‘আমাদের শহরে আছে কিছু শবদেহ যারা বাঁচতে চেয়েছিল!’ চোরবাগান-কাণ্ডে ‘নাগরিক বিরোধী’ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ ঋদ্ধির
‘ঐতিহাসিকভাবে বিজেপি সরকার ঘৃণার রাজনীতি করে, বিজেপি সরকার ভারতবর্ষ বিরোধী, বিজেপি ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়….’, চোরবাগান পুজো মণ্ডপে মৃত্যু মিছিল নিয়ে বিস্ফোরক ঋদ্ধি সেন।
উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ১৭ জন দর্শনার্থীর মর্মান্তিক প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় এবার রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সরাসরি তোপ দাগলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্দেশক ঋদ্ধি সেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ ও চাঁচাছোলা পোস্টে তিনি বর্তমান সরকার, পুলিশি ব্যবস্থা এবং বিজেপি পরিচালিত রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতার পাঠও দিয়েছেন।

ঋদ্ধি সেনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মূল বক্তব্য ও তীব্র কটাক্ষ:
‘পাড়ার চেনা গুন্ডাকেই সিকিউরিটি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে’:
ঋদ্ধি তাঁর পোস্টে একটি তীক্ষ্ণ রূপকের আশ্রয় নিয়ে লিখেছেন, পাড়ার সবচেয়ে পরিচিত বহিরাগত গুন্ডা যদি সুরক্ষার ছদ্মবেশে দরজায় বেল বাজায় এবং সব জেনেও যদি মানুষ স্বার্থপর রোমাঞ্চের লোভে তাকে ঘরের সদর দরজা খুলে দেয়— তবে ঘর ধ্বংস হওয়া অবশ্যম্ভাবী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— ‘ভয় আউট, সেনসেশন ইন’— এটাই এখন আমাদের একমাত্র সত্য। তাই বাড়ি ধ্বংস হলে অবাক হবেন না, কাঁদবেন না, হতাশ হবেন না।’
বিজেপি ও শুভেন্দু সরকারকে সরাসরি আক্রমণ:
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর রাজ্যের সরকার ও শাসকদল বিজেপির ভূমিকাকে কড়া ভাষায় বিদ্ধ করে ঋদ্ধি সেন জানান, বিজেপি সরকার ঐতিহাসিকভাবেই ঘৃণার রাজনীতি করে এবং নাগরিকবিরোধী। তাঁর অভিযোগ— ‘হ্যাঁ, ঐতিহাসিকভাবে বিজেপি সরকার ঘৃণার রাজনীতি করে, বিজেপি সরকার ভারতবর্ষ বিরোধী, বিজেপি ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়, বিজেপি শিক্ষা ও মুক্ত চিন্তাকে বুলডোজার দিয়ে পিষে দেয়... বিজেপি নাগরিক বিরোধী। হ্যাঁ, পৃথিবীর অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একইরকম, বিজেপিও একইরকম।’
‘ছাতা ধরার শিবির বদল’ ও আপোষহীন হওয়ার বার্তা:
সব দেখে-শুনেও যারা রাজনৈতিক স্বার্থে শাসকদলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের তীব্র কটাক্ষ করে ঋদ্ধি সেন লিখেছেন— ‘যারা এখনো সব দেখে, জেনে, বুঝেও বিজেপিকে বাঁচানোর জন্য ছাতা খুলে ধরবেন, তারা আগামী পরিবর্তনের পরেই সবার আগে ছাতা ধরার শিবির বদলাবেন।’
একই সাথে সাধারণ মানুষকে কোনো রাজনৈতিক আপোষ না করে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন—'যারা উন্মুক্ত আকাশের নীচে স্রেফ বাঁচার স্বপ্ন থাকার জন্য প্রাণ হারালেন, তাঁরা এবং এই শহরের প্রত্যক্ষদর্শীরা একে অপরের ছাতা হয়ে দাঁড়ান এই মুহূর্তে। আপোষহীন হয়ে বলতে শিখুন যে এই সরকার অপদার্থ, সুবিধেবাদী এবং মানুষের ধর্ম বিরোধী।'
‘অপরাধে ভালো-খারাপের বাইনারি বন্ধ হোক’:
শহরের বর্তমান বিষাদময় আবহাওয়া ফুটিয়ে তুলতে ঋদ্ধি বলেন, এখন সিপিআইএম, কংগ্রেস বা তৃণমূল বড় বিষয় নয়, চোরবাগান দুর্ঘটনার পর আমাদের শহরে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছু ‘শবদেহ’, যারা স্রেফ একটু বাঁচতে চেয়েছিল। এখনও যারা অপরাধের মধ্যে ‘ভালো আর খারাপের’ বাইনারি হিসাব কষছেন, তারা বেঁচে থেকেও মৃত।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


