বালি ঢুকেছে ফুসফুসে, ১ ঘণ্টারও বেশি জলের তলায় ছিলেন রাহুল! এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট

রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাদতন্তের যে প্রাথমিক তথ্য এল সামনে, তা হাড়হিম করে দেওয়ার মতো! স্পষ্ট যে, এত সময় ধরে প্রযোজনা সংস্থার তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছিল, তাতে ভুল ছিল।

Updated on: Mar 30, 2026, 13:32:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এসে গেল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। আর তাতে যে তথ্য এল তা হাড়হিম করে দেওয়ার মতো! স্পষ্ট যে, এত সময় ধরে প্রযোজনা সংস্থার তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছিল, তাতে ভুল ছিল।

এল রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাদতন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।
এল রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাদতন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।

তমলুক হাসপাতাল সূত্রে খবর, ময়নাদতন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে বালি ঢুকেছিল রাহুলের ফুসফুসে। ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল ফুসফুসের আকার। ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলের তলায় ছিলেন অভিনেতা।

কী জানা যাচ্ছে ময়নাতদন্ত থেকে?

হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, ফুসফুসের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে বালি এবং নোনা জল। এমনকী, রাহুলের খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, পাকস্থলির ভিতরেও বালি ঢুকে গিয়েছে। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘ ক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুবে থাকলে এমনটা হয়, জানানো হয়েছে প্রাথমিক রিপোর্টে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

রবিবার সেটে উপস্থিত ব্যাক্তিদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন কথা সামনে এসেছে। কেউ বলেছেন, প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল, তো আবার কারও মত, শ্যুট চলছিল তখন। এদিকে তালসারির ব্যবসায়ী সংগঠনের কোষাধক্ষ জানান, ‘তারা শ্যুটং করতে গেছে, কিন্তু আমরা কেউ জানি না। আমাদের মেম্বাররাও কেউ জানে না। এই যে যারা বোট চালায়, ওরাও কেউ জানে না। তারা নিজেদের মতো গেছে। কোথায় জল, কোথায় কাদা, কোথায় চোরাবালি, ওরা কেউ জানে না।’

‘হিরোইনটা আগে ফেঁসে গিয়েছিল। হিরো এরপর বাঁচাতে গিয়ে ধরা মাত্র পড়ে যায়। উপরে ড্রোন চলছে। আমাদের লোক দূর থেকে দেখছে। তারপর দেখা যায় আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছে, হাত এরকম (মাথার উপর হাত তুলে ইঙ্গিত) করছে, চিৎকার করছে, সে বলে ডুবে যাচ্ছে মনে হয়! এরপর ড্রোন ক্যামেরায় ওরা দেখে, সত্যি ডুবে যাচ্ছে। তারপর চিৎকার শুরু হয়। ততক্ষণে হিরো ৩০ ফুট চলে গেছে। এরপর একটা বোটওয়ালা এসে আগে হিরোইনকে তুলেছে, তারপর হিরোর দিকে গেছে। হিরোইন অতটা জল খায়নি, হিরো অনেক জল খেয়ে ফেলেছিল। কিছুটা জল বের করার চেষ্টা করা হয়। তারপর তো শুনি মারা গিয়েছে। লোকাল লোক নিয়ে গেলে এরকমটা হল না। এই যে এত প্যাসেঞ্জার যাচ্ছে, লোকাল লোক বলে দাদা ওদিকে যাবে না, এদিক দিয়ে চল। কিন্তু এই শ্যুটিং পার্টি নিজেই গেছে, গিয়ে ফেঁসে গিয়েছে। পুলিশ এসে আমাদের জিজ্ঞাসা করছে, তোমরা জানো, আমরা বলেছি না কেউ জানি না!’, আরও বলে তিনি।

অনুমতি নেওয়া হয়নি প্রশাসনের

জানা গিয়েছে, শ্যুটিংয়ের জন্য কোনওরকম প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি স্থানীয় থানাকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। বর্তমানে তালসারি পুলিশ দিঘা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More