Leena New Mega: সংস্কৃতির মুখে ছাই? এবার মা-মেয়ের এক পুরুষকে নিয়ে টানাটানি! টিভির পর্দায় লীনার নতুন ‘নোংরামি’
টলিপাড়ার কাজ বন্ধ লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হিন্দি বলয়ের জন্য় নতুন মেগা আনছে ম্যাজিক মোমেন্টস। এবার ত্রিকোণ প্রেমের গল্প, তবে জানলে অবাক হবেন এবার ত্রিকোণ প্রেমের দুই কোণে রয়েছে মা ও মেয়ে!
বাংলা টেলিভিশনে সমাজকে ‘পরকীয়া’ আর ‘বহুবিবাহ’ গিলিয়ে টিআরপি তোলার খেলাটা তিনি বহু বছর ধরে সার্থকভাবে খেলেছেন। এক পুরুষকে নিয়ে দুই বোনের চুলোচুলি কিংবা ঘরে বউ রেখে বৌদি-দেওরের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরিতে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে এবার আর বাংলা নয়, হিন্দি টেলিভিশনের দর্শকদের মগজধোলাই করতে তৈরি বাংলায় নিষিদ্ধ এই চিত্রনাট্যকার।

রাহুল বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মৃত্য়ুর জেরে বাংলায় কাজ বন্ধ লীনা ও ম্যাজিক মোমেন্টস প্রোডাকশনের, তবে হিন্দি দর্শকদের জন্য নতুন মেগা নিয়ে আসছেন লীনা। স্টার প্লাসের সদ্য সমাপ্ত ধারাবাহিক ‘ঝনক’-এর পর এবার লীনা-শৈবাল নিয়ে আসছেন নতুন সিরিয়াল ‘সয়রাব’ (Sairaab)। আর এই মেগার যে মূল গল্প বা কাস্টিং সামনে এসেছে, তা দেখে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের মুখে ছাই দিয়ে এবার খোদ ‘মা এবং মেয়ের’ লড়াই বাঁধাতে চলেছেন লীনা, আর তাও আবার একই পুরুষকে পাওয়ার জন্য!
এবার নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প লীনার কলমে!
ইতিমধ্যেই স্টার প্লাসের তরফে ‘সয়রাব’-এর মুখ্য জুটির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। লীনার এই বিতর্কিত চিত্রনাট্যের হাত ধরে পর্দায় জুটি বাঁধছেন ‘পান্ডিয়া স্টোর’ খ্যাত রোহিত চন্দেল এবং ‘সিয়া কে রাম’-এর জনপ্রিয় ‘সীতা’ তথা মাদিরাক্ষী মুন্ডলে। যে মাদিরাক্ষীকে দর্শক এতদিন পর্দায় পরম শ্রদ্ধার চোখে রামের সীতা হিসেবে দেখে এসেছেন, তাঁকে এবার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছকভাঙা (থুড়ি ছকহীন) পরকীয়ার জটিল আবর্তে ফেলা হচ্ছে। রোহিত চন্দেল এখানে এক উঠতি ড্যাশিং ‘রকস্টার’। সেই রকস্টারের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে সিঙ্গল মাদার ডাঃ নয়নিকার মেয়ে উজ্জয়িনী।
মা বনাম মেয়ের শয্যাসঙ্গী হওয়ার লড়াই?
গল্পের যে টুইস্ট সামনে এসেছে, তা এককথায় সামাজিক অবক্ষয়ের চরম নিদর্শন। সিরিয়ালের প্রথম ঝলকে দেখা গিয়েছে, রকস্টার ঈশানকে চোখের সামনে দেখে পাগলপাড়া উজ্জয়িনী। মেয়ের ঠোঁটের হাসি দেখে তৃপ্ত মা। কিন্তু পরক্ষণেই ঈশান এসে হাত ধরবে মায়ের। জানাবে, সে এখানে এসেছে একমাত্র তাঁর জন্য। বয়সে বড়, ডিভোর্সি, এক মেয়ের মা-নয়নিকার চোখে মুখে অস্বস্তি। এতটুকুতেই স্পষ্ট এই কাহিনির ভবিষ্য়ত কী হতে চলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই প্লট নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন— বিনোদনের নামে আর কত নিচে নামবেন এই বাঙালি লেখিকা? এবার মা-মেয়ের এই লড়াই কি পারিবারিক সম্পর্কের পবিত্রতাকেই চিরতরে ধ্বংস করে দেবে না? কেউ কেউ তো আবার গল্পচুরির অভিযোগও তুলেছেন। এই সিরিয়ালের ভাবনা হলিউড সিনেমা দ্য় আইডিয়া অফ ইউ-এর কপি পেস্ট।
বাংলায় জায়গা নেই, তাই কি মায়ানগরীতে বিষ ছড়ানো?
বাংলায় ইদানীং ম্যাজিক মোমেন্টসের কাজ বন্ধ। বাংলায় আর ডাল গলছে না দেখেই কি তবে মুম্বইয়ের বাজার ধরতে মরিয়া লীনা-শৈবাল জুটি? রোহিত ও মাদিরাক্ষীর মতো জনপ্রিয় মুখদের ঢাল বানিয়ে হিন্দি ওটিটি ও স্যাটেলাইট চ্যানেলে এই ধরণের ‘বিষাক্ত’ ও ‘অসামাজিক’ সম্পর্ককে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। কাস্টিং যতই গ্ল্যামারাস হোক না কেন, মা-মেয়ের এক পুরুষকে নিয়ে এই নোংরা টানাটানি হিন্দি বলয়ের দর্শকেরা আদৌ মেনে নেবেন তো? পশ্চিমী সংস্কৃতি আর ভারতীয় সংস্কৃতি এক নয়, এই কথা লীনাকে মনে করাচ্ছেন দর্শকরা।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


