Debolina-Sayoni:‘রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে…’, সায়নীর ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় এবার বিস্ফোরক দেবলীনা

'তুমিও ভুল করেছো বোন!', সায়নীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ ছিল দেবলীনা নন্দীর। সমাজ মাধ্যম প্রভাবীর মৃত্যু নিয়ে এবার খোলা চিঠি লিখলেন গায়িকা। 

Published on: May 30, 2026, 10:31:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মাজমাধ্যম প্রভাবী তথা পশুপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনা যেন টলিপাড়া থেকে নেটপাড়া— সর্বত্র একটা বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছে। সায়নীর মৃত্যুর পর যখন একদিকে মেকি শোকপ্রকাশের ঢল, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে এক মারাত্মক সত্য আর নিজের জীবনের অন্ধকার অতীত নিয়ে হাজির হলেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী। মাস কয়েক আগে যিনি নিজে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, সেই দেবলীনা আজ সায়নীর চলে যাওয়া দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না। তীব্র ক্ষোভ, আফসোস আর ট্রোলিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক খোলা চিঠি লিখলেন তিনি। যদিও সরাসরি সায়নীর নাম নেননি তিনি।

‘রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে…’, সায়নীর ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় এবার বিস্ফোরক দেবলীনা
‘রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে…’, সায়নীর ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় এবার বিস্ফোরক দেবলীনা

বুকের ভেতর কতটা যন্ত্রণা থাকলে মানুষ এমন করে, আমি জানি

দেবলীনা তাঁর পোস্টে সায়নীর সঙ্গে কাটানো একটি ছোট্ট মুহূর্তের কথা মনে করে লিখেছেন, 'এমন একটা ঘটনা ঘটেছে যেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই কারণ, কি বলবো সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়েটার সাথে একদিনই দেখা হয়েছিল, তখন ওই ১০ মিনিটের কথাবার্তায় কেউ কারুর মনের অবস্থা বুঝতে পারিনি। মানুষ বুকের ভিতর কতটা যন্ত্রণা পেলে এরকম করে সেটা আমি জানি, কিন্তু তারা জানে না যারা কটাক্ষ করে।'

আজ সায়নী চলে যাওয়ার পর যাঁরা সোশ্যালে মায়াকান্না কাঁদছেন, তাঁদের একপ্রকার ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়ে দেবলীনা যোগ করেন, ‘আজ সে নেই আমাদের মধ্যে, সবাই দুঃখ করছে। কিন্তু কোনো ভাবে বেঁচে গেলে সারাজীবন কিছু মানুষ তাঁকে তিলে তিলে মেরে ফেলতো নানান বাজে কথা বলে। যেমনটা আমার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।’

মারতে চাইছে আমাকেও, রোজ রোজ!

নিজের আত্মহত্যার চেষ্টার সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা টেনে দেবলীনা স্বীকার করেছেন যে, ট্রোলিং এবং মানসিক অবসাদ একটা মানুষকে কতটা খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়। তিনি লেখেন, ‘আমি কিছুক্ষণের জন্য মা, বাবা, ভাই সবার কথা ভুলে গিয়ে একটা অকাজ করে ফেলেছিলাম। কিন্তু ওখানে উপস্থিত কিছু মানুষের জন্য আর আমাকে যারা নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে, তাদের জন্য এখনও আছি। কিন্তু কিছু মানুষের সেটা নিয়ে সমস্যা, রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে।’

দেবলীনার এই আক্ষেপ প্রমাণ করে দেয়, এ দেশে একজন মানসিক অবসাদগ্রস্ত মানুষ যদি কোনোভাবে বেঁচেও ফেরে, সমাজ তাকে সুস্থ হতে দেওয়ার বদলে খোঁচা মেরে মেরে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলতে চায়।

মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না, তুমিও ভুল করেছো বোন

পোস্টের শেষে এসে এক দিদির মতো সায়নীর উদ্দেশ্যে এক বুক কান্না উগরে দিয়েছেন দেবলীনা। যারা সবকিছুতেই খুত খোঁজে, সেই জাজমেন্টাল নীতিপুলিশদের একহাত নিয়ে তিনি লিখেছেন, সব কিছুর পরে একটাই কথা বলবো, শুধু একটা মানুষই আজ সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে, সেটা হলো তার মা। কিছু মানুষ প্রচন্ড জাজমেন্টাল, ভালো তাও খারাপ খোঁজে। কিন্তু আমিও ভুল করতে যাচ্ছিলাম আর তুমিও ভুল করেছো বোন। মা বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না সেটা আমি বুঝেছি। যেখানেই থাকো ভালো থাকো।

সায়নীর চলে যাওয়া এবং দেবলীনার এই করজোড় স্বীকারোক্তি যেন এই মুহূর্তে নেটপাড়ার প্রতিটি মানুষকে এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কোনো জাজমেন্ট বা ট্রোলিং যে একটা জলজ্যান্ত প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, দেবলীনা নন্দীর এই পোস্ট হয়তো সমাজকে সেই শিক্ষাটাই আরও একবার দিয়ে গেল।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More