’ ছবিটি ২০২৭ সালের মে মাসে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে 'দাদা'র টিম শুটিং করেছে তিনি আরও বলেন, 'আমি জানি না এআই এত দ্রুত এই ধরনের কাজ করতে পারে কিনা। কারণ এআই-এর কাজ আমরা দেখছি, এটি জানা যায় যে এটি এআই। এটি মজাদার নয়। আপনি জানেন যে এটি নকল। আপনি এআই দিয়ে সবকিছু তৈরি করতে পারবেন না। " রাজকুমার আরও প্রকাশ করেছিলেন যে দলটি গাঙ্গুলির বাড়িতে এবং কলকাতার ইডেন গার্ডেনে 'দাদা'র কিছু অংশ শুট করেছিল। রাজকুমার আরও বলেন, 'আমি তাঁর সাথে অনেকবার দেখা করেছি। আমরা তার বাড়িতেও শুটিং করেছি। আমরা ইডেন গার্ডেনস-এ শুটিংও করেছি। আমরা কিছুদিন কলকাতায় ছিলাম। আমি তার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি এবং তার সাথে অনেক কথা বলেছি। পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি আরও বলেছিলেন যে সেই কথোপকথন থেকে তিনি গাঙ্গুলির জীবন সম্পর্কে এমন কিছু জিনিস জানতে পেরেছিলেন যা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, 'পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি তাঁর জীবন সম্পর্কে আমাদের সাথে খোলাখুলি কথা বলেছেন। রাজকুমারও ভারতীয় ক্রিকেটে গাঙ্গুলির অবদানের প্রশংসা করেছেন। অভিনেতা বলেন, 'তিনি একজন কিংবদন্তি। তিনি ভারতীয় দল তৈরি করেছেন। তিনি দলের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা আজ এত বিখ্যাত। '
গাঙ্গুলির কঠিন সময়গুলি ছবিতে দেখা যাবে যদিও রাজকুমার 'দাদা' ছবিতে দেখানো বিশেষ গল্পগুলি সম্পর্কে কোনও তথ্য দেননি, তবে তিনি বলেছিলেন যে ছবিটি কেবল গাঙ্গুলির সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজকুমার বলেন, 'তিনি তার ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। সুতরাং তিনি কীভাবে সেই সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি সেগুলি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, তা ছবিতে দেখানো হবে। বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে পরিচালিত এই ছবিটি বর্তমানে 2027 সালের মে মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


