SRK Heroine: 'শুনেছি ধর্ষণের হুমকি, দাউদের রক্ষিতা কটাক্ষ', ট্রোলিং নিয়ে সরব শাহরুখের নায়িকা!
শাহরুখ খানের প্রাক্তন সহ-অভিনেত্রী সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি জানিয়েছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট কথা বলার জন্য তাঁকে ধর্ষণের ও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বলিউডে তারকাদের যেমন কোটি কোটি অনুরাগীর ভালোবাসা পেতে হয়, ঠিক তেমনই অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিকের অর্থাৎ সাইবার ট্রোলিং ও হিংসার মুখোমুখিও হতে হয়। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের তেমনই এক হাড়হিম করা ও নক্কারজনক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি।

১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ছবি ‘কভি হাঁ কভি না’ (Kabhi Haan Kabhi Naa)-তে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘আনা’ চরিত্রের অভিনয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। বরাবরই নিজের স্পষ্ট মতামত ও সামাজিক অ্যাক্টিভিজমের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী জানান, সোশ্যালে মুখ খোলার জন্য তাঁকে কী পরিমাণ নোংরামির শিকার হতে হয়েছে।

‘ধর্ষণের হুমকি থেকে দাউদের রক্ষিতা বলা— বাদ যায়নি কিছুই!’
‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা জানান, অতীতে নিজের মতামত বেপর্দাভাবে রাখার জন্য এক্স (আগে টুইটার)-এ তাঁকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। এতটাই কুৎসিত আক্রমণ করা হয়েছিল যে তিনি এখন টুইটার ব্যবহার করাই ছেড়ে দিয়েছেন।
ট্রোলারদের আক্রমণ নিয়ে সুচিত্রা ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘বাপ রে! ওরা আমাকে কী কী নামে যে ডেকেছে! আমাকে ‘দাউদের মিস্ট্রেস’ (দাউদের রক্ষিতা) বলা হয়েছে। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি আমাকে সরাসরি ধর্ষণের হুমকি এবং খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে! আমি বরাবরই খুব খোলাখুলি নিজের মতামত রেখেছি, তাই এই ধরণের নোংরা ট্রোলিংয়ের মানসিক টেনশন এখন আমি আর নিতে চাই না।’
কেন বলা হয়েছিল ‘দাউদের রক্ষিতা’? আযান ও রামচন্দ্রকে নিয়ে টুইট বিতর্ক
সুচিত্রার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন হঠাৎ ট্রোলাররা ওঁর মতো একজন অভিনেত্রীকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সাথে জড়িয়ে এত বড় অপবাদ দিল? এর জবাবে সুচিত্রা জানান, ওঁর দুটি পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি একবার লাউডস্পিকারে ‘আযান’ দেওয়া নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন, যা নিয়ে একদল কট্টরপন্থী ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং তাঁকে দাউদের রক্ষিতা বলে কটূক্তি করে। আবার অন্য এক সময়ে ভগবান রামচন্দ্রকে নিয়ে একটি ব্লগ লিখেছিলেন তিনি, যার জেরেও নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে কুৎসিত গালিগালাজ করে এবং ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার ফতোয়া দেয়।

‘মাঝরাতেও মাথায় আইডিয়া এলে টুইট করে দিই, ওটা রক্তে আছে’
সুচিত্রা জানান, তিনি নিজেকে যতই শান্ত রাখার চেষ্টা করুন না কেন, ওঁর ভেতরের অ্যাক্টিভিস্ট সত্ত্বা কিছুতেই চুপ থাকতে পারে না। ওঁর কথায়, 'মাঝরাতেও যদি আমার মাথায় কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও চিন্তা আসে, আমি সঙ্গে সঙ্গে সেটা সোশ্য়াল মিডিয়ায় লিখে দিই।ট তবে ট্রোলারদের এই আচরণে এখন আর ভয় পান না সুচিত্রা। তিনি উল্টে বলেন, ট্রোলারদেরও নিজের আসল পরিচয় দিয়ে সাহস দেখানোর ক্ষমতা থাকা উচিত। এখন তিনি বেশিরভাগ সময় ট্রোলিং দেখলে চুপ থাকেন, তবে সহ্যের সীমা পার হয়ে গেলে কড়া জবাব দিতেও পিছপা হন না।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


