Dev: বলিউড ছবির শ্যুটিং সেটে ‘এঁটো বাসন’ ধুত ক্যাটারার বাবার ছেলে দীপক! সুপারস্টার হতে কম কষ্ট করেননি দেব
দীপক থেকে দেব হয়ে ওঠবার সফর সহজ ছিল না! টলিউডের তিনটি সবচেয়ে হিট ছবির নায়ক দেব, কিন্তু একটা সময় শ্যুটিং ইউনিটের এঁটো বাসন বাজতেন, ঘর মুছতেন তিনি।
টলি ইন্ডাস্ট্রির হার্টথ্রব নায়ক দেব। গত দেড় দশক ধরে বাংলায় ছবির আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র তিনি। অভিনয় থেকে রাজনীতি সর্বত্র অবাধ বিচরণ তাঁর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যসফল নায়ক দেব। অভিনেতার পাশাপাশি প্রযোজক হিসাবেও সফল দেব। ২০২৫ সাল জুড়ে বাংলার বক্স অফিসে রাজত্ব করেছেন দেব। গত বছরের শেষে মুক্তি পাওয়া খাদান নতুন বছরে ঝড় তুলে ২৬ কোটি ঘরে তুলেছে।

এই বছরও ধূমকেতু, রঘু ডাকাতের মতো সুপারহিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছে দেব। বছর শেষে প্রজাপতি ২ নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তাঁকে টলিউডের এক নম্বর নায়ক বলল খুব বেশি অত্যুক্তি করা হবে না। কিন্তু শুরুর দিনগুলো মোটেই মসৃণ ছিল না দেবের। অনেক স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন তিনি।
‘অগ্নিশপথ’ ছবির সঙ্গে টলিউড জার্নি শুরু হয়েছিল দেবের। যদিও সেই ছবি বক্স অফিসে সফল হয়নি। তবে দেবের দ্বিতীয় ছবি ‘আই লাভ ইউ’ (২০০৭) তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানেন না অভিনয়ে আসবার আগে ক্যাটারার বাবার সহকারী হিসাবে মুম্বইয়ের সিনে-ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন দেব। কলেজে পড়বার সময় বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন দেব। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতকে খুব কাছ থেকে দেখা দেবের মনে তখন শাহরুখ খান হওয়ার অদম্য ইচ্ছে।
অভিনয়ে সুযোগ পাওয়ার আগের লড়াইয়ের গল্প দেব একবার নিজের মুখে শেয়ার করেছিলেন অনুরাগ বসুর টক শো ‘কে হবে বিগেস্ট ফ্যান’ শো-তে। ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ পরিচালক বলেন, ‘আমি শুনেছি, সব টিফিন যখন বাড়ি থেকে চলে আসত, পুরো ঘরটা তুমি মুছতে…. সেখান থেকে তুমি আজ এখানে'। এরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দেব। নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে বলেন, ‘আমি অনেক বাসন ধুয়েছি। হয়তো তোমার থালাও ধুয়েছি। আমি অনুরাগদাকে অনেক আগে থেকে চিনি, দেখতাম শ্য়ুটিংয়ে। অনেকবার ছবি নিয়েও গেছি। এমনও হয়েছে অনুরাগদা খাবার খেয়েছে সেই প্লেট আমি ধুয়েছি। সেখান থেকে আজ তোমার সামনে বসে আছি, এটা আমার কাছে স্বপ্ন’।
দেবের কথায় ইমোশ্য়ানাল হয়ে পড়েন অনুরাগ বসুও। দেবকে বুকে টেনে নেন তিনি। পরমুহূর্তে দেবের সংযোজন, ‘প্রত্যেক ছেলে-মেয়ের দরকার বাবা-মা’র কাজকে সাপোর্ট করার। আমি আলাদা কিছু করিনি, যদি আমি হিরো না হতাম। ওই কাজটাই নর্ম্যাল হত আমার কাছে।' অনুরাগ বসু জানান, দেবের বাবা (গুরুপদ অধিকারী) কোনওদিন সরাসরি পরিচালকদের কাছে ছেলের জন্য সুপারিশ করে উঠতে পারেনি। দেব বলেন, ‘মা বলত বাবাকে তুমি তো ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে চেনো, ছেলের জন্য একটু বলতে তো পারো। বাবা বলত, আমি খুব ছোট্ট একটা টেকনিশিয়ান। তবুও বাবা এক দু’জনকে বলেছিল। আব্বাস-মস্তান, প্রকাশ ঝা-কে বলেছিল। আমি জানি বাবা নিজের জায়গা থেকে সরাসরি ওইভাবে বলতে পারেননি, আমিও চাইনি আমার জন্য বাবা কারুর কাছে ছোট হোক'।
সেইদিনের স্ট্রাগলার দীপক আর আজকের সুপারস্টার দেবের মধ্যে অনেক ফারাক, তবুও মাটির সঙ্গেই জুড়ে থাকতে ভালোবাসেন বাঙালির এই প্রিয় নায়ক। বাবা-মা'কে আগলে রাখেন সবসময়।
ডিসেম্বরেই জীবনের আরও একটা বসন্ত পার করে ফেলবেন। ৪৩ পেরিয়ে ৪৪-এর পথে পা বাড়াবেন। একইসঙ্গে ডিসেম্বরেই মুক্তি পেতে চলেছে দেবের আসন্ন ছবি প্রজাপতি ২। ফের একবার পরিচালক অভিজিৎ সেনের সঙ্গে দেবের যুগলবন্দি দেখতে মুখিয়ে রয়েছে দর্শক।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


