Rachana Banerjee: ‘দিদিকে দেখেই ভোট পেয়েছি এটা সত্যি…', মমতার সঙ্গে ‘গদ্দারি’, কী সাফাই রচনার?
Rachana Banerjee: তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ হিসেবে লোকসভা সচিবালয়ে সচিব উৎপলকুমার সিংহের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থানের চিঠি পেশ করলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতার দলে যে বেনজির ভাঙন ও ডামাডোল শুরু হয়েছে, তা এবার এক চূড়ান্ত রূপ নিল। তৃণমূলের অন্দরে চলা তীব্র আকচাআকচির মাঝেই দিল্লির সাংসদ সচিবালয়ে সশরীরে ‘হাজিরা’ দিলেন হুগলির তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। মঙ্গলবার লোকসভার২ সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে দেখা করে নিজের ‘অবস্থান’ স্পষ্ট করার পাশাপাশি বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠীকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দিলেন তিনি।

তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যখন নিজেদের দল ভেঙে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র ছাতার তলায় এসে নতুন ব্লক তৈরি করে কেন্দ্রের এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থনের পথে হাঁটছেন, সেই দলে রয়েছেন রচনাও। বাংলার রাজনীতিতে এতদিন দুই দিদি ছিল, রচনা ও মমতা দুই বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। মমতার হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন দিদি নম্বর ১ সঞ্চালিকা। তাঁর এ হেন পাল্টি দেখে হতবাক অনেকেই। দিদিকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ রচনা এদিন সংসদে দাঁড়িয়ে মেনে নিলেন মমতার জন্যই ভোট পেয়েছেন তিনি।
দিদির প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা, তবে ‘বগাওয়াত’ নয়
চিঠি জমা দিয়ে লোকসভা সচিবালয় থেকে বেরোনোর পরেই রচনার মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত আনুগত্যে যে কোনও আঁচ আসেনি, তা বারবার মনে করিয়ে দেন রচনা।
রচনার কথায়, ‘দিদির সঙ্গে বগাওয়াত (বিদ্রোহ) তো করতেই পারিনি। দিদির সঙ্গে আমার পুরনো সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ক আজীবন অটুট থাকবে। ওঁর প্রতি সম্মানও একইরকম থাকবে। সবাই বলেন দিদি মানেই তৃণমূল, তাঁকে দেখেই মানুষ ভোট দেন— এটা একদম সত্যি কথা। তৃণমূল কংগ্রেস মানেই জনতার মনে দিদির প্রতিচ্ছবি।’
‘সুন্দর মুখ দেখে নয়, মানুষ ভোট দিয়েছে কাজের জন্য’
অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিক হওয়া এই তারকা সাংসদ স্পষ্ট করে দেন যে, হুগলির মানুষ তাঁকে কেবল একজন ‘ফিল্মস্টার’ বা ‘সুন্দর মুখ’ হিসেবে পার্লামেন্টে পাঠাননি। জনতার ভোটের আসল মূল্য দিতেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দিদিকে দেখে ভোট পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু জনতা ভোট দিয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আমাকে ভোট দেওয়া হয়েছে যাতে আমি হুগলির সাতটি বিধানসভা এলাকার মানুষের জন্য, তাঁদের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি।’
. ১৫ বছরের অনুন্নয়নের খোঁচা ও দিল্লির সমীকরণ
তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসার পরেও রাজ্যের বিগত ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে এক নজিরবিহীন অনুন্নয়নের তোপ দেগেছেন রচনা। তাঁর মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতে কেবল সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিদ্রোহী ব্লকে সই ও চিঠি দেওয়ার প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করে রচনা বলেন. ‘কোনওরকম অভিমান নয়, কিন্তু আমার মনে হয়েছে যদি কেন্দ্রে যে সরকার আছে (বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ), তারা রাজ্যে ক্ষমতায় থাকে তাহলে উন্নয়ন সহজভাবে হবে। কারণ গত ১৫ বছরে রাজ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আমরা দেখতে পাইনি।’
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


