‘এতদিন একনায়কতন্ত্র চলত…’, মিঠুনের নজরদারিতে BJP-র বঙ্গে টলিপাড়ার ২৬টি গিল্ডের প্রথম নির্বাচন! বন্ধ শ্যুটিং
বিশ্বাস ব্রাদার্সের ‘একনায়কতন্ত্র’ ভেঙে খান-খান হয়েছে আগেই। মিঠুনের তদারকিতে চলছে নির্বাচন। দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র দাপট, ভয় ও বয়কটের মেঘ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে টলিপাড়ার কাজের পরিবেশে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিনোদন জগত।
দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়া, অন্যায় কাজের শর্ত, বয়কট বিতর্ক এবং পরিচালক-কলাকুশলীদের মধ্যে টানাপড়েনে উত্তপ্ত টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন সংগঠন ও গিল্ডগুলিতে একচ্ছত্র প্রভাব এবং অচলাবস্থা তৈরির অভিযোগ উঠছিল। সেই অস্থিরতার ইতি টেনে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় স্বচ্ছতা ও নতুন নেতৃত্ব ফেরাতে শুরু হলো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ৩১ অক্টোবর (শনিবার) থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় শুরু হয়েছে ২৬টি গিল্ডের দু'দিনব্যাপী নির্বাচন। নির্বাচনের কারণে টলিপাড়ায় দু'দিন বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত শুটিং। এই ভোটগ্রহণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্বয়ং রয়েছেন রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী।

স্টুডিওর বাইরে কড়া নিরাপত্তা ও স্বয়ং মিঠুনের নজরদারি:
গিল্ড নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি না ঘটে, সে জন্য সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শনিবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে চেয়ার নিয়ে বসে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি নজর রাখতে দেখা যায় মিঠুন চক্রবর্তীকে।
একনায়কতন্ত্র ও ঘুঘুর বাসা ভাঙার হুঁশিয়ারি: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘এতদিন টলিউডে একনায়কতন্ত্র চলছিল। ভয়ের পরিবেশে কেউ কাজ করতে চাইছিল না। তবে এবার নির্বাচনের মাধ্যমে এই নর্দমা সাফ হবে এবং ভোটের পর টলিপাড়ার কাজের পরিবেশ পুরো বদলে যাবে।’
পরিচালকদের ছবি তৈরিতে উৎসাহ ও সরকারি অনুদান:
ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক গতি ফেরাতে এবং প্রযোজক-পরিচালকদের নতুন কাজ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন মিঠুন। তিনি পরিচালকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, রাজ্যে সিনেমা বানানোর জন্য সরকার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই পিছিয়ে না থেকে পরিচালকদের আরও বেশি করে নতুন ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসা উচিত।
এসএমএস নয়, শ্রম কমিশনের নিয়মে ব্যালট ভোট:
নির্বাচনের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। রুদ্রনীল জানান, আগে স্রেফ এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে অস্বচ্ছ উপায়ে ভোট সারার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সম্পূর্ণভাবে লেবার কমিশনের (শ্রম কমিশন) কড়া নিয়ম মেনে সরাসরি ব্যালটে এই নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র দাপট, ভয় ও বয়কটের মেঘ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে টলিপাড়ার কাজের পরিবেশে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিনোদন জগত।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


